অভিবাসীদের ফিরিয়ে না আনলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি সংযুক্ত আরব আমিরাতের

অভিবাসীদের ফিরিয়ে না আনলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিবাসীদের ফিরিয়ে না আনলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি সংযুক্ত আরব আমিরাতের

MarketDeal24.Com – সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশসহ প্রবাসী-প্রেরণকারী দেশগুলিকে সতর্ক করেছে করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যে নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করা হলে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশটির প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার 90 শতাংশ প্রবাসী, এর বেশিরভাগ ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ফিলিপাইন, মিশর এবং ইরান থেকে এসেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের সংখ্যা প্রায় ৭ লক্ষ।

মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাস থেকে এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের মানবসম্পদ ও আমিরাতীকরণ মন্ত্রনালয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসরকারী খাতে কর্মরত নাগরিকদের গ্রহণ করতে অস্বীকারকারী দেশগুলির সাথে তাদের সহযোগিতা ও শ্রম সম্পর্কের পুনর্বিবেচনা করছে।

দুতাবাসের এক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের বেসরকারী খাতে বেশিরভাগ অভিবাসীকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

Forexmart

এই বিকল্প পদ্ধতি গুলোর মধ্যে রয়েছে ওইসব দেশগুলি থেকে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে এবং তাদের নিয়োগ কার্যক্রমে “কোটা” ব্যবস্থা সক্রিয় করা হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত কোভিড -১৯ মহামারী শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত মূলত গৃহস্থলিয় কাজ কর্মের জন্য বাংলাদেশিদের নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছিলো, তবে বাংলাদেশীদের জন্য সব সেক্টরের শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

২০১২ সালের শেষের দিকে আমিরাতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশীদের জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় তবে এর কারণ সরকারীভাবে কখনই স্পষ্ট করা হয়নি, তবে কিছু কর্মকর্তা বলেছেন যে এটি মূলত কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার কারণেই হয়েছিল।

দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে “অনেক দেশ” তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিচ্ছে না যারা দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক। এর মধ্যে অনেক প্রবাসী আগে আগে ছুটি নিয়ে নিয়েছে এবং অনেকের চাকরি চলে গেছে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য।

সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেছে যে অন্যান্য দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্প্রতি চালু করা মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসাবে দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে উক্ত সরকারেরা দায়বদ্ধ।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই সতর্কবার্তা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে এ জাতীয় কোনো সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করা হয়নি।

তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলি নিয়মিতভাবে কিছু অভিবাসীকে তাদের কাজের অনুমোদন না থাকার জন্য আটক করে এবং পরে তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, “এখন সমস্ত ফ্লাইট বন্ধ থাকায় এই জাতীয় প্রবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা চাই তারা দেশে ফিরুক, কিন্তু তাদের প্রকৃত সংখ্যা আমরা জানি না।”

৯ই এপ্রিল একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে কিছু অভিবাসী – তাদের মধ্যে যারা কারাবাস থেকে ক্ষমা পেয়েছে, দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছে বা অন্যান্য কারণে মহামারীটির মধ্যে দেশে ফিরে আসতে ইচ্ছুক রয়েছে -নেতাদের মহামারী শেষ হলে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

মালদ্বীপ, কুয়েত, কাতার, বাহরাইনসহ – কিছু দেশ, শ্রমিক-প্রেরণকারী দেশগুলিকে তাদের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের জন্য অনুরোধ করার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠকটি আহ্বান করা হয়েছিল। কুয়েত হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যেসব দেশ অভিবাসীদের ফিরিয়ে নেয় না তাদের জন্য ভবিষ্যতে শ্রম নিয়োগ নীতি পুনর্বিবেচনা করবে।

বাংলাদেশের ১৪ শতাংশ গরীব মানুষের ঘরে কোনো খাবার নেই: ব্র্যাক এর জরিপ

leave a reply