মেয়াদ শেষের আগেই ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর অবসরে যাচ্ছেন

মেয়াদ শেষের আগেই ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর অবসরে যাচ্ছেন মেয়াদ শেষের আগেই ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর অবসরে যাচ্ছেন

(ব্লুমবার্গ) – বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড রিপোর্টে জানিয়েছে যে, ডিসেম্বর মাসে অপ্রত্যাশিতভাবে গভর্নরের চলে যাওয়ার পর ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ভাইরাল আচার্য তার মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস আগেই পদত্যাগ করেছেন।

আচারিয়ার বরাত দিয়ে সোমবার পত্রিকাটি রিপোর্ট করেছে যে, আর্থিক নীতি বিভাগের দায়িত্বে থাকা আচার্য ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে এই বছরের আগস্ট মাসে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করবেন। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের একজন মুখপাত্র জানান, তিনি এই সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং আচার্য ব্লুমবার্গের মন্তব্যের জবাবে তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেননি।

একজন আর্থিক নীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, আচার্য তিন বছরের জন্য ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক যোগদান করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার বিষয়ে সরকারের সাথে সংঘর্ষের সময় উর্জিত প্যাটেল হঠাৎ ডিসেম্বর মাসে গভর্নর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর আচার্যের প্রস্থান উচ্চ পর্যায়ে দ্বিতীয় প্রস্থান।

অক্টোবরে একটি বক্তৃতায় আচার্য প্রথম জনসাধারনের কাছে জানিয়েছিলেন যে এই পার্থক্য সুদের হারের বিপরীতে ঋণের নিয়মগুলির মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। সে সময়ে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে সরকারের মধ্যস্থতার সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য ২০১০ সালের আর্জেন্টিনার আর্থিক বাজারের মন্দার উদাহরণ ব্যবহার করেছিলেন।

Forexmart

ভারতীয় গভর্নর শক্তিকান্ত দাস

প্যাটেলের পদত্যাগের পর গভর্নর শক্তিকান্ত দাসের অধীনে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক তিনবার সুদের হার কমিয়েছে এবং কঠোর নীতিমালা ঘোষণা করেন। আচার্য ছিলেন ছয় সদস্যের আর্থিক নীতি কমিটির একমাত্র ডেপুটি গভর্নর, এবং তার প্রস্থান ধীর অর্থনীতির সমর্থনে আরও সহজে দুয়ার খুলে দেয়।

আচার্যের প্রস্থান আরো বেশি হার কর্তনের প্রবণতার পথ তৈরি করতে পারে এই আশা থেকে ১০ বছরের মধ্যে নোটের পতনের ফলে বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সের ৫ ভিত্তি পয়েন্ট কমে ৬.৮২% এ পৌঁছেছে যার ফলে স্বাধীন বন্ডের মূল্য বৃদ্দি পেয়েছে। প্রাথমিক লেনদেনে রুপির সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

নোমুরা হোল্ডিংস ইনকর্পোরেশনের বিশ্লেষক সোনাল ভার্মা এবং অরুদিপ নন্দী বলেন, সরকারের সঙ্গে ঘর্ষণের কারণে আচার্যের প্রস্থান সম্পূর্ণ বিস্ময়কর ছিলো না।

জুনের এমপিসি বৈঠকে আচার্য হার কর্তনের পক্ষে ভোট দেন, কিন্তু সরকারি ঋণ বৃদ্ধির কারণে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দেন।

নাম প্রকাশ না করে কয়েকজনকে উদৃতি করে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বলেছে, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের জুনের আর্থিক নীতি কমিটির বৈঠকের কয়েক সপ্তাহ আগে আচার্য পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন। আরও মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ করা হলে তিনি সংবাদপত্রটিকে বলেছিলেন: “একজন স্কুল শিক্ষক একবার আমাকে বলেছিলেন যে: যখন আপনার কাজ নিজের জন্য কথা বলে তখন বাধা দেবেন না।”

রিপোর্ট অনুসারে, বিশ্বব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর বিশ্বনাথের মেয়াদ জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তী মেয়াদে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

রিপোর্টে জানানো হয়, রিজার্ভ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাইকেল পাত্র এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সানিয়াল কে আচার্যের পরবর্তী সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাত্র ইতিমধ্যে গভর্নর দাসের সঙ্গে একজন এমপিসি সদস্য হিসাবে দায়িত্বরত রয়েছেন। এমপিসির অন্যান্য তিনজন কর্মকর্তা অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে বেশ সুপরিচিত সদস্য।

সূত্র – investing.com

leave a reply