করোনা ভাইরাসের আক্রমণের পর চীনের অর্থনীতি আবার স্বাভাবিক হওয়ার পথে

করোনা ভাইরাসের আক্রমণের পর চীনের অর্থনীতি আবার স্বাভাবিক হওয়ার পথে

MarketDeal24.Com – চীনের অর্থনীতি আবারো পুনরুজ্জীবিত হতে শুরু করেছে। চীনের সরকার করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেছেন। এই ভাইরাস এখন পর্যন্ত  ৩,১০০ এরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে এবং কয়েক লক্ষ মানুষকে অসুস্থ করেছে।

সরকারী নিয়ন্ত্রণ এবং বাইরে যাওয়ার ভয়ে ভোক্তাদের ব্যয় অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে ।এবং আটকে থাকা লজিস্টিক সিস্টেম, কর্মীর অভাব বা সীমিত সরবরাহ এবং কাঁচামালের কারণে অনেক কারখানা এখনও পুরো সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতিটি সম্ভবত গত সপ্তাহে 70% থেকে 80% ধারণক্ষমতায় চলছিল। অন্যদিকে  China International Capital Corp অনুমান করেছে যে ৮ ই মার্চ পর্যন্ত এটি প্রায় 76% ছিল।

সোমবার ২১শে জানুয়ারীর পর থেকে বিদ্যুৎ তৈরির জন্য কয়লার চাহিদা সবচেয়ে বেশি ছিল। তবে এটি গত বছর বা 2018 সালের তুলনায় প্রায় 20% এর নিচে রয়েছে। চীনের বিশাল পূর্ব-উপকূল উৎপাদন কেন্দ্রস্থল নিয়ে অকল্পনীয় প্রতিবেদনের পাশাপাশি, শক্তি সংখ্যাগুলি দেখায় যে দেশের বেশিরভাগ ইন্ডাস্ট্রি  সম্পূর্ণ ক্ষমতার চেয়ে কমকিংবা এখনও একদম ধীর গতিতে চলছে।

Forexmart

বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি উৎপাদন বৃদ্ধির নিখুঁত সূচক নাও হতে পারে। কিন্তু সরকার কিছু শহরে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য ব্যবসায়িদের লক্ষ্যমাত্রা বেধে দিয়েছে। এর কারণে কিছু কিছু কারখানায় লোকবল এবং উৎপাদন না থাকার পরেও বিভিন্ন মেশিনারী চালিয়ে রাখতে হচ্ছে।

তবে Centre for Research on Energy and Clean Air এর তথ্য অনুসারে, চন্দ্র নববর্ষের পরে সবকিছু আবার ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে ।  শিল্প প্রতিষ্ঠানদের ক্রিয়াকলাপ থেকে দূষণের নির্গমন এবং বিদ্যুতের উৎপাদনের হিসাব থেকে এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে তারা।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে চীনে প্রায় দেড় শতাধিক আমেরিকান সংস্থার সমীক্ষার পর, প্রায় ১৮% বলেছেন তারা আগামী মাসের শেষের দিকে সবকিছু আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। আর ২৮% আশা করছে যে মার্চের শেষের দিকে এটি ঘটবে।

শোধনাগারগুলিতে মন্দা এবং চাহিদা হ্রাসের ফলে অপরিশোধিত তেলের বৃহত মজুত রয়েছে।

তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানি বাড়ার  লক্ষণগুলি দেখিয়েছিল এবং ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে তা বেশ কিছুদূর বেড়েছিল। তবে স্টোরেজ পূর্ণ এবং চাহিদা দুর্বল হওয়ার সাথে সাথে বাজারটি  গত সপ্তাহে আবার বন্ধ হয়ে যায়।

কর্নাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে শিল্প গ্যাসের ব্যবহার তীব্র ভাবে হ্রাস পেয়ে। মার্চ ও এপ্রিল মাসে এলএনজির আমদানি দুর্বল থাকবে, Shanghai Petroleum & Natural Gas Exchange তাদের অফিসিয়াল ওয়েচ্যাট অ্যাকাউন্টে সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে।

গত বছরের সাথে তুলনা করলে এ বছর চন্দ্র নববর্ষ পর্যন্ত বিমান, ট্রেন, অটোমোবাইল এবং নৌকাগুলির প্রায় একই পরিমাণ যাত্রী ছিল।  তবে ২৫ শে জানুয়ারিতে বছরের প্রথম দিন থেকেই এর পতন ঘটতে থাকে। এবং একসময় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

মানব সম্পদ ও সামাজিক সুরক্ষা মন্ত্রনালয়ের এক কর্মকর্তা ৭ ই মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রায় 78 মিলিয়ন অভিবাসী কর্মীরা কাজে ফিরেছেন, যা চাঁদ নববর্ষের জন্য দেশে যারা গিয়েছিল তাদের প্রায় 60%। এবং খুব শীঘ্রই প্রায় সকল শ্রমিক আবার কাজে ফিরবে। 

চীনের বৃহত্তম বেসরকারী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, যারা আইফোন এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিন ডিভাইস তৈরি করে, গত সপ্তাহে তারা বলেছিল যে, এই প্রাদুর্ভাবের ফলে যে কঠোর শ্রম ঘাটতি দেখা দিয়েছিল তার সমাধানের পরে এই মাসের শেষের দিকে আশাকরা যায় তারা আবার স্বাভাবিক ভাবেই কাজ শুরু করতে পারবে।

১০ মার্চ, মঙ্গলবার বাজারের যে ৩টি বিষয় নজরে রাখা উচিত

leave a reply