ADVERTISING

পৃথিবীর ৫টি বিধ্বংসী অর্থনৈতিক মন্দা

পৃথিবীর ৫টি বিধ্বংসী অর্থনৈতিক মন্দা পৃথিবীর ৫টি বিধ্বংসী অর্থনৈতিক মন্দা

১. ১৭৭২ সালের অর্থ সংকট

এই সঙ্কটটি প্রথমে লন্ডনে দেখা দিলেও অনেক দ্রুত পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। ১৭৬০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য তাদের ঔপনিবেশিক শক্তির মাধ্যমে অনেক সম্পদ অর্জন করে। তখন তাদের মধ্যে অধিক আত্মবিশ্বাস এর জন্ম নেয় এবং অনেকগুলো ব্রিটিশ ব্যাংক বিপুল পরিমানে ক্রেডিট বৃদ্ধি করে। ১৭৭২ সালের জুনের ৮ তারিখে যখন আলেকজেন্ডার ফর্ডিসে- যে কিনা ব্রিটিশ ব্যাংকিং হাউজ নিল, জ্যাম্স,ফর্ডিসে এবং ডাউনের অংশীদার ছিলেন- ফ্রান্সে পালিয়ে যান যাতে তার ঋণ পরিশোধ করতে না হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং ইংল্যান্ডের ব্যাংকিং খাতে আতংক সৃষ্টি করে যেহেতু ঋণদাতারা ব্রিটিশ ব্যাংকগুলোর সামনে লম্বা লাইন তৈরী করে তাৎক্ষণিক অর্থ তুলে নেওয়ার জন্য। এই সংকট ধীরে ধীরে স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ব্রিটিশ আমেরিকান কলোনিতেও ছড়িয়ে পড়ে। ঐতিহাসিকরা দাবি করেন এই অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই পরে বোস্টনে টি পার্টি আন্দোলন এবং আমেরিকান বিদ্রোহ হয়।

২. ১৯২৯-৩৯ সালের বৃহৎ মন্দাবস্থা

এটি ছিল বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় এবং ভয়াবহ অর্থনৈতিক ঝড়। অনেকে মনে করেন এই বৃহৎ মন্দার শুরু হয় ১৯২৯ সালের ওয়াল স্ট্রিট ধসের কারণে এবং পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের খুবই বাজে অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কারণে এই সংকট তৈরী হয়। এই মন্দাবস্থা ১০ বছর স্থায়ী ছিল এবং মানুষের আয়ে ব্যাপক পরিমান ক্ষতি করে, রেকর্ড পরিমান মানুষ বেকার হয় এবং শিল্প ক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন কমে যায়। ১৯৩৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ২৫% এ উঠে যায় এই মন্দার কারণে।

৩. ১৯৭৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিশোধ

এই সংকট সৃষ্টি হয় যখন OPEC (অর্গানাইজেশন অফ দা পেট্রোলিয়াম এক্সপোরটিং কান্ট্রিস) – সাধারণত মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলো তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দেয় আমেরিকা ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে। এর কারণ হলো চতুর্থ আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সৈন্য পাঠিয়ে ইসরায়েলকে সাহায্য করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আরব দেশগুলো তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। যার ফলে আমেরিকা ও ইউরোপে তেলের সংকট দেখা দেয় এবং তেলের মূল্য ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। কিছুদিনের মধ্যে আমেরিকা ও উন্নত দেশগুলোতে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়।অন্যদিকে তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়াতে দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে যায় । এই সংকট কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর লেগেছিল।

৪. ১৯৯৭ সালের এশিয়ার মন্দা

এই সংকট ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ডে শুরু হলেও খুবই দ্রুততার সাথে পুরো পূর্ব এশিয়া এবং তাদের বাণিজ্য বন্ধুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বছর প্রচুর পরিমানে বেনামি অর্থ পূর্ব এশিয়ার “এশিয়ান টাইগার্স” হিসেবে পরিচিত দেশগুলোর অর্থনীতিতে প্রবেশ করতে থাকে। যার মধ্যে অন্যতম হলো থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালেয়শিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং এবং দক্ষিন কোরিয়া। যার ফলে একটা সময় ঐসব অর্থনীতিগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ক্রেডিট বৃদ্ধি পায় এবং দেশগুলো ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে থাই sorkar মার্কিন ডলারের বিপরীতে তাদের মুদ্রার মূল্য কমাতে বাধ্য হয় যা কিনা বহুসময় ধরে অপরিবর্তিত ছিল এবং দেশটিতে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট দেখা দেয়। এবং অচিরেই সবার মধ্যে আতংক সৃষ্টি হয়। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সরকারগুলোর দেউলিয়া হয়ে যাওয়া আশংকা দেখতে পায় এবং বিশ্বব্যাপী এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে দেশগুলোর কয়েক বছর লেগে যায়। পরিশেষে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল এগিয়ে আসে দেশগুলোকে সাহায্য করার জন্য এবং তাদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করে।

Forexmart

৫. ২০০৭-০৮ এর অর্থনৈতিক মন্দা

ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ মন্দা হিসেবে পরিচিত এটি, যার ফলে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে যায় এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বাজারে ভয় সৃষ্টি হয়। এই মন্দার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল মার্কিন গৃহায়ন খাতের ধস এবং এর ফলে বিশ্বের অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী ব্যাংক ল্যাহমান ব্রাদার্স দেউলিয়া হয়ে যায়। এছাড়া আরো অনেক বড় ব্যাংক প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যায়। শত শত কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায় এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের চাকরি হারায়। এর সংকট থেকে মুক্তি পেতে সব বড় বড় সরকারগুলোকে তাদের অর্থনৈতিক নীতি পরিবর্তন করতে হয়। প্রায় এক যুগ লেগেছে এই সংকট মোকাবেলা করে বিশ্ব অর্থনীতিকে আবার স্বাভাবিক করতে।

Nasdaq | নাসদাক কি ?

leave a reply