BSEC NEWS | চলমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ শেয়ার বাজার কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে?

BSEC NEWS | চলমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ শেয়ার বাজার কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে? BSEC NEWS | চলমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ শেয়ার বাজার কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে?

BSEC NEWS – করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউন, সাধারণ ছুটি এবং বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বন্ধ করার আগে এবং ফ্লোর প্রাইজ নির্ধারণের আগে লেনদেন শুরু হলেই লক্ষণীয় হত যে প্রায় ২০০ কোম্পানি কোনো ক্রেতা পেত না এবং প্রতিদিন ২০০ বা ৩০০ পয়েন্ট করে কমত। কিন্তু শেয়ার বাজারের সেই পরিস্থিতিকে কয়েকজন বাজার বিশ্লেষক অস্বাভাবিক মনে করেন নি। কিন্তু ফ্লোর প্রাইসে যখন শেয়ারের কোনো ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছিল না তখনই আপত্তি দেখা গেল। কারণটা খুব সহজেই অনুমেয়। কাঙ্ক্ষিত মূল্যে সেসব শেয়ার ক্রয় সম্ভব হয়নি।

আরেক পক্ষে রয়েছে ট্রেডার যেহেতু তারা ট্রেডিং এ কমিশন পায় না ও অল্প লেনদেন হয় তাই কাঙ্ক্ষিত কমিশন পাওয়া সম্ভবও নয়। তাই দেখা যায় তারা প্রচ্ছন্নভাবে এর বিরোধিতা করে।

করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ শেয়ার বাজার

যাই হোক, করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ শেয়ার বাজার চালু হলে কেমন চলতে পারে বাজার লেনদেন তা নিয়ে আলোকপাত করা যাক। আমরা অবগত আছি যে করোনার তাণ্ডবে বাংলাদেশের অনেক সেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে মিল ইন্ডাস্ট্রি লে অফ ঘোষণা করা হয়েছে। যা আসলে খুব স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। মহামারী এলে সব দেশই এমন পদক্ষেপের আশ্রয় নেয়। কিছু ব্যাংক খোলা থাকলেও তা ক্লিয়ারিং বা ঋণ বিতরণ নয় বরং সম্পূর্ণই দৈনিক ভিত্তিতে রুটিন কার্যক্রম সম্পাদনা করছে।

Forexmart

তবে আপাতত আশার কথা হলো আমদানি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং ফরেন রেমিট্যান্স এখনও বন্ধ হয়ে যায়নি এবং মোটামুটি আশানুরূপ হারে তা চলমান।

এমতাবস্থায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানি সাময়িক ক্ষতির মুখে পড়েছে কিছু কিছু সেক্টর ক্ষতি থেকে নিরাপদেও আছে।

ঋণ বিতরণ স্থগিত এবং সঞ্চিতি রেখে দিলে ব্যাংক খাতের ঝুঁকিতে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা আছে। আবার এ পরিস্থিতিতে মানবসেবা, মেডিসিন সম্পর্কিত এবং চলমান খাতসমূহ যেমন বিদ্যুৎ ও ফুড সেক্টর আশার আলো দেখায়।

এ ব্যাপারে অনেকেই অবগত যে বাংলাদেশের পুজিবাজার অবমূল্যায়িত অবস্থানে আছে। তবে ভাল দিক হচ্ছে ফ্লোর প্রাইজ নির্বাচন করে সার্কিট দেয়া রয়েছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন প্রজ্ঞাপন বিনিয়োগকারীদের ব্যাংক খাত নিয়ে ভাবনার যথেষ্ট অবকাশ দিচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাত যেহেতু চলমান তাই আশা করা যায় এখান থেকে ১০ শতাংশ কোম্পানি তাদের লোকসান কাটিয়ে উঠবে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে বিনিয়োগকারীরা কোথায় বিনিয়োগ করবে?

এখানে জনমত সম্পর্কে অবগত থাকাটা জরুরি। এখানে এমন কোনো খাত বিদ্যমান নেই যার চাহিদা না থাকলেও মূল্য বৃদ্ধি হতে পারে।

সাপ্লাই চেইন বিবেচনা করে ফুড সেক্টর, বিদ্যুৎ, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং নতুন চলমান কারখানা হিসেবে টেক্সটাইল (অবশ্যই সুতা এবং শত ভাগ রপ্তানিমুখী)-এসব কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। এসব খাতে সংকট কাটিয়ে, লেনদেন বা বড় ভলিউম নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।

সকল ডাক্তার, ব্যাংকার,পুলিশ ও জরুরী সেবাদাতা কর্মীদের স্বাস্থ্যের নিশ্চিতকরণে যেহেতু সরকার সচেতন ও এ বিষয়ে স্বাস্থ্যবীমার ব্যবস্থা করা হয়েছে তাই জীবন বীমা খাতটি এক্ষেত্রে অপার সম্ভাবনাময় বলেই প্রতীয়মান হয়।

এই মুহূর্তে দুশ্চিন্তা এবং শঙ্কায় থাকবেন বিনিয়োগকারীরা এটাই স্বাভাবিক। এই ক্রান্তিলগ্নে বাজার চালু হলে কেমন যাবে পুঁজিবাজার এই প্রশ্ন এখন সবার।

মনে রাখা দরকার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার যোগ্য এবং দায়িত্বশীল লোক গঠন এবং নির্বাচিত করা সর্ব অবস্থায় কাম্য। যদি ৮০% কোম্পানি শ্লথগতির লেনদেন হতে থাকে তাহলে সৃষ্টি হবে ক্রেতাদের সংকট। কেননা ফ্লোর প্রাইজ একটা নতুন ফর্মুলা, একটি নতুন কনসেপ্ট। এতে অভ্যস্ত হতে সংশ্লিষ্ট সকলেরই সময় লাগে।

এখানে সবচেয়ে বড় দাবি হতে পারে আগামী বাজেটে শতভাগ কালো টাকা শেয়ার মার্কেটর সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগ করতে হবে এবং কর্পোরেট ট্যাক্স কমিয়ে দিতে হবে।

সকলে সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন। সবাইকে যত প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীনই হতে হয় না কেন, এই পরিস্থিতিতে যে কোনো মূল্যে টিকে থাকতে হবে। BSEC NEWS

Dow Jones Industrial Average: টেকনিক্যাল এনালাইসিস

লেখক – সালাহ্উদ্দীন আইয়ুবী

leave a reply