বাংলাদেশ শেয়ার বাজার; সামনের দিনগুলো নিয়ে কি ভাবছে বিনিয়োগকারীরা?

বাংলাদেশ শেয়ার বাজার; সামনের দিনগুলো নিয়ে কি ভাবছে বিনিয়োগকারীরা? বাংলাদেশ শেয়ার বাজার; সামনের দিনগুলো নিয়ে কি ভাবছে বিনিয়োগকারীরা?

MarketDeal24.Com – বাংলাদেশের শেয়ার বাজার নিয়ে দেশটির বিনিয়োগকারীদের আশার কোনো শেষ নেই। বাংলাদেশের সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (BSEC) নতুন কমিশন গঠন করা হয়েছে। এ মুহূর্তে কমিশনে কোনো কোরাম সংকট নেই। নতুন নিয়োগ পেয়েছেন একজন চেয়ারম্যান এবং সেই সাথে দু’জন কমিশনার। যারা সকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন।

সরকারি সূত্র জানাচ্ছে নতুন আরো একজন কমিশনার নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশের সরকার। দীর্ঘ ৯ বছর BSEC-তে কর্মরত ছিলেন প্রফেসর এম. খায়রুল। যিনি সকল বিনিয়োগকারীদের দ্বারা সমালোচনার সম্মুখীন হন। কমবেশি সকল বিনিয়োগকারীই ছিলেন চেয়ারম্যান এম. খায়রুলের উপর ক্ষিপ্ত। তার সময়ে সবচেয়ে বেশি আইপিও অনুমোদনের অভিযোগও রয়েছে। অনেকের দাবি এম. খায়রুল চলে যাওয়ায় BSEC-র অন্ধকার যুগের অবসান ঘটল।

তবে এম. খায়রুলের পরিবর্তে শিবলী রুবাইয়াত হাসান এলেও তিনি রাতারাতি বিনিয়োগবান্ধব একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারবেন এমনটি ভাবা আসলে অনুচিত। সেক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরে আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

বলা যেতে পারে দেশের উৎপাদনমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের কথা। ওয়ালটনের শেয়ার নিয়ে অনেক বিনিয়োগকারীর অভিযোগ থাকলেও সহসাই শেয়ার বাজার থেকে ওয়ালটনকে অপসারণের কোনো সুযোগ নেই। যদি বন্ধ করতেই হয় সেক্ষেত্রে আইন পরিবর্তন করতে হবে, নিয়ে আসতে হবে প্রয়োজনীয় সংশোধনী। তেমন কিছু পরবর্তীতে জারি হলেও মার্কেটে প্যানিকের সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

Forexmart

অতীতেও দেখা গেছে বিনিয়োগকারীরা নতুন যে কোনো নিয়মের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে অনেক বেশি সময় নেয় যা এক সময় আতংক এবং অনিশ্চয়তার দিকে গড়ায়।

আরেকটি বিষয় হলো ওয়ালটনের বিডিং বাংলাদেশের প্রান্তিক শ্রেণীর অনেক বিনিয়োগকারীর কাছেই বিতর্কিত। এছাড়াও ভুলে গেলে চলবে না নতুন এই কমিশন দায়িত্ব নিয়েছে করোনার মত একটি জাতীয় সংকটের সময়ে। শুধু তাই নয়, তারা যোগদানের পরপরই একটি নিষ্ক্রিয় পুঁজিবাজারের দায়িত্ব পেয়েছেন যা দীর্ঘদিন কার্যক্রম স্থগিত করে রেখেছে।

বাংলাদেশ শেয়ার বাজার তার সুনাম হারাতে পারে

এরই ফলশ্রুতিতে দুটো বিষয়ে বিপত্তি ঘটার সমূহ সম্ভাবনা বিদ্যমান। প্রথমটি হলো বিদেশীদের কাছে বাংলাদেশ শেয়ার বাজারের কোনো সুনাম থাকছে না এবং তারা বিনিয়োগকৃত অর্থ শেয়ার বাজার চালু হলেই উত্তোলন করে নিতে চাইছেন। আরেকটি হলো আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের বাদ পড়ার সম্ভাবনা।

এই সকল কারণে বিনিয়োগকারীরা জনাব খায়রুলের সিদ্ধান্তে হয়রানির শিকার হবেন আরো বেশ কিছুদিন। এ সকল প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশ নিয়েও দেখা যাবে সংশয়। বিগত দিনের পর্যালোচনা বলে শুধুমাত্র বহুজাতিক কোম্পানিগুলোই লভ্যাংশ প্রদান নিশ্চিত করে আসছে দীর্ঘ সময় ধরে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির আবেদন। যেখানে লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থতায় কোনো কোম্পানিকে সি ক্যাটাগরিতে পর্যবসিত না করার অনুরোধ জানানো হয়।

এছাড়া ফ্লোর প্রাইস নিয়ে এখনই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতংক। বলা হচ্ছে ফ্লোর প্রাইস তুলে নিলে শেয়ার মূল্য টাকার অংক থেকে পয়সায় নামতে বেশি সময় নেবে না, যাতে করে নতুনভাবে আবারো ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বিনিয়োগকারীরা। অনেক বিনিয়োগকারীর আশংকা একটি বিশেষ মহল নবনিযুক্ত কমিশনকে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়ার ব্যাপারে চাপ সৃষ্টি করবে।

Bitcoin এর মূল্যমান আরো হ্রাস পেতে পারে যে সকল কারণে

লেখক – সালাহ্উদ্দীন আইয়ুবী

leave a reply