বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে আরো একবার ম্যালওয়্যার ধরা পড়লো

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে আরো একবার ম্যালওয়্যার ধরা পড়লো বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে আরো একবার ম্যালওয়্যার ধরা পড়লো

MarketDeal24.Com – বাংলাদেশ ব্যাংকের ডাটা সার্ভার আরো একবার ঝুঁকির মুখে পড়লো। যে কোনো সময় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাইবার আক্রমণের সম্মুখীন হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন ম্যালওয়্যার (কোনো কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশের সফটওয়্যার) সংক্রমণ এবং সৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডাটা সার্ভার ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, BCC এই ঝুঁকির ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটিকে আগাম সতর্কতা জানিয়েছে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক তারিক বরকতউল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাঙ্কে প্রেরিত এক চিঠিতে জানান, “বাংলাদেশ ব্যাংক যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তার ইন্টারনেট প্রটোকল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রটোকলের ব্যাপারে জানান দিচ্ছে এবং তথ্য পাঠাচ্ছে। সন্দেহজনক ইন্টারনেট প্রটোকলটি ম্যালওয়্যার এবং বটনেট দ্বারা সংক্রমিত। সম্ভাব্য ঝুঁকির ব্যাপারে আমরা আপনাদের সাবধান করে দিতে চাই। জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আমাদের নিজেদের পদক্ষেপ গ্রহণ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।”

১২ই ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ই মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন মনিটরিং রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে BCC এই সতর্কতাবাণী প্রেরণ করে।

Forexmart

একটি স্মারকলিপির মাধ্যমে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়। এরপরই বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডাটা সেন্টারে একটি সাইবার সেন্সর ইন্সটল করেন।

বাংলাদেশ সরকারের কম্পিউটার ইন্সিডেন্ট রেসপন্স টিম এই সাইবার সেন্সর নজরদারীর দায়িত্বে আছে। এই দলটি কম্পিউটারের যাবতীয় প্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি তথ্য গ্রহণ, প্রেরণ এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার রাখে।

সাধারণত সেন্ট্রাল সার্ভারে এ ধরনের ম্যালওয়্যার হ্যাকারদের অনুপ্রবেশ এবং তথ্য ও অর্থ চুরির সুযোগ করে দেয়।

গত বছরের মার্চে সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকাতে একই ধরনের সতর্কতাবাণী কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়েছিল বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এবং অনুরোধ করেছিল জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

২০১৬ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাইবার দুর্বৃত্তরা ১০১ মিলিয়ন ডলার হ্যাকিং এর মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। সেখানে তারা নিউ ইয়র্কের ফেডারেল ব্যাংককেও জড়িত করে নেয়। ফেডারেল ব্যাংকের অ্যাক্সেসে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে এই ব্যাংক তহবিল তছরুপের ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা। সেই ঘটনার পর ফিলিপাইনের কাছ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার আদায় করা সম্ভব হয়।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংক ম্যানিলাভিত্তিক রিযাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে মামলা করে তছরুপকৃত তহবিল উদ্ধারের জন্য।

কিন্তু এখন পর্যন্ত হ্যাকিং এর মাধ্যমে চুরি হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয় নি।

গত বছরের রিপোর্টে বলা হয় তদন্তকারীরা ব্যাংকিং সিস্টেমের সার্ভারে ম্যালওয়্যার খুঁজে পান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইপি এড্রেসের সাথে আরো একটি সন্দেহজনক আইপি এড্রেস পাওয়া যায় যার অবস্থান ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, রোমানিয়া, নেদারল্যান্ডস এবং জার্মানিতে। সেসব সন্দেহজনক সার্ভার ম্যালওয়্যার হিসেবে চিহ্নিত হয়। এসবের মাধ্যমেই হ্যাকারেরা অর্থ আত্মসাৎ এর চেষ্টা চালিয়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জানান, “আমাদের এখানে নিয়মিত প্রক্রিয়া চলে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল সার্ভার তত্ত্বাবধানে রাখে সেই সঙ্গে আমরাও রাখি। ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে আমরা এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি।”

সাধারণ ছুটি ঘোষণার ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়বে কি না জানতে চাইলে বলা হয়, “ঝুঁকি মোকাবিলায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাই আমরা আশা করছি সাধারণ ছুটি কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।”

বিশ্ব শেয়ার বাজারের জন্য বিভীষিকাময় তিনটি মাস

leave a reply