মহামারী করোনায় খাদ্য সংকটে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী প্রবাসীরা

মহামারী করোনায় খাদ্য সংকটে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী প্রবাসীরা মহামারী করোনায় খাদ্য সংকটে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী প্রবাসীরা

MarketDeal24.Com – মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী অভিবাসীরা অনিবার্য এক খাদ্য সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে যেহেতু দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে দিনদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে দেশব্যাপী লকডাউন অব্যাহত রয়েছে।

গতকালকে মালয়েশিয়ায় নতুন করে ১০৯ জন করোনা আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে, যার ফলে দেশটিতে মোট আক্রান্ত এখন ৪২২৮ এবং মৃতের সংখ্যা ৬৭ জন। দেশটিতে লকডাউন ৩১ মার্চ পর্যন্ত হলেও পরে বৃদ্ধি করে ১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়।

যেহেতু করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছে না, তাই মালয়েশিয়ান সংবাদ মাধ্যমগুলো সরকারের বরাত দিয়ে জানায় লকডাউন আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। করোনা ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত ১৬ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৯৫ হাজারের বেশি মানুষ।

লকডাউন সকল বিদেশী শ্রমিকদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রায় ৮ লাখ বাংলাদেশী। দেশটিতে জরুরী সেবা- মুদির দোকান, ফার্মেসী, হাসপাতাল এবং গ্লোভস ফ্যাক্টরি ছাড়া সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

Forexmart

মালয়েশিয়ায় প্রায় ২ লাখ বাংলাদেশীর নেই বৈধ কাগজ

এই ৮ লাখ বাংলাদেশীর মধ্যে প্রায় ২ লাখ এর বৈধ কাগজ নেই, যেহেতু তাদের কাজের অনুমতি মালিকরা নবায়ন করেনি।

বেশিরভাগ ঘনবসতিপূর্ন ছাত্রাবাসে অবস্থান করছে। কোয়ালালামপুর ও সেলেঙ্গর থেকে বাংলাদেশী শ্রমিকরা জানায় তারা তাদের জমানো টাকা বা ধার করা টাকা দিয়ে চলছে এখন। দিন যাচ্ছে আর তাদের চিন্তা বৃদ্ধি পাচ্ছে যে সাম্নের সপ্তাহগুলো কিভাবে কাটাবে তারা।

কুয়ালালামপুরের বাংসারে অবস্থানরত এক বাংলাদেশী শ্রমিক মোহাম্মদ আব্দুল বলেন যে সে তার শেষ মাসের কোন বেতন পায়নি এখনো তাই পাশের একটি মুদির দোকান থেকে বাকি এনে খাচ্ছে সে।

কাগজ হীন অভিবাসী শ্রমিকরা বর্তমানে সবচেয়ে সমস্যার মধ্যে আছে যেহেতু তারা যখন কাজ না করে তখন তাদের কোন টাকা দেওয়া হয় না।

যদিও মালয়েশিয়ান সরকার ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে সকল কোম্পানিকে তাদের কর্মীদের বেতন দিতে হবে- এমনকি যারা দিনমজুর তাদেরকেও। তবে অনেক সংগঠনের দাবী অনেকেই তাদের কর্মীদের বেতন দিচ্ছে না ঠিকমত।

“ভালবাসি বাংলাদেশ”

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের নেতা এবং “ভালবাসি বাংলাদেশ” এর প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ হারুন আল রশিদ জানায় তার সংগঠন মালয়েশিয়ান একটি সংগঠন “আমাদের যাত্রা” এর সাথে মিলিত ভাবে অনলাইনে অভিবাসীদের তালিকা করছে যাদের খাদ্যের অভাব।

তিনি বলেন, আমরা এই তিন্দিনে ৫০,০০০ আবেদন পেয়েছি বাংলাদেশীদের কাছ থেকে। কিন্তু আমরা শুধুমাত্র ১২০০০ মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দিতে পেরেছি।

হারুন বলে, “মালয়েশিয়ার সরকার মহামারী রোধ করতে ব্যাস্ত এবং নিজ দেশের জনগণকে কিভাবে সুখে রাখা যায় সেটা নিয়ে চিন্তা করছে, এর মধ্যে বিদেশী শ্রমিকদের নিয়ে চিন্তা করার মত সময় তাদের কাছে নেই”।

তিনি বলেন,” আমি কিছি বিত্তবান এবং কিছু সংগঠনকে ফোন দিয়েছিলাম কিন্তু তাদের কাছে ইতিবাছক কিছি পাইনি।”

এদিকে বাংলাদেশ দুতাবাসের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা বাংলাদেশীদের বলেছি আমাদের ফেসবুক পেইজে যেন তারা তাদের নামগুলো লিপিবদ্ধ করে।

তিনি আরো বলেন, “আমরা অধিক পরিমাণে আবেদন পেয়েছি জরুরী খাবারের জন্য।” কিন্তু কতজনের আবেদন পেয়েছে সে ব্যাপারে কিছু বলেনি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা পরবর্তী সপ্তাহে খাবার দেওয়া শুরু করবো যারা আবেদন করেছে তাদেরকে। আশা করি খুব শীঘ্রই আমরা এই সংকট মোকাবেলা করে উঠবো।”

ভারতের হরিয়ানায় চিকিৎসক এবং নার্সদের বেতন দ্বিগুণ করা হলো

leave a reply