নির্বাচন পূর্ববর্তী অস্থিরতার কারণে মার্কিন ডলারের মূল্যমান হ্রাস

নির্বাচন পূর্ববর্তী অস্থিরতার কারণে মার্কিন ডলারের মূল্যমান হ্রাস নির্বাচন পূর্ববর্তী অস্থিরতার কারণে মার্কিন ডলারের মূল্যমান হ্রাস

MarketDeal24.Com – মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি তবে এখনই বিনিয়োগকারীরা নির্বাচনের অস্থিরতা অনুভব করতে শুরু করেছে। গত দুইদিন ধরে মার্কিন শেয়ার বাজার নিম্নমুখী অবস্থায় শেষ হয়েছে এবং সাথে কারেন্সি মার্কেটকেও নিম্নমুখী করে রেখেছে।

সাম্প্রতিক ইতিহাসের মধ্যে এটি সবচেয়ে নাটকীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে জো বাইডেন বেশিরভাগ পোলে এগিয়ে রয়েছেন। তবে বিনিয়গকারীরা পোলের উপর ভরসা করতে পারছেন না যেহেতু ২০১৬ সালে পোলের বিপরীত ফলাফল এসেছিলো।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইক্যুয়িটি এবং কারেন্সি এর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে যেহেতু সবাই আশা করছিলো যে নির্বাচনের আগে অথবা পরপরই প্রণোদনা প্যাকেজের অনুমোদন আসতে যাচ্ছে। যদিও এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে এরকম কোনো সম্ভাবনাই নেই। হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বারবারই বলে যাচ্ছে যে ট্রাম্পের প্রণোদনা প্যাকেজ যথোপযুক্ত নয়। গতকালকের শেয়ার বাজারের পতনের অন্যতম কারণ ছিলো ট্রেজারি সেক্রেটারি স্টিভেন মনুচীন এর বক্তব্য। তিনি পেলোসি এর সাথে কনফারেন্স কল করার পরে জানান যে নির্বাচনের আগে প্রণোদনা প্যাকেজের অনুমোদন দেওয়া অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে প্রণোদনার ক্ষেত্রে যত বিলম্ব করা হবে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ততো বিলম্ব হবে। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই তা বুঝা যাবে এম্পায়ার স্টেট ডাটা এবং ফিলেডেলফিয়া ফেড ম্যানুফেকচারিং সার্ভে প্রকাশিত হলে। এছাড়া শুক্রবারে খুচরা বিক্রয় রিপোর্ট প্রকাশিত হবে।

Forexmart

বুধবারে কানাডিয়ান ডলার ব্যাতিত সব প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। ভালো ডাটা প্রকাশ ও তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার পরেও USD/CAD পেয়ারটি 1.31 এর উপরে সাপোর্ট খুজে পেয়েছে। কঞ্জিউমার কনফিডেন্স হ্রাস পেলেও অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউজিল্যান্ড

এদিকে রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউজিল্যান্ডের সহকারি গভর্নর হকেস্কি বলেছেন যে কিছু অর্থনৈতিক ডাটা আশ্চর্য ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে নিউজিল্যান্ডের ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আজকে অস্ট্রেলিয়ার শ্রম বাজারের রিপোর্ট প্রকাশিত হবে যেখানে নিউজিল্যান্ডের PMI নাম্বারস কালকে প্রকাশিত হবে।

অস্ট্রেলিয়ায় ২৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে যেখানে নিউজিল্যান্ডে ২ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন ৫০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে যেখানে ফ্রান্সে একদিনে ১০ হাজার, ইতালিতে একদিনে ৭ হাজার জনের বেশী মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে করোনা ভাইরাসে।

ইউরোপের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি খুবই অবনতির দিকে যাচ্ছে। ইতালিতে একদিনে সর্বোচ্চ পরিমাণ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে যেখানে জার্মানিতেও রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফ্রান্স জাতীয় পর্যায়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে যেখানে প্রধান শহরগুলোতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। আমরা আগেও বলেছি যে ইউরোজোনের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে দ্বিতীয় দফায় করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ফলে। আগামী মাসে আমরা সকল প্রমাণ পেয়ে যাবো যখন অক্টোবরের রিপোর্ট প্রকাশিত হবে।

অক্টবরের ১৫ তারিখে ব্রেক্সিটের ডেডলাইন শেষ হওয়ার মধ্যেও স্টার্লিং এর মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গতকালকের সবচেয়ে লাভজনক মুদ্রা হয়েছে স্টার্লিং। করোনা ভাইরাসের এই মহামারীর মধ্যে GBP সবসময় উপরের দিকে ছিলো। বিনিয়োগকারীরা এখনো আশাবাদী রয়েছে পাউন্ড নিয়ে যেহেতু রিপোর্ট অনুসারে যুক্তরাজ্য ব্রেক্সিট আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়। ব্রেক্সিট আলোচনা একটি সংকটময় অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে এবং আমরা সর্বোচ্চ আশা করতে পারি যে ডেডলাইন পিছিয়ে নেওয়া হবে।

leave a reply