কেমন যাবে এই সপ্তাহ?

মার্কিন-চীন বাণিজ্য বিষয়ক আলোচনার পূর্বে ডলার স্থিতিশীল মার্কিন-চীন বাণিজ্য বিষয়ক আলোচনার পূর্বে ডলার স্থিতিশীল

MarketDeal24.Com – বিশ্বব্যাপি বিদ্যমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং চলমান ভূ-রাজনৈতিক রেষারেষি ও সংঘাতের অধ্যায়ের মধ্যে যেন সংযোজিত হতে যাচ্ছে আর একটি সপ্তাহ। নানা কারণে ঘটনাবহুল থাকা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের মঞ্চে যেন মঞ্চায়িত হতে যাচ্ছে সেই পুরোনো নাটকগুলো। কিন্তু, এই সপ্তাহের নাটকগুলো হবে একটি ভিন্ন আঙ্গিকে।

গত সপ্তাহ ছিল তার ঘটনাবহুলতার মাত্রায় এক অনন্য। বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দুই দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে আলোচনার পুনরায় চালু হওয়া এবং তাকে ঘিরে প্রায় পুরো সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পরে আসছে সপ্তাহে আশা করা যায় বাজার ব্যস্ত থাকবে মার্কিন পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত বিভিন্ন বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারা অর্জিত মুনাফার বিবরণ পড়তে। সপ্তাহের মাঝামাঝি নাটকীয়তার মাত্রায় বৃদ্ধি আসবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীনের অর্থনীতির স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে। তাছাড়া, সপ্তাহের সামগ্রিকতার বিচারে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা সম্পর্কিত বৈঠক এবং তার ফলাফল প্রকাশ তো থাকছেই।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিংপিং একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। রবিবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ পোল্যান্ড অনুষ্ঠান করবে দেশটির সংসদের সাধারণ নির্বাচন। যে নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ল এন্ড জাস্টিস পার্টি সংখাগরিষ্ঠতা পাবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। এদিকে, সংস্থাভুক্ত আরেক দেশ হাঙ্গেরি অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।

মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারা অর্জিত মুনাফা

আসছে সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার ওয়ালস্ট্রিটভুক্ত কিছু বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চলমান বছর ২০১৯ এর তৃতীয় ত্রৈমাসিক সময়কালে তাদের দ্বারা অর্জিত মুনাফার বিবরণ প্রকাশ করতে যাচ্ছে। মুনাফা অর্জনের বিবরণ প্রকাশের এইবার কার পর্বটি শুরু হবে দেশটির আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিবরণ প্রকাশের মাধ্যমে। তালিকার মধ্যে রয়েছে JP Morgan, Citigroup, Wells Fargo, Bank of America, Goldman Sachs, এবং Morgan Stanley।

Forexmart

তাছাড়া, আরো থাকছে Johnson & Johnson, Netflix, IBM, Coca Cola, এবং United Airlines।

ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিতর্ক

আগামী বছর ২০২০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর প্রার্থিতা অনেকটা নিশ্চিত হওয়ায় জনগণের দৃষ্টি একজন দেশটির বিরোধীদল ডেমোক্রেটিক পার্টির দিকে।

আসছে মঙ্গলবার চতুর্থবারের মতো দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিতর্ক হতে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুইজন। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেফ বাইডেন। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা শুরুর দিকে এলিজাবেথ ওয়ারেন অনেক জনসমর্থন পেলেও পরে তার সমর্থনে ভাটা পড়ে কিছুটা। তাই এবারকার বিতর্কে হারানো জনপ্রিয় উদ্ধার করার লক্ষ্য রয়েছে তার। অন্যদিকে, ভরবেগ ফিরে পেতে চান জোসেফ বাইডেন ও।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে আমরা আগামী বছর মার্কিন পুঁজিবাজারের কর্মতৎপরতার পূর্বাভাসে নিম্নমুখিতা দেখবো। তাছাড়া, এলিজাবেথ ওয়ারেন এর প্রার্থিতা USD/JPY কারেন্সী পেয়ারের জন্যেও কোনো সুখবর বয়ে আনবে না।

জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা

‘কালোস্বর্ণ’ নামে খ্যাত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার থেকে যেন দূর হচ্ছে না অস্থিরতা। আসছে সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের অবস্থা হবে বিপাকে পড়ার মতো। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক রেষারেষির মধ্যে তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মূলত এই অস্থিরতার উদ্ভব।

ইরান এবং সৌদি আরবের মধ্যে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এগিয়ে আসায় সৃষ্টি হয়েছে নতুন সম্ভাবনার। যদি দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েই যায় তাহলে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে পাবে জ্বালানি তেলের বাজার। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদের পরিমান বৃদ্ধি পেলেও তা বিশ্ববাজারকে স্থিতিশীল করতে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।

স্বর্ণের উপরে আর একদফা বাজি?

রাজনৈতিক নাটকের মঞ্চস্থকরণ, বাণিজ্য যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা, এবং বিশ্বজুড়ে সামরিক আগ্রাসন বৃদ্ধির আশঙ্কা বিনিয়োগের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের বাজারকে আন্দোলিত করতে থাকবে।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন একটি আংশিক বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় আসায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বিক্রয়ের পরিমানে বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হতে পারে। তবে, সেই বিক্রয় পর্ব হবে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বা খুব একটা বেশি না। মোদ্দাকথা হলো $1,465 এর পর্যায়টি স্বর্ণের জন্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট হয়ে থাকবে।

USD/MXN

আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজার বিশ্বের প্রধান মুদ্রাগুলোর দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হলেও এই সপ্তাহে বাজারের দৃষ্টি থাকছে USD/MXN কারেন্সী পেয়ারের দিকে। মার্কিন চীন বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ক আলোচনা কিভাবে এবং কোন পথে এগোচ্ছে তার উপরে নির্ভর করবে এই পেয়ারের উঠানামা।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কিত আলোচনার শুরুতে উভয়পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকলেও একটি আংশিক বাণিজ্য চুক্তি করার বিষয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে ইচ্ছা প্রকাশ করায় অবস্থার উন্নতি হয়েছে কিছুটা। ফিরেছে আশাবাদ। তবে, যদি কোনো আংশিক চুক্তি হয় তাহলে তা হলে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের মধ্যে হয়ে যাওয়া আংশিক বাণিজ্য চুক্তির মতো।

এবার আসা যাক মেক্সিকোর বিষয়ে। দেশটির অর্থনীতিতে বিদ্যমান মুদ্রাস্ফীতির হার লক্ষমাত্রার চেয়ে কম তাই কেন্দ্রীয়ব্যাঙ্কের কাছে সুযোগ রয়েছে সুদের হারের মধ্যে কমতি আনার। দেশটির বিদ্যমান সুদের হার বর্তমানে ৭.৭৫% থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নিকট থাকছে নানা ধরণের কৌশল গ্রহণের সুযোগ। এদিকে, অভন্তরীন এবং বাহ্যিক বিনিয়োগের পরিমান কমে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতি পড়েছে কিছুটা সঙ্কটে। তাছাড়া, রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমান বৃদ্ধি পেলেও এই খাতের অর্জন সামগ্রিক অর্থনীতিকে সম্প্রসারণের পথে ফিরিয়ে আনার জন্যে যথেষ্ট নয়।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা শুরু হওয়ায় মক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আগত অবৈধ অভিবাসীদের ব্যপারে বিতর্ক এখন আবার সবার আগ্রহের কেন্দ্রে। যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে কিছুটা অনুমান করা যায় যে মেক্সিকোর মুদ্রার জন্যে আগামী দিনগুলো খুব একটা সুখকর হয়তো হবে না।

leave a reply