করোনা সংক্রমণ; বিপদের মুখে বাংলাদেশের বড় বড় সব টেলিকম কোম্পানি

করোনা সংক্রমণ; বিপদের মুখে বাংলাদেশের বড় বড় সব টেলিকম কোম্পানি করোনা সংক্রমণ; বিপদের মুখে বাংলাদেশের বড় বড় সব টেলিকম কোম্পানি

MarketDeal24.Com – করোনা সংক্রমণের ফলে বাংলাদেশের সকল টেলিফোন অপারেটর বিপদের সম্মুখীন। গত দুই মাসে তাদের মোট গ্রাহকের সংখ্যা ২% কমে গিয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন বিটিআরসি।

মার্চ মাসে গ্রামীণফোন, টেলিটক এবং রবি সব মিলিয়ে ভয়েস সার্ভিসে ১২ লাখ সক্রিয় সংযোগ হারিয়েছে। তবে ঠিক একই সাথে ইন্টারনেট সার্ভিসের ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণে।

এপ্রিলে নতুন টেলি সংযোগ বিক্রয় কমে গেছে অনেকখানি। চারটি প্রতিষ্ঠান ২০ লাখ থেকে ২৪ লাখের মত ভয়েস এবং ইন্টারনেট সার্ভিস হারিয়েছে।

মোবাইল অপারেটর সকলে আশংকা করছে সামনের দিনগুলোতে এই সেক্টরে আরো বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। যেখানে করোনা সংক্রমণের সাথে যুক্ত হবে উচ্চ পরিমাণে ট্যাক্স।

Forexmart

অর্থ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোবাইল ফোন সার্ভিস কোম্পানি থেকে ১০ থেকে ১৫% হারে কর নেয়া হবে। ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেটে এমনটাই ধরা হচ্ছে।

চারটি মোবাইল ফোন সার্ভিস প্রতিষ্ঠান জানাচ্ছে এখন ১০০ টাকার সার্ভিসের জন্য গ্রাহকদের ১২৩ টাকা ২৫ পয়সা করে গুনতে হবে।

অর্থনৈতিক ধস

লকডাউন এবং অর্থনৈতিক ধস সমগ্র পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। কমে গেছে মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ। মোবাইলে যোগাযোগ কমেছে আরো অধিক পরিমাণে।

গ্রামীণফোন জানাচ্ছে করোনা সংক্রমণ নানা ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে রেখে গেছে। ফলে কমে গেছে টেলিকম সার্ভিসের ব্যবহার।

অনেকে বলছে করোনা সংক্রমণ থাক কিংবা না থাক প্রতি মাসেই কিছু না কিছু নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। এক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটে চলার সম্ভাবনা রয়েছে।

খুচরো বিক্রয়ের দোকানগুলো বন্ধ থাকায় বেচাবিক্রি হচ্ছে না। ফলে বিক্রি হচ্ছে না নতুন সংযোগ। গ্রাহক চাইলেও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত পণ্যটি ক্রয় করতে পারছে না।

রবির হেড অভ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম বলেন, “সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বিভিন্ন জোনে আরো বেশি লকডাউন বর্ধিত করা হয়েছে। অনেকে সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরে অবস্থান করছে এবং রিচার্জ করতে পারছে না। অনেকের সংযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”

অবশ্য রবির বিশ্বাস লকডাউনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ফিরে আসবে আগের মত গ্রাহক সংখ্যা। কিন্তু সকল মোবাইল সার্ভিসে ৫% কর বৃদ্ধি পাওয়ায় তা সৃষ্টি করবে নতুন জটিলতা।

তিনি বলেন, “অনেক গ্রাহক টাকা রিচার্জ করতে বের হতে পারছে না। যা আমাদের উপর আলাদা চাপ সৃষ্টি করেছে।”

মার্চে সক্রিয় সংযোগ ছিল ১৬.৫৩ কোটি। এপ্রিলে যা কমে দাঁড়ায় ১৬.২৯ কোটি।

বিটিআরসি এর নিয়ম অনুযায়ী কোনো সিম কার্ড যদি টানা ৯০ দিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে সেক্ষেত্রে তা নিষ্ক্রিয় বা অব্যবহৃত সংযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এপ্রিলে গ্রামীণফোন প্রায় ১০ লাখের মত ভয়েস কানেকশন হারায়, রবি হারায় প্রায় ৯ লাখের মত ভয়েস কানেকশন, বাংলালিংক প্রায় ৫ লাখের ভয়েস কানেকশন হারিয়েছে এবং টেলিটক হারিয়েছে ৭৩ হাজার ভয়েস কানেকশন।

বিদেশে শেয়ার বিক্রি সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক