ভারতে একের পর এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হচ্ছে কেন ?

0
38 views
ভারতে একের পর এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হচ্ছে কেন ?
ভারতে একের পর এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হচ্ছে কেন ?

MarketDeal24.Com – দক্ষিণ এশিয়ার এক অন্যতম ক্ষমতাধর রাষ্ট্র ভারতের অর্থনীতি এখন তার আয়তনের দিক থেকে সারা বিশ্বের পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে। সমীক্ষা অনুসারে প্রতি মাসে দেশটির অর্থনীতিতে নতুন করে যোগ হচ্ছে প্রায় ১.২ মিলিয়ন বেকার যুবক/যুবতীদের সংখ্যা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, যিনি মধ্য-ডানপন্থী দল ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা, তিনি গত নির্বাচনে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ বা ‘ভারতে তৈরী করো’ এই স্লোগানে ভোটের বৈতরণী পার হতে মাঠে নামেন। তখন থেকেই কর্মসংস্থানের নিত্যনতুন সুযোগ সৃষ্টি করাই হচ্ছে ভারত সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার।

তবে, অর্থনীতির অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে দেশটির অর্থনীতি এখন অনেকটা বেগতিক। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির মোটরযান উৎপাদনকারী খাত হারিয়েছে কর্মসংস্থানের ৩৫০,০০০টি সুযোগ। অন্যদিকে, Parle Products, যা ভারতের অন্যতম বিখ্যাত বিস্কুট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, তারা ঘোষণা দিয়েছে যে, আগামী দিনগুলোতে প্রায় ১০,০০০ কর্মী ছাটাই করতে যাচ্ছে তারা।

অন্যদিকে, স্বর্ণালংকার প্রস্তুতকারী সাজি বালান বলেছেন, “তার নিয়োগকর্তা তাদের কারখানা বিক্রি করে দেয়ার পরে তিনি চাকরি হারান।” তিন সন্তানের বাবা যেকোনোভাবে আর একটি চাকরি খুঁজে নিতে পারলেও, বিদ্যমান চাকরিতে তিনি পাচ্ছেন পূর্বের চেয়ে অর্ধেক বেতন। ফলে, তিনি পাশাপাশি একটি খাদ্য সরবরাহ প্রতিষ্ঠান Swiggy তেও কাজ নিয়েছেন খণ্ডকালীন কর্মী হিসেবে।

অভিযোগ করার সুরে তিনি বলেন, “অনেক মানুষ এখন চাকুরিহারা। কেন একের পর এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?”

যদিও ভারত সরকার কর্তৃক ঘোষিত $20.4 বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যমানের কর অব্যাহতির সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরে বাজার অনেকটা চাঙ্গা হয়েছে, কিন্তু আরো সুসংবাদের আশায় যেন সবাই একটু স্থবির।

কৌঁসুলি অর্ণব দাস বলেন

পরিস্থিতি সম্পর্কে লন্ডন ভিত্তিক ইনভেস্কো এর বিশ্ববাজার কৌঁসুলি অর্ণব দাস বলেন, “শ্রমবাজারে কাঠামোগত আরো কিছু সংস্কার, জমি অধিগ্রহণ, এবং নিয়ন্ত্রণকারী পরিবেশের আরো উন্নতি যদি সাধিত হয় তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।”

অর্থনীতিবিদরা অবশ্য পরিস্থিতিকে দেখছেন দেশটির সরকারের চেয়ে ভিন্নভাবে। তাদের মতে, শ্রমের মজুরি কমে যাওয়া এবং শস্যের মূল্য প্রয়োজনের চেয়ে কম হওয়ায় ভারতের অর্থনীতির এই অবস্থা। তাই প্রয়োজন ভোক্তাদের চাহিদাকে জাগিয়ে তোলার জন্যে আর্থিক প্রণোদনার।

বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা কালে তার দ্বারা কৃত অর্থনৈতিক সংস্কার যেমন জিএসটি প্রণয়ন এবং কালো টাকাকে অর্থনীতির বাহিরে রাখার জন্যে পুরান মুদ্রা নোটগুলো বাতিল করে দেয়ার কারণে হয়তো দীর্ঘমেয়াদে দেশবাসী উপকৃত হবেন কিন্তু স্বল্পমেয়াদে তা সৃষ্টি করেছে নানাবিধ সমস্যার।

তবে, এতকিছুর পরেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা কমেনি এতটুকু। বরং, গত সাধারণ নির্বাচনে পূর্বের চেয়ে বেশি হারে সংখাগরিষ্ঠতা নিয়ে দিল্লির মসনদে পুনরায় বিরাজমান হয়েছেন তিনি। তাছাড়া, মৌলিক পরিষেবার সরবরাহ, এবং দেশটির এক অঙ্গরাজ্য জম্মু এবং কাশ্মীর এর বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করায় তা নতুন করে আবেদন সৃষ্টি করেছে ঘেরুয়া বিপ্লবে বিশ্বাসী মোদী সমর্থকদের মনে।

তবে, ২০১৯/২০ সালে ভারত সরকার কর্তৃক পরিকল্পিত ঋণ গ্রহণের পরিমান এখন ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে উচ্চতায় অবস্থান করছে। এবং অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আগামী দিনগুলোতে তা আরো বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে।

এই সম্পর্কে দেশটির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামান বলেন, “নিকট ভবিষ্যতে বাজেট ঘাটতি হ্রাস করার কোনো পরিকল্পনা ভারত সরকারের নেই। এবং ব্যয় কমানোর কথাও চিন্তা করছে না সরকার।”

তবে, বন্ডের উপরে প্রাপ্ত লভ্যাংশ ইতিমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করা শুরু করেছেন যে, ভারত তার বাজেট ঘাটতির লক্ষমাত্রা বজায় রাখতে ব্যর্থ হবে। যার পরিমান এখন হলো দেশটির জিডিপি’র ৩.৩%।

IC MARKETS ব্রোকার এ একাউন্ট খুলুন – http://bit.ly/2Jd7FsO

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.