ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধায় হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত

0
70 views
ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধায় হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত
ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধায় হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে গত ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতার ওপর হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের আবেদনে আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে ৮ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালতে অর্থ বিভাগের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

এদিকে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে একই বেঞ্চে লিখিত আবেদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর শুনানির জন্য এক সপ্তাহ সময় চান বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুনীরুজ্জামান।

চেম্বার বিচারপতির আদালতের আদেশের পর রিট আবেদনকারী মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ২ শতাংশ হারে ডাউনপেমেন্ট দেওয়ার সুযোগ দিলে আর কেউ ঋণখেলাপি থাকবে না। ফলে দেশে কোনো ঋণখেলাপি পাওয়া যাবে না। মূলত এ বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ অকার্যকর করতেই বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৬ মে ঋণখেলাপিদের ২ শতাংশ সুদ জমা দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃ তফসিলের বিশেষ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। হাইকোর্ট গত ২১ মে ওই প্রজ্ঞাপনের ওপর দুই মাস স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছিলেন।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন

পরে গত ২৪ জুন এর মেয়াদ আরো দুই মাস বাড়ানো হয়। এ অবস্থায় হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে অর্থ বিভাগ চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করে। এইচআরপিবির করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে ঋণখেলাপির তালিকা দাখিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে রুল জারি করেন। রুলে আর্থিক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বন্ধে কমিশন গঠনের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং এই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদসচিব, প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দুই সচিব, আইনসচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এই আদেশের পরও ঋণখেলাপির তালিকা দাখিল না করায় গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ১৫ দিনের মধ্যে তালিকা দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ অবস্থায় গত ১৬ মে একই আদালত এক আদেশে ২৪ জুনের মধ্যে ঋণখেলাপিদের তালিকা দাখিল করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের পর নির্ধারিত দিনে ঋণখেলাপিদের একটি তালিকা প্যাকেটে সিলগালা করে হাইকোর্টে দাখিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে হাইকোর্টকে জানানো হয়, দেশে ১০ হাজার ৪৭৬টি হিসাবের বিপরীতে নেওয়া খেলাপি ঋণের পরিমাণ দুই লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৮০ হাজার কোটি টাকা মামলা করে আটকে রাখা হয়েছে। আর অবলোপন ঋণের পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা ফেরত পাওয়া নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এই টাকা ফেরত পাওয়া যেতেও পারে, নাও পারে।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.