রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির উদ্বৃত্ত তহবিল ব্যবহারের সিদ্ধান্তে আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা

আজকের দিনে বাংলাদেশের একজন বিনিয়োগকারীর যা যা অবশ্যই জানা উচিত আজকের দিনে বাংলাদেশের একজন বিনিয়োগকারীর যা যা অবশ্যই জানা উচিত

MarketDeal24.Com – যাবতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত এবং শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত সকল রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির উদ্বৃত্ত তহবিল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে এ সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসে আঘাত হেনেছে কেননা এই পদক্ষেপটি কোম্পানির মুনাফা কমিয়ে দেবে। এমনটাই জানাচ্ছে বাজার বিশ্লেষকরা।

একটি প্রথম সারির ব্রোকারেজ হাউজের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, “আমরা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে সেলিং অর্ডার পেয়ে আসছি সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পর।”

রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির উদ্বৃত্ত তহবিল ব্যবহারের সিদ্ধান্তে আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা

জানুয়ারিতে সরকার একটি বিল পাশ করে যেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির উদ্বৃত্ত তহবিল থেকে ২১৮,৮৩৯ কোটি টাকা উত্তোলনের ব্যাপারে চিন্তা করা হয় যা পরবর্তীতে ব্যবহৃত হবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রজেক্টে।

এসব কোম্পানির মধ্যে ১৮টি কোম্পানির উদ্বৃত্ত তহবিলে আছে ১৬,২৩৬ কোটি টাকা, যার অধিকাংশ ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট হিসেবে রাখা হয়েছে।

Forexmart

সরকারের এই সিদ্ধান্তে অনেক বিদেশী বিনিয়োগকারী অপ্রস্তুত হয়ে গেছে এবং তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আতঙ্কিত।

২০১৯-২০ অর্থবছরে, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার থেকে ১,৩৯৯ কোটি টাকা উঠিয়ে নেয়, যা ছিল বাৎসরিক উত্তোলনের হিসাবে সর্বোচ্চ।

এছাড়া বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের সাথে গ্রামীণফোনের সংঘর্ষ সৃষ্টি হওয়ায় তা বিদেশী বিনিয়োগকারী এবং বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

গ্রামীণফোন

গ্রামীণফোন বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে একমাত্র তালিকাভুক্ত মোবাইল অপারেটর যাদের সবচেয়ে বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাণিজ্যিক ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, “শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর উদ্বৃত্ত তহবিল যদি সরকার নিয়ে যায় সেক্ষেত্রে কোম্পানির মুনাফা অনেকাংশে কমে যাবে।”

এক্ষেত্রে সেসব কোম্পানির শেয়ার মূল্যেও প্রভাব পড়বে, প্রভাব পড়বে স্টক মার্কেটেও। এমনিতেও রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো অধিক পরিমাণ শেয়ার বিক্রির জন্য চাপের মধ্যে রয়েছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান তাদেরকে সরকারের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো হলো: তিতাস গ্যাস, উসমানিয়া গ্লাস, অ্যাটলাস, ইস্টার্ন কেবলস, ন্যাশনাল টিউবস, রেনউইক জিন্সওয়্যার, ডেস্কো, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, যমুনা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, পদ্মা অয়েল, পাওয়ার গ্রিড, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল, শ্যামপুর সুগার, যিল বাংলা, রূপালী ব্যাংক এবং ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অভ বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশী কোম্পানির জন্য ঋণ দেয়া সহজ করলো

২ Comments

  • জাপানের শেয়ার বাজার নিম্নমুখী; Nikkei 225 কমেছে 0.58%
    জুলা ২২, ২০২০
  • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাইবার অপরাধের জন্য বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা বন্ধ করতে বলেছে চীন
    জুলা ২২, ২০২০

leave a reply