করোনা ভাইরাস কি বাংলাদেশে নীরব ঘাতক হয়ে দেখা দেবে ?

করোনা ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা ১১০০০ ছাড়িয়েছে করোনা ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা ১১০০০ ছাড়িয়েছে

MarketDeal24.Com – বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস এ আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের চাইতে তুলনামূলক কম। কিন্তু যে কোনও সময় এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এমনটাই ধারণা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

যখন এই ভাইরাস সংক্রমণ প্রাদুর্ভাব বা মহামারী হিসেবে দেখা দেবে তখন আক্রান্তের সঠিক সংখ্যাটা কেউই বলতে পারবে না। কারণ সেভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে বাংলাদেশে কোনও পরীক্ষানিরীক্ষাই হয় নি।

Covid-19 ভাইরাসের প্রথম তিনজন আক্রান্তের ব্যাপারে জানা যায় মার্চের আট তারিখ। অপরদিকে সর্বশেষ আক্রান্ত তিনজনের ব্যাপারে জানা গেছে এর এক সপ্তাহের মধ্যেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন করোনা ভাইরাস সারা দেশজুড়ে মহামারী হিসেবে ছড়িয়ে পড়াটা এখন যে কোনও মুহূর্তে সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণপূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা প্রফেসর মুজাহেরুল হক বলেন, করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সামান্যতম প্রস্তুতিটুকুও নেই।

Forexmart

করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে এলাকা বা পাড়ায়, আবার ছড়াতে পারে বিভিন্ন সামাজিক যাতায়াতে। আক্রান্ত আটজনকে ঠিকমত নজরদারিতে রাখেনি সরকার। এ ব্যাপারে সরকার ঠিকমত অবহিতও নয়। আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজে থেকে এসে তাদের সমস্যার ব্যাপারে জানায়।

বাংলাদেশ যৎসামান্য কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে কিন্তু করোনা সংক্রমণ বিন্দু বিন্দু জলকণা থেকে যে কোনও সময় অতল সাগরে রূপ নিতে পারে। দুই সপ্তাহ না যাওয়ার আগ পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না। কিন্তু আমাদের একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। আর তা হলো পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এক আলোচনায় এসবই জানান মুজাহেরুল হক।

তিনি আরও বলেন আক্রান্ত তিনজন এরই মধ্যে সারা দেশে অনেকের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছে। এখন যদি আক্রান্তের সংখ্যা অনেক অনেকগুণে বেড়ে যায় তাহলে মোটেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

“এই সরকারের Covid-19 ট্র্যাকিং এর ব্যবস্থা খুবই দুর্বল।” সবশেষে যোগ করেন প্রফেসর মুজাহেরুল।

এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবগুলো লক্ষণ প্রকাশ করবে এমনটা নাও হতে পারে। তাদের মধ্যে নাও দেখা যেতে পারে সব লক্ষণ। এর ফলে কে আক্রান্ত আর কে আক্রান্ত নয় তা বোঝা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।

যদিও বলা হচ্ছে এই ভাইরাস শুধু তাদের মাধ্যমেই ছড়াচ্ছে যাদের মধ্যে লক্ষণসমূহ দেখা যাচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে যা কিছু স্থগিত হলো:

  • সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১৭ই মার্চ থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসমূহ ৩১শে পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
  • পাবলিক সার্ভিসের নিয়োগ পরীক্ষাগুলো ১৮ থেকে ৩১শে মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
  • জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক যে কোনও স্পোর্টস ম্যাচ ৩১শে মার্চ থেকে ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
  • সারা দেশের সিনেমা হলগুলো মার্চের ১৭ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় মুজিব শতবর্ষ উদযাপন বাতিল।
  • টুঙ্গিপাড়ায় শিশুদের র‍্যালি এবং শোভাযাত্রা বাতিল ঘোষিত।

IEDCR জানায় দুটো বিষয়ের ক্ষেত্রে তারা করোনা ভাইরাস নিয়ে কোনও পরীক্ষা করবে না। প্রথমত, কেউ যদি বিগত দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশে আসে। দ্বিতীয়ত, বিদেশ ফেরত কারো সংস্পর্শে আসা কোনও ব্যক্তি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লালমাটিয়ার অধিবাসী জানান IEDCR হটলাইনে কল করলে তাকে দুটো প্রশ্ন করা হয়। তিনি করোনা ভাইরাস টেস্ট দেয়ার জন্য সেখানে যোগাযোগ করেন।

“তারা আমাকে দুশ্চিন্তা করতে মানা করে কারণ এসব নাকি মৌসুমী ফ্লু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া তারা আমাকে নিকটস্থ ডাক্তারের কাছে সাথে যোগাযোগ করতে বলে। যদি আমি তাদের দুটো শর্তের মধ্যে থাকতাম তাহলে ওরা নাকি বাসায় এসে স্যাম্পল নিয়ে যেত।” তিনি জানান।

IEDCR নাকি তাকে বলে দেশে আক্রান্ত সকলের তালিকা তাদের কাছে আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ ব্যক্তি আরও জানান, “তাদের থেকে জানানো হয় আমাকে পরীক্ষা করা হবে না কারণ আমি তাদের তালিকায় নেই।”

যাদের ভিতর করোনার সামান্য কিছু লক্ষণও দেখা যাচ্ছে তাদেরও ভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষা করে দেখা উচিত।

Covid-19

সমগ্র বিশ্বের পরিসংখ্যান বলছে Covid-19 শুরুতে খুব কম মানুষকেও আক্রমণ করলেও ধীরে ধীরে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। আর এমনটি ঘটে সাধারণত দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

ইতালিতে যেমন প্রথম দুই আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যাপারে জানা যায় জানুয়ারির ৩১ তারিখে। এক সপ্তাহের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে তিনজন। কিন্তু চতুর্থ সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৫০ এ।

ঠিক একই ঘটনা ঘটে স্পেনেও। প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তিদের ব্যাপারে জানার চার সপ্তাহ পর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬৩৯ এ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর নজরুল ইসলাম জানান বাংলাদেশে এই ভাইরাসটি দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

কারণ যাদের হোম কোয়ারান্টিনে থাকার কথা তারা সব নির্দেশনা ঠিকমত মানছেন না এবং পালন করছেন না। এতে যারা ভাইরাস বহন করছেন তাদের থেকে অন্যরাও আক্রান্ত হবে, এটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, “এখন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দুই থেকে চারে যাচ্ছে। কিন্তু দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর এই সংখ্যা ৩২ থেকে বেড়ে ১০০ তে গিয়ে দাঁড়াবে।”

অপরদিকে বিদেশী কূটনীতিকরা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের করোনা সংক্রমণ রোধে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে তা জানতে চান।

হোম কোয়ারান্টিন না মানলেই অপরদিকে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ। বাইরে থেকে যারা আসবে তাদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিন কোয়ারান্টিনে থাকতে হবে। নয়তো নেয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।

এছাড়া জেলা উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয় স্বাস্থ্য অফিসারদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কোয়ারান্টিন নীতি ভঙ্গ করলে communicable diseases law 2018 এর অধীনে আইনি পদক্ষেপ নেবে সরকার।

News Trading | সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরে কিভাবে ট্রেড করবেন ?

leave a reply