ফরেক্স মার্কেটের বর্তমান পরিস্থিতি ও এর উপরে প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের প্রভাব

ফরেক্স মার্কেটের বর্তমান পরিস্থিতি ও এর উপরে প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের প্রভাব ফরেক্স মার্কেটের বর্তমান পরিস্থিতি ও এর উপরে প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের প্রভাব

বুধবারে কারেন্সি ট্রেডিং অনেক এলোমেলো ভাবে শেষ হয়েছে যেহেতু কালকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই প্রার্থীর মধ্যে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এশিয়াতে ইউরো মার্কিন ডলারের বিপরীতে বৃদ্ধি পেলেও ইউরোপ সেশনে আবার মূল্যহ্রাস পায়, তবে নিউইয়র্ক সেশনে আবারো কিছুটা মূল্যবৃদ্ধির দেখা পায় ইউরো। একইরকম অবস্থা পরিলক্ষিত হয় USDJPY এর ক্ষেত্রে যেখানে দিনের শুরুতে মূল্যবৃদ্ধি পেলেও নিউইয়র্ক সেশনে মূল্যহ্রাস পেয়েছে। বছরের এই সময়টাতে ফরেক্স মার্কেটের এই অবস্থা আসলে অবাক করার মতো কিছু নয়। এই সময়টাতে মাস শেষ হয়, তৃতীয় প্রান্তিক শেষ হয় এবং এগুলো মুদ্রার মুল্যের উপর অনেক প্রভাব ফেলে। EUR/USD এবং USD/JPY ছাড়াও মার্কিন ডলারের জন্যও কালকের দিনটি ভালো যায়নি। শক্তিশালী মার্কিন অর্থনৈতিক রিপোর্টের পরেও বেশির ভাগ কারেন্সির বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্য হ্রাস পেয়েছে।

আগামীকাল মার্কিন NFP প্রকাশিত হবে এবং ADP এর মতে সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানীগুলো মোট ৭৪৯ হাজার চাকরি যুক্ত করেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হোম সেলস ৮.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কিনা প্রত্যাশার দ্বিগুণ। ADP এর রিপোর্ট অনেকটা আশার আলো দেখালেও এই তথ্য দেখে মার্কিন অর্থনীতির পরিস্থিতি বিবেচনা করা যাচ্ছে না যেখানে Disney, Shell, Dow, Continental এবং Marathon Petroleum কয়েক হাজার চাকরি ছাঁটাই এর ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে, প্রত্যাশার চেয়ে ভালো মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের ফলে এবং প্রণোদনার ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়ায় শেয়ার বাজার ও ট্রেজারি ইয়েল্ড অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। Dow Jones Industrial Average প্রায় ৫০০ পয়েন্টস বা ২% বৃদ্ধি পেয়েছে গতকালকে। সাধারনত ট্রেজারি ইয়েল্ডের সাথে ডলারের মূল্য ও পরিবর্তিত হয় কিন্তু আমরা তেমন বড় কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করি নাই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের প্রথম দিন শেষ হলেও অর্থনৈতিক বাজারে তেম্ন প্রভাব ফেলতে পারে নি। দুই প্রার্থী ই তাদের নির্ধারিত সময় শেষ করেছে একে অপরকে দোষারোপ করে এবং ব্যাক্তিগত আক্রমন করে, যার ফলে আমেরিকানরা কোনো আশার আলো দেখতে পায় নি বিতর্ক থেকে। এটি এতোটাই ব্যার্থ হয়েছে যে বিতর্ক কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা তাদের ভবিষ্যৎ বিতর্কের ক্ষেত্রে কৌশল পরিবর্তন করবে। এটা সম্পর্কে বিস্তারিত না জানালেও শোনা গিয়েছে যে বিতর্কের মাঝে মডারেটর স্পিকারদের মাইক্রোফোন বন্ধ করে দিতে পারবে। শেয়ার বাজার ও কারেন্সি কালকে মূল্য পুনরুদ্ধার করতে পারার অন্যতম কারণ হলো দিনশেষে বেশির ভাগ আমেরিকানরা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে যে তারা নভেম্বরের নির্বাচনে কাকে ভোট দিবে। মার্কেটে বিভিন্ন সম্পদের মূল্য পরিবর্তন দেখে বুঝা যাচ্ছে যে বিনিয়োগকারীদের অন্যতম চিন্তার বিষয় হলো করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়া। ইক্যুয়িটি এবং নিরাপদ আশ্রয় খ্যাত মুদ্রাগুলোর মূল্য আরো বৃদ্ধি পাবে যদি আজকে ISM ম্যানুফ্যাকচারিং রিপোর্ট এবং মার্কিন NFP এর ইপরত ভালো আসে।

অস্ট্রেলিয়ান ডলার ও নিউজিল্যান্ডের ডলার কালকে অনেক ভালো পারফরম্যান্স করলেও কানাডিয়ান ডলার সবচেয়ে বেশী লাভজনক অবস্থায় ছিলো। মার্কেটে ঝুঁকি বৃদ্ধি, শেয়ার বাজার বিপরীতমুখী হওয়া, তেলের মূল্য ২% বৃদ্ধি পাওয়া এবং প্রত্যাশার চেয়ে ভালো জিডিপি ডাটা আসার ফলে USD/CAD তার চারদিনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে গিয়েছে। স্টার্লিং এই নিয়ে টানা পাঁচ দিন মূল্যবৃদ্ধি করেছে। স্টার্লিং এর এই শক্তিশালী অবস্থান দেখে সবাই অবাক হয়ে আছে কারণ ইইউ এর সাথে যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট নিয়ে আলোচনা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

Forexmart

leave a reply