কারেন্সি মার্কেটে প্যানিক সেলিং বৃদ্ধি; কি প্রতিক্রিয়া দেখাবে ECB!

MarketDeal24.Com – বুধবারে কারেন্সি ও ইক্যুয়িটি এর মূল্য হ্রাস পেয়েছে যেহেতু Dow Jones Industrial Average প্রায় ৯০০ পয়েন্টস পতনের সম্মুখীন হয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে আমরা বলেছিলাম যে প্যানিক সেলিং শুরু হলে মার্কেটে কয়েক দিনব্যাপী পতন হতে পারে।

মার্কিন প্রণোদনা প্যাকেজের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, সিনেট বিচারপতি ব্যারেটকে নির্বাচিত করেছে। প্রণোদনা এর সম্ভাবনা অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিলো কিন্তু বিনিয়োগকারীরা কিছুটা আশায় ছিলেন, যার ফলে শেয়ার বাজার গত এক সপ্তাহে অনেক উপরে উঠেছিলো।

তবে বর্তমানে বাস্তবতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, যার ফলে এখন বুদ্ধিমানের কাজ হবে তাদের অবস্থান ছেড়ে দেওয়া। আমেরিকানরা একটি বড় প্রণোদনা পাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই তবে সেটা নির্বাচনের পরে, এদিকে সামনের সপ্তাহে আমেরিকার নির্বাচন ও ইউরোপ জুড়ে করোনার ভয়াল গ্রাসের মধ্যে মার্কেটে ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও USD/JPY এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আছে, তবে দিনশেষে মার্কিন ডলার নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত এবং অন্য সকল মুদ্রার বিপরীতে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় ট্রেড করেছে।

মার্কিন ডলার

আজকে মার্কিন ডলার অনেকটা নির্ভর করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপি এর উপরে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেলেও তৃতীয় প্রান্তিকে কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে প্রশ্ন হলো কি পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং বিনিয়োগকারীরা এটাকে কিভাবে নিবে। অন্যান্য দেশ করোনা ভাইরাসকে যেভাবে গুরুত্বের সাথে প্রতিহত করতে চাচ্ছে, সেই হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার রেকর্ড পরিমাণ করোনা আক্রান্তের পরেও গুরুত্ব দিচ্ছে না। কিছু রাজ্য যদিও নিজের মতো করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তবে যদি আজকে প্রত্যাশা অনুযায়ী জিডিপি বৃদ্ধি না পায় তাহলে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাবে ইউরো, অস্ট্রেলিয়ান ডলারসহ অন্যান্য প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে।

Forexmart

তবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশী চাপের মধ্যে রয়েছে ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আজকের আলোচনায় তারা তাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা অপরিবর্তিত রাখার ব্যাপারে আশাবাদী থাকলে সবাইকে অবাক করে দিয়ে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করার সম্ভাবনা ও রয়েছে। ইউরোপের করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে গিয়েছে। প্রথম দিকে দেশগুলোর সরকাররা পুরোদমে লকডাউন দিতে নারাজ থাকলেও এখন বুঝতে পারছে যে এছাড়া আর কোনো উপায় নেই তাদের কাছে।

আবারো লকডাউন

আজকে জার্মানি আংশিক লকডাউনের ঘোষণা করেছে এক মাসের জন্য, যেখানে নভেম্বর মাসে রেস্টুরেট ও বারগুলো বন্ধ থাকবে। ফ্রান্সে ডিসেম্বরের ১ তারিখ পর্যন্ত পুরো দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ফ্রান্সে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া সবাইকে ঘরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অতি প্রয়োজনীয় নয় এমন দোকানগুলো দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। দুই সপ্তাহ পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে তারা দোকান খুলবে কিনা। জার্মানিতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খুচরা পণ্যের দোকানগুলো খোলা রাখা যাবে।

অর্থনীতিবিদরা আশা করেছে যে ECB তাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা কিছুটা পরিবর্তন করবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট লাগার্দে ডিসেম্বর মাসে সুদের হার কর্তন করতে পারে। তবে নেতিবাচক প্রাইসের চাপ ও বৃহৎ মন্দার আশঙ্কার মধ্যে ECB আরো আগে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারে। যদি এমনটা হয় তাহলে EUR/USD এর মূল্য বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে এমন ও হতে পারে ECB ইউরো এর পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারে। এমনটা হলে ইউরো এর মূল্য 1.16 এর কাছাকাছি নেমে যেতে পারে।

ব্যাংক অব কানাডা তাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা অপরিবর্তিত রাখার ফলে USD/CAD এর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রাস্ফীতি রিপোর্ট ভালো আসলেও ঝুকিপূর্ণ কারেন্সি হওয়ায় AUD এবং NZD এর মূল্য হ্রাস পেয়েছে।

leave a reply