বাইডেনের জয় নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সংশয়

বাইডেনের জয় নিয়ে সংশয় ডেমোক্র্যাটদের বাইডেনের জয় নিয়ে সংশয় ডেমোক্র্যাটদের

জনমত জরিপে এগিয়ে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থীর জয় নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না দলের লোকজনও।

২০১৬ সালের নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন জনমতে এগিয়ে ছিলেন। অথচ নির্বাচনের ফল চলে গেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে। এবারেও কী ইতিহাসের নিষ্ঠুর পুনরাবৃত্তি ঘটবে? এ নিয়ে সংশয় আর উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে।

ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক দলের প্রভাবশালী কৌশলবিদ স্টিভ শেইল বলেছেন, কিছুই বলা যাচ্ছে না। এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই ঠিক স্বস্তিতে নেই। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার এ নির্বাচনে কী হবে, তা আগে থেকে অনুমান করা দুরূহ হয়ে উঠেছে।

২০১৬ সালের নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন জনমতে এগিয়ে ছিলেন। অথচ নির্বাচনের ফল চলে গেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে। এবারেও কী ইতিহাসের নিষ্ঠুর পুনরাবৃত্তি ঘটবে? এ নিয়ে সংশয় আর উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে

Forexmart

কোভিড-১৯ এর কারণে আমেরিকার অর্থনীতির ভগ্নদশার বিপরীতে ট্রাম্প দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন। লোকজন তাঁর এ বক্তব্য কিছুটা হলেও গ্রহণ করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গত প্রায় চার বছরের অস্থির শাসনে লোকজনের হাঁপিয়ে ওঠার কথা। তবে মাঠের পরিস্থিতি মোটেই তা নয় বলে মনে করা হচ্ছে। তালিকাভুক্ত দলীয় লোকজন এমনিতেই চিহ্নিত। এর বাইরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্প কিছুটা হলেও সংশয় সৃষ্টি করতে পারছেন। যুক্তরাষ্ট্রের লোকজনের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। নাগরিক আন্দোলনের সহিংসতা এ ভীতিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। জো বাইডেন শক্তভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারবেন না—জনগণের মনে এই সংশয় ঢুকিয়ে দেওয়ার কাজ দক্ষতার সঙ্গেই করছেন ট্রাম্প।

দুই দলের কনভেনশনের পরও জো বাইডেন জনমত জরিপে এগিয়ে আছেন। বিভিন্ন রাজ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা এখনো দুই থেকে ১০ শতাংশ বেশি। নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পেনসিলভানিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, অ্যারিজোনা ও উইসকনসিনে এখনো বাইডেন এগিয়ে আছেন। কোনো কোনো জরিপে দেখা যাচ্ছে, ফ্লোরিডা রাজ্যে দুই প্রার্থীর অবস্থান সমান সমান অথবা ট্রাম্প এগিয়ে আছেন।

আইওয়া রাজ্যেও জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, দুই প্রার্থীর অবস্থান খুব কাছাকাছি। এ রাজ্যের ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদ কেটি সাইডেল বলেছেন, জরিপ থেকে জনমতের একটা ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু ২০১৬ সালেও মনে করা হয়েছিল, জনমতে হিলারির জয় হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসন জনগণের যে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন, এরপরও দেশের লোকজন তাঁর পক্ষে থাকার কোনো কারণ নেই বলে তিনি মনে করেন।

জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী ২০১৬ সালের একই সময়ে হিলারি ক্লিনটন জাতীয় জনমতে এক থেকে আট শতাংশ এগিয়ে ছিলেন ট্রাম্পের চেয়ে। সেদিক বিবেচনা করলে জো বাইডেন কিছুটা হলেও ভালো অবস্থায় আছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচনে জয়ের জন্য ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পাওয়ার বহুবিধ সুযোগ রয়েছে বাইডেনের সামনে।

চার বছর আগে হিলারি ক্লিনটনের প্রচার শিবির ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্রেটিক রাজ্য হিসেবে পেনসিলভানিয়া, মিশিগান ও উইসকনসিনে বেশি অর্থ ও সময় ব্যয় করেছিল। ওই সব রাজ্যের ফল হিলারির পক্ষে যায়নি। এবারে বেশ আগে থেকেই জো বাইডেনের প্রচার শিবির থেকে রিপাবলিকান হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলোতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এর ফল দেখা যাচ্ছে আগাম জরিপে। জর্জিয়া, অ্যারিজোনা ও নর্থ ক্যারোলাইনায় বাইডেন ফলাফল ভালো করলে ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন কঠিন হয়ে পড়বে।

উইসকনসিন-ভিত্তিক ডেমোক্রেটিক দলের কৌশলবিদ জো জেপেকি বলেছেন, জনমত জরিপে এগিয়ে থেকেও নির্বাচন নিয়ে উৎকণ্ঠা থাকাটা ডেমোক্রেটিক দলের জন্য জরুরি। ডেমোক্রেটিক দলের পরাজয়ের যেকোনো চিন্তা থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

জনমত জরিপে এগিয়ে থেকেও নির্বাচন নিয়ে উৎকণ্ঠা থাকাটা ডেমোক্রেটিক দলের জন্য জরুরি। ডেমোক্রেটিক দলের পরাজয়ের যেকোনো চিন্তা থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

ডেমোক্রেটিক দলের কৌশলবিদ জো জেপেকি

leave a reply