Federal Reserve কর্তৃক সুদের হারের মধ্যে কমতি আনার সম্ভাবনা

0
208 views
Federal Reserve কর্তৃক সুদের হারের মধ্যে কমতি আনার সম্ভাবনা

MarketDeal24.Com – চলমান ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসের ৩১ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয়ব্যাঙ্ক ঘোষণা দেয় মার্কিন অর্থনীতিতে বিদ্যমান সুদের হারকে একটি রেঞ্জের মধ্যে রাখার এবং এই রেঞ্জটি হলো 2.25% থেকে 2.5%।

এই রেঞ্জটি অবশ্য নির্ধারিত হয়েছিলো ফেডারেল রিসার্ভ এর পূর্ববর্তী বৈঠকে যা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখে।

এখানে মনে রাখতে হবে যে মার্কিন কেন্দ্রীয়ব্যাঙ্ক সুদের হারের মধ্যে সর্বশেষ বৃদ্ধি আনে ঐ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে, এবং যা ছিলো 25 বেসিস পয়েন্টস হারে।

যা ২০০৮ সালে শুরু হওয়া বিশ্বব্যাপি অর্থনৈতিক মন্দার পর সুদের সর্বোচ্চ মাত্রায় বৃদ্ধি।

কিন্তু তারপর নদীর জল গড়িয়েছে অনেক দূর, পরিবর্তন এসেছে অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটেও। নিম্নে আগামীদিনগুলোতে সুদের হার সম্পর্কে ফেডারেল রিসার্ভ কোন ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে কিছু বিশ্লেষণ প্রদান করা হলো।

বিশ্লেষণ: সুদের হার এবং অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রের উপরে তার প্রভাব।

সুদের হারের অপর নাম হলো ঋণ বা লগ্নিকৃত অর্থের উপরে ঋণগ্রহীতা কর্তৃক করা অতিরিক্ত ব্যয়। সুদের হার একজন ভোক্তা একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঋণগ্রহনের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। সুদের হার বেশি হলে ভোক্তারা ব্যয় করতে নিরুৎসাহিত হন, ফলে প্রবণতা বৃদ্ধি পায় অর্থ সঞ্চয় করার। অন্যদিকে, চড়া সুদের হারের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে হয় অনেকটা হতাশ, তাছাড়া, প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধাদি প্রদান করার ক্ষমতার উপরে একটি প্রভাবের বিষয়টিতো থাকছেই।

সুদের হারের বিষয়ে কোনো ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে একটি দেশের কেন্দ্রীয়ব্যাংকে অনেক কিছু বিবেচনা করতে হয়। তার মধ্যে অর্থনীতিতে বিদ্যমান মুদ্রাস্ফীতির হার, এবং কর্মসংস্থান/বেকারত্বের হার হলো মুখ্য বিবেচ্য বিষয়। দ্বিতীয় পর্যায়ের বা গৌণ বিষয়গুলির মধ্যে থাকছে বিশ্বের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা, বিশেষ করে ঐ দেশটির প্রধান বাণিজ্য সহযোগী রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।

আলোচনা বা বিশ্লেষণের এই পর্যায়ে আসা যাক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বিদ্যমান মুদ্রাস্ফীতির হারের বিষয়ে। গত জুন মাসে মার্কিন অর্থনীতিতে বিদ্যমান মুদ্রাস্ফীতির হার 1.8% থেকে হ্রাস পেয়ে হয়েছে 1.6%। এর জন্যে দায়ী ধীরস্থির গতিতে হলেও খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া এবং অন্যদিকে, জ্বালানির মূল্য কমে যাওয়া। অন্যদিকে, গত জুন মাসে নতুন করে সৃষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে ২,২৪,০০০টি এবং বেকারত্বের হার থাকছে 3.7% এ।

মার্কিন কেন্দ্রীয়ব্যাংকের চেয়ারম্যান জেরোমি পাওয়েল বলেন

পরিস্থিতি সম্পর্কে মার্কিন কেন্দ্রীয়ব্যাংকের চেয়ারম্যান জেরোমি পাওয়েল এর বক্তব্য হলো, “নতুন করে সৃষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগের ভালো অবস্থা এবং বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে কম থাকার।

এই সকল বিষয়াদির আলোকে কেন্দ্রীয়ব্যাংক কিছুদিন আগ পর্যন্ত সুদের হারের মধ্যে কমতি আনার পক্ষপাতী না হলেও গত মার্চ মাস থেকে পাল্টাতে থাকে দৃশ্যপট। ফলে যেকোনো দিকে সুদের হারের মধ্যে পরিবর্তন আনার ব্যপারে ফেডারেল রিসার্ভ থেকে মার্কিন নাগরিকদের প্রতি আসে ধৈর্য্য ধারণের আহ্বান।

চলমান ২০১৯ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক সময়কালে মার্কিন ভোক্তাদের কর্তৃক ব্যয় হ্রাস পাওয়া এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃক স্থায়ী সম্পদের উপরে বিনিয়োগ কমে যাওয়া জেরোমি পাওয়েলকে বাধ্য করে এই ঘোষণা দিতে যে চলমান বছরে সুদের হারের মধ্যে কোনো ধরণের বৃদ্ধি প্রত্যাশিত নয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিদ্যমান অনিশ্চয়তাতো থাকছেই। চীনের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ, ইউরোপ জুড়ে অর্থনৈতিক স্থবিরতা, এবং ব্রেক্সিট বিষয়ে বিদ্যমান অস্থিরতা করেছে পরিস্থিতিকে আরও জটিল।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোজোনের অর্থনীতির স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কিত নেতিবাচক বাধ্য করছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশগুলোকে আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করতে।

সামগ্রিক বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তে আসা অনেকটা যুক্তিযুক্ত যে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শুরু হতে যাওয়া নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হারের মধ্যে কমতি আনতে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা তা হয়তো হবে 25 বেসিস পয়েন্টস হারে।

IC MARKETS ব্রোকার এ একাউন্ট খুলুন – http://bit.ly/2Jd7FsO

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.