কি হতে পারে এই সপ্তাহের ফরেক্স মার্কেটে?

কি হতে পারে এই সপ্তাহের ফরেক্স মার্কেটে?

এই সপ্তাহে মুদ্রা বাজার অনেক ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করতে যাচ্ছে যেহেতু তিনটি অর্থনৈতিক নীতিমালার ঘোষণা আসতে যাচ্ছে, শ্রম বাজারের তথ্য প্রকাশিত হবে, নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপি প্রকাশিত হবে, মুদ্রাস্ফিতি রিপোর্ট ও খুচরা বিক্রির তথ্য প্রকাশিত হবে। USD/JPY পেয়ারটির টানা আট দিনের ঊর্ধ্বমুখী অবস্থার অবসান ঘটেছে এবং গতকালকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে দিন শেষ করেছে।

এদিকে ফেডারেল রিজার্ভের ধোয়াশা পূর্ন অবস্থানের কারণে মার্কিন ডলার অন্যান্য প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। গত মাসের জ্যাকসন হোল সামিটে ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোমে পাওয়েল মুদ্রাস্ফিতি নিয়ে একটি নতুন কৌশলের ব্যাপারে ঘোষণা দেন যা সম্পর্কে আগামী ফেড মিটিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এছাড়া ফেড তাদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ব্যাপারে ঘোষণা দিবেন এই সপ্তাহে। মার্কিন ডলারের দুর্বল অবস্থানের কারণে অন্যান্য মুদ্রাগুলো ও পরবর্তিত হচ্ছে, তবে আগস্টের ঘোষণার পরে চুপ করে থাকা ফেডারেল রিজার্ভ হয়তো চমকপ্রদ কিছু ঘোষণা করতে পার এইবার যা কিনা অন্যান্য দেশের তথ্যের এবং মুদ্রার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, ইসিবি এর প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দে এর বক্তব্য এবং জুলাই মাসের ইতিবাচক তথ্য প্রকাশের পরে ইউরো এর এই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থার মধ্যে আগস্ট মাসের জার্মান ZEW জরিপের দুর্বল তথ্য প্রকাশিত হতে পারে। শেয়ার বাজারের পতন ও ইউরোজোনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধীরগতির কারণে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা হতাশ হয়ে যেতে পারে।

Forexmart

যদি ZEW জরিপে প্রত্যাশার চেয়ে বেশী হ্রাস পায় তাহলে EUR/USD পেয়ারটির পতন শুরু হবে। এছাড়া চীন শুকরের মাংস আমদানি করার ব্যাপারে জার্মানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর ফলে EUR/USD এর মূল্য হ্রাস পেলেই বায়াররা মার্কেটে প্রবেশ করবে।

ব্রেক্সিট

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য সরকার ব্রেক্সিট নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করার ব্যাপারে সংসদে আইন পাস করেছে। এছাড়া এই সপ্তাহে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক নীতিমালা ঘোষণা করা হবে যেখানে ফেডারেল রিজার্ভের মতো তেমন কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। ব্রেক্সিট নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা ও ভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে এই ব্যাংক অব ইংল্যান্ড তাদের সমৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফিতি ঠিক রাখতে পারে কিনা সেটা দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ঘোষণার আগেই যুক্তরাজ্যের বেকারত্বের তথ্য ও মুদ্রাস্ফীতি তথ্য প্রকাশিত হবে।

গতকালকে মার্কিন শেয়ার গুলোর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার পরেও জাপানিজ ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্ক অন্যন্য মুদ্রার বিপরীতে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় ছিলো। জাপানের শিল্প উৎপাদন তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে ভাল এসেছে তবে জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবে তা নিয়ে একটু সংশয় রয়েগেছে।

এদিকে, সপ্তাহের প্রথম দিনে সবচেয়ে ভাল অবস্থায় লেনদেন করেছে NZD, তবে AUD এবং CAD এর মূল্য কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। NZD এর ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হলো সেই দেশের সরকার অকল্যান্ড ছাড়া বাকি সব শহরে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে দিয়েছে এবং Air New Zealand এর জন্য নিরাপদ সামাজিক দূরত্বের আইন শিথিল করে দিয়েছে। যাত্রীদের মাস্ক অবশ্যই ব্যাবহার করতে হবে প্লেনে কিন্তু বিমান কতৃপক্ষ এখন থেকে মাঝের সিট ভাড়া দিতে পারবে। এই সপ্তাহে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপি এর খবর প্রকাশ করা হবে।

leave a reply