অক্টোবর মাসে FX মার্কেট কি সত্যিই ঝুকিপূর্ন!

অক্টোবর মাসে FX মার্কেট কি সত্যিই ঝুকিপূর্ন! অক্টোবর মাসে FX মার্কেট কি সত্যিই ঝুকিপূর্ন!

এটা গোপন কিছু না যে মূদ্রার মূল্যমান অনেকাংশেই ইক্যুয়িটির উপর নির্ভর করে। গতকালকে নিউইয়র্ক সেশনের শুরুর দিকে শেয়ার বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় EUR/USD এবং AUD/USD এর মতো বড় কারেন্সি পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সেশনের মাঝামাঝি সময়ে যখন শেয়ার বাজার বিপরীতমুখী হয়ে যায় তখন মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত হয়ে যায়। এই কারণে অক্টোবরকে সবচেয়ে পরিবর্তনশীল মাস বলা হয় শেয়ার বাজারের জন্য। ধারনা করা হয় যে এই মাসে শেয়ার মুল্যের পরিবর্তন ১% বেশী হয়ে থাকে অন্য মাসের তুলনায়। Dow এর জন্য এই মাসে পরিবর্তন প্রায় ২৭৫ পয়েন্টস। এর পাশাপাশি নভেম্বরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে যাওয়ায় এই বছর অক্টোবর মাসে শেয়ার বাজার ও কারেন্সি বাজারে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। পরবর্তী ৩০ দিনে অনেক অমীমাংসিত বিষয়ের মীমাংসা হবে। এর মধ্যে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় প্রনোদনা প্যাকেজ, ট্রাম্পের সুপ্রীম কোর্টের মনোনীত প্রার্থী এবং করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ বৃদ্ধি।

NFP

আমেরিকার অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু বর্তমানে স্বাস্থ্যখাত যেখানে আজকে NFP প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক পরেই আমরা আরো একটি NFP পেতে যাচ্ছি কিন্তু আজকের টি নির্ধারন করবে কিভাবে অক্টোবর মাসে শেয়ার বাজার আচরন করবে। কালকে সকালে চ্যালেঞ্জার রিপোর্ট করে যে সাপ্তাহিক বেকারত্বের দাবী হ্রাস অব্যাহত রয়েছে। এই সপ্তাহের শুরুতে ADP রিপোর্ট করে যে অনেক বেশী পরিমাণ মানুষকে চাকরি তে নেওয়া হচ্ছে এবং কনফারেন্স বোর্ড রিপোর্ট করে যে সেন্টিমেন্ট এ উন্নতি হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা ধারনা করছেন এই মাসের NFP ৮৫০ হাজার বৃদ্ধি পাবে যেখানে গত মাসে ১.৩৭ মিলিয়ন বৃদ্ধি পেয়েছিলো। বেকারত্বের হার হ্রাস পাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে তবে ঘন্টায় গড় আয় হ্রাস পেতে পারে।

ব্রেক্সিট

অক্টোবর মাসে অন্যান্য দেশ থেকেও অবাক করার মতো কিছু হতে পারে যা কিনা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তহীনতায় ফেলে দিতে পারে। আজকের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ব্রেক্সিট আলোচনা। গতকালকে ইউরপিয়ান সেশনের শুরুর দিকে স্টার্লিং এর মূল্য ব্যাপক হারে হ্রাস পায় যখন ইউরোপিয়ান কমিশন ঘোষণা দেয় যে তারা যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিবে কারণ যুক্তরাজ্য ব্রেক্সিট চুক্তি ভঙ্গ করেছে। নিউইয়র্ক সেশন শুরু হওয়ার সাথে সাথে খবর প্রকাশিত হয় যে দুই পক্ষ একটি ভালো অবস্থানে রয়েছে ব্রেক্সিট আলোচনা নিয়ে এবং একটি চুক্তি হতে পারে, এই খবর প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই স্টার্লিং এর মূল্য বৃদ্ধি পায়। তবে কয়েক ঘন্টা পরেই একজন ইইউ কর্মকর্তা বলেন যে ইউকে এর সাথে আমাদের কোনো চুক্তি হয় নি। তারপরে স্টার্লিং এর মূল্য আবার হ্রাস পায়। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে ব্রেক্সিট চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিভিন্ন গুজবে পাউন্ডের মূল্য যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে বুঝাই যাচ্ছে যে বিনিয়োগকারীরা কি পরিমাণ চাচ্ছে যে ব্রেক্সিট চুক্তি হয়ে যাক।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ান ডলার এবং নিউজিল্যান্ডের ডলার শেয়ার বাজারের ঊর্ধ্বমুখীতা কে অনুসরণ করেছে এবং টানা চার দিনের মতো মূল্যবৃদ্ধি করেছে। ইউরো এর ও মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে তবে অন্য দুইটির তুলনায় অনেক কম। অস্ট্রেলিয়ান ম্যানুফেকচারিং PMI ইনডেক্স সেপ্টেম্বর মাসে হ্রাস পেয়েছে তবে রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে যে অক্টোবর মাসে এটি বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে বিনিয়োকারীরা এখনো অস্ট্রেলিয়ান ডলারের উপর ভরসা রেখেছে।

Forexmart

leave a reply