ওপেকের ৬০ বছর পূর্তি; আমেরিকার শত্রু থেকে বন্ধুতে রুপান্তর

ওপেকের ৬০ বছর পূর্তি আমেরিকার শত্রু থেকে বন্ধুতে রুপান্তর ওপেকের ৬০ বছর পূর্তি আমেরিকার শত্রু থেকে বন্ধুতে রুপান্তর

১৯৭৩ সালে ওপেক এর আরব রাষ্ট্রগুলো আমেরিকার অর্থনীতিকে মাটিতে নামিয়ে নিয়ে এসেছিলো। কিন্তু তার ঠিক ৬০ বছর পরে এখন ওপেক অনেকটাই ওয়াশিংটনের বন্ধুতে পরিণত হয়ে গিয়েছে।

ইয়োম কিপ্পুর যুদ্ধে ইসরায়েলকে সহযোগীতা করার ফলে সৌদি আরব ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্র গুলো আমেরিকার বিপক্ষে তেল যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলো। যার ফলে বিশ্ব রাজনীতি উলট পালট হয়ে গিয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তেলের ব্যবসায় ধস নেমেছিলো।

বর্তমানে ওপেকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন দুইটি সদস্য রাষ্ট্র ইরান ও ভেনেজুয়েলার উপরে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে, অন্যদিকে তেল সমৃদ্ধ সৌদি আরব আমেরিকার সাহায্যের ছায়াতলে নিজেকে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়েছে।

১৯৬০ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর মার্কিন ও ব্রিটিশ ৭ টি কোম্পানিকে টক্কর দিতে বাগদাদে ওপেক প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তেল উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য ওয়াশিংটন ওপেককে চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে।

Forexmart

ট্রাম্প প্রতিনিয়তই তেলের মূল্য হ্রাস করার জন্য ওপেককে চাপ প্রয়োগ করতো যেন মার্কিন জনগন কম দামে তেল কিনতে পারে।

এবং যখন তেলের দাম একেবারে কমে গেলো যে মার্কিন কোম্পানিগুলো লাভের দেখা পাচ্ছিলো না, ঠিক সেই মুহূর্তেই ওপেক একটি চুক্তি করে তেলের উৎপাদন কমিয়ে তেলের মূল্য বৃদ্ধি করলো। আর এর পিছনে ছিলো সৌদিকে দেওয়া ট্রাম্পের হুমকি। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলো যে তেলের মূল্য বৃদ্ধি না করলে রিয়াদ থেকে তাদের মিলিটারি ফিরিয়ে নিবে ওয়াশিংটন।

প্রায় এক যুগ ধরে আলজেরিয়ার তেল মন্ত্রীর দ্বায়িত্বে থাকা এবং ২০০১ ও ২০০৮ সালে ওপেকের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া চাকিব খেলিল বলেন, ” তেলের দাম বৃদ্ধিতে যা করা লাগতো ট্রাম্প তারই আদেশ করেছে সৌদিকে, এবং সৌদি সেই মোতাবেক ট্রাম্পকে খুশি করেছে। ওপেক এখন আর আগের মতো নেই।”

এই বিষয়ে সৌদির জ্বালানী মন্ত্রণালয় ও হোয়াইট হাউজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

leave a reply