বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চাবিকাঠি ব্যাংকিং খাতে নিহিত: IMF

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চাবিকাঠি ব্যাংকিং খাতে নিহিত IMF বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চাবিকাঠি ব্যাংকিং খাতে নিহিত IMF

MarketDeal24.Com – International Monetary Fund বা IMF বলছে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে একটি সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন যেখানে ব্যাংকিং খাতের উপর গুরুত্ব আরোপের কোনও বিকল্প নেই।

ব্যাংকিং সেক্টরের পুনর্গঠন বাংলাদেশের সরকারের মূল বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত। এমনটাই বলেন অ্যান মেরি গাল্ড উলফ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ডেপুটি ডিরেক্টর।
IMF এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে এসব অঞ্চলের রাষ্ট্রসমূহে ব্যাংকিং খাত এবং অর্থনৈতিক অবস্থা অনেকটাই দুর্বল।

সংস্থাটি বলছে এখন ব্যাংকিং খাতে পুনর্গঠন, সঠিক নজরদারি এবং তত্ত্বাবধান, ঋণগ্রহীতাদের নিয়ন্ত্রণ এবং ঋণ দেয়ার শর্তে কড়াকড়ি আরোপ করা উচিত। শক্তিশালী করা উচিত ব্যাংক পরিচালনা এবং ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত।

বাংলাদেশে কুঋণের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়নের কাছাকাছি চলে গেছে যা পরবর্তীতে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ব্যাংকিং খাত যদিও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬% বেড়েছে বাংলাদেশে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের সাথে মিলে গেছে।

Forexmart

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার ব্যাপারে যে পূর্বাভাস তার নেপথ্য কারণ জানতে চাইলে বলা হয় বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। এর সঙ্গে আছে করোনা সংক্রমণ এবং বাংলাদেশে মার্চের ২৬ তারিখ থেকে ঘোষিত সাধারণ ছুটি। পোশাক শিল্পে বিপর্যয়, ক্রয় আদেশ বাতিল এসবও নেপথ্য ভূমিকা পালন করবে বলে জানায় সংস্থাটি।

Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association

Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association (BGMEA) বলছে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের অর্ডার ক্যান্সেল হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়ন বলছে গার্মেন্টস মালিকেরা ৩০ হাজার চাকরির ক্ষেত্র বাতিল করেছে। যা ঘটেছে বিগত চার মাসে।

এছাড়া হ্রাস পেয়েছে বাংলাদেশের রেমিটেন্স। এমন তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। এ মুহূর্তে বাংলাদেশের সরকারের অর্থ ও রাজস্ব নীতি জোরদার করার কোনও বিকল্প নেই। জানান অ্যান মেরি গাল্ড উলফ।

তিনি বলেন দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় সহায়তা প্রদান করতে হবে। তা হতে পারে অর্থ সঞ্চালন, সহজ শর্তে ঋণ অথবা কর মওকুফ করা।

তিনি আরও বলেন, অর্থ ও রাজস্ব নীতি বাস্তবায়নের সাথে সাথে আর্থিক সম্পদ বৃদ্ধির কাজ করে যেতে হবে যা কেবলমাত্র ব্যাংকিং খাত করতে সক্ষম।


বাংলাদেশ এরই মধ্যে ৮২৭.৫০ বিলিয়ন টাকার রিলিফ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে যা দেশের মোট জিডিপির সাড়ে তিন শতাংশ। তবে বাংলাদেশের ব্যাংকিং যদি কার্যকর উপায়ে কাজ করে যেতে পারে তাহলে অর্থনৈতিক ধকল কাটিয়ে ওঠা অনেকটাই সম্ভব হবে।

২০১৯ সালে দেশের অর্থনীতি বিস্তৃত হয়েছে সোয়া আট শতাংশ হারে যাকে উপমহাদেশের সর্বোচ্চ দাবী করে এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক।

বিশ্লেষকরা বলছেন সরকারের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ এই বছরের জুনে ৬০০ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছতে পারে।

বাংলাদেশ সরকার ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যদ্রব্য কিনবে: প্রধানমন্ত্রী

leave a reply