করোনা ভাইরাস ও বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ

করোনা ভাইরাস ও বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ করোনা ভাইরাস ও বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ

MarketDeal.Com – বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস যখন মহামারীতে রূপ নিয়েছে তখন বাংলাদেশ এখনো করোনা ভাইরাসের ধরাছোয়ার বাহিরে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও করোনা ভাইরাস এখন এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আসলেই কি বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের ধরাছোয়ার বাহিরে ? প্রত্যক্ষ কোনো প্রভাব না পড়লেও পরোক্ষ ভাবে কি কোনো প্রভাব পড়ছে না বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ?

বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হলো পোশাক খাত আর সে পোশাক খাতের অর্ধেকেরও বেশি কাঁচামাল আমদানি করা হয়ে থাকে চীন থেকে। করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিচিত চীন তাদের সকল ধরণের রপ্তানি বন্ধ রেখেছে বর্তমানে।

বিজিএমইএ এর তথ্যানুসারে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুধুমাত্র চীন থেকে $৫.২ বিলিয়ন মূল্যের কাঁচামাল আমদানি করা হয়েছে। এছাড়া ৪০% এর বেশি পরিমান যন্ত্রাংশ ও পোশাক খাতের মেশিনগুলো চীন থেকে আমদানি করা হয় যা কিনা করোনা ভাইরাসের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত।

Forexmart

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন

আর বাংলাদেশের রপ্তানিখাতের ৮৪.২১% আয় আসে পোশাক খাত থেকে। সাবেক বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন যে,”যদি চীনে এই করোনা ভাইরাসের প্রভাব দীর্ঘায়িত হতে থাকে তাহলে বাংলাদেশের পোশাক খাত ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই”।

তিনি আরো বলেন, ” যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে ক্রেতারা এশিয়ার দেশগুলোতে আসছে না করোনা ভাইরাসের ভয়ে, এমন কি বাংলাদেশে আসতেও ভয় পাচ্ছে তারা। এদিকে আমরাও হংকং এবং চীনে যাচ্ছি না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পোশাক খাত অতি শীঘ্রই ধসে পড়বে”।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ডঃ জাহিদ হোসেন বলেন, “আমার পোশাক খাত এমনিতেই অনেক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, এর পরে যদি করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য চীন থেকে কাঁচামাল আসা এভাবে বন্ধ থাকে তাহলে আমাদের পোশাক খাতের পতন নিশ্চিত”।

এদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের ভ্রমণ খাত ও বিমান খাতে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে যেহেতু ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে করোনা ভাইরাসের প্রভাব

এর পাশাপাশি বাংলাদেশের শেয়ার বাজারেও করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়তে শুরু করবে অচিরেই যদি পোশাক, ভ্রমণ ও বিমান খাত ক্ষতিগ্রস্থ হয়। করোনা ভাইরাসের প্রভাব দীর্ঘায়িত হলে ACFL, ALLTEX ,DELTASPINN, REGENTTEX, SQUARETEXT, BDSERVICE, PENINSULA, SEAPEARL ,UNITEDAIR এর মত বড় বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারগুলোতে ব্যাপক পরিবর্তনন আসবে।

তবে এতো কিছুর পরেও একটি ভালো খবর হলো, যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চীন ও ভিয়েতনামের পরে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এখন চীন ও ভিয়েতনাম যেহেতু করোনা ভাইরাসের কারণে জরুরি অবস্থার মধ্যে রয়েছে এবং তাদের রপ্তানি বন্ধ রয়েছে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের ভালো পণ্যের আশ্বাস দিতে পারে তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য তা যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।

কিছুদিন আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন এম্বাসেডর বলেছেন যে, “আমরাও ভাবছি যে কোন কিছুতে এক দেশের উপর থেকে নির্ভরশীলতা কমাতে হবে, যেহেতু পোশাকের জন্য আমরা অনেক ক্ষেত্রে চীনের উপর নির্ভরশীল এখন চীনের এই পরিস্থিতিতে আমাদের বিকল্প উপায় খুঁজতে হবে এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেরা পছন্দ। তারা যদি আমাদের ভালো পণ্যের ভরসা দেয় এবং এবং তাদের রপ্তানি বৃদ্ধি করতে পারে তাহলে আমরা তাদের সাথে ব্যবসা বৃদ্ধি করতে উৎসাহী”।

তবে বাংলাদেশে যদি কোনোভাবে করোনা ভাইরাস প্রবেশ করে তাহলে বাংলাদেশের জন্য তা মোকাবেলা করা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখনো করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত না। এছাড়া এই জনবহুল দেশের মানুষজন স্বাস্থ্য সচেতন না, যার ফলে ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

তবে বাংলাদেশের স্বাস্থমন্ত্রী বলেছেন, “করোনা ভাইরাস নিয়ে আমাদের চিন্তা করার কিছু নেই, ৩২-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় করোনা ভাইরাস ধ্বংস হয়ে যায় এবং কিছু দিনের মধ্যে আমাদের দেশের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি এর আশেপাশে থাকবে”।

করোনা ভাইরাস নিয়ে কতটা বাড়িয়ে বলা হচ্ছে ? সাধারণ ফ্লু কি সত্যিকার অর্থেই করোনার চেয়ে কম ক্ষতিকর ?

leave a reply