Financial Market- ফরেক্স বা অর্থবাজারে কিভাবে অর্থ উপার্জন করতে হয়

0
669 views

Financial Market”- এই বাজারে লেনদেন করার পদ্ধতি অন্যান্য বাজার, বিশেষ করে ষ্টক মার্কেট বা পুঁজি বাজারের মতোই | তাই পুঁজি বাজারে যদি আপনার পূর্বের কোনো লেনদেন করার অভিজ্ঞতা থেকে থাকলে তা এই বাজারে লেনদেন করতে অনেকটা সাহায্য করবে | এই বাজারে লেনদেনের মূল উদ্দেশ্য হলো একটি মুদ্রার বিনিময়ে ভবিষ্যতে মূল্য বৃদ্ধির আশায় অন্য মুদ্রা ক্রয় করা | আরও নির্দিষ্ট করে বলা যায় যে, যে মুদ্রা ক্রয় করা হয়েছে তা বিক্রীত মুদ্রার তুলনায় ভবিষ্যতে মানে বৃদ্ধি পাবে |

ফরেক্স কোট (Quote) কিভাবে বুঝবেন?

এই বাজারে মুদ্রাগুলো সবসময়ে পেয়ার বা জোড়া আকারে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে | কারণ হলো, একটি মুদ্রা ক্রয় করার অর্থ হলো তার বিপরীতে অন্য একটি মুদ্রা বিক্রয় করা | জোড়া বা পেয়ারের বামদিকের মুদ্রা সংকেতকে বেস কারেন্সী (Base Currency) এবং ডানদিকের মুদ্রা সংকেতকে কোট কারেন্সী (Quote Currency) বলা হয় |

ক্রয় করার সময় এক্সচেঞ্জ রেট (exchange rate) আপনাকে বলে দিবে একটি মুদ্রা ক্রয় করতে হলে তার বিনিময়ে কতটুকু কোট কারেন্সী দিতে হবে | বা অন্যভাবে বলা যায় যে, বিক্রি করার সময় এই এক্সচেঞ্জ রেট ই বলে দিবে যে বেস কারেন্সী বিক্রি করলে কতটুকু কোট কারেন্সী আপনি পাচ্ছেন |

 ক্রয় হোক আর বিক্রয় হোক, বেস কারেন্সী এই লেনদেনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে |

*আপনি একটি পেয়ার তখনই কিনবেন যখন আপনার ধারণা হবে যে ভবিষ্যতে কোট কার্রেন্সির তুলনায় বেস কারেন্সী মানে বৃদ্ধি পাবে

*অন্যদিকে আপনি একটি পেয়ার তখনই বিক্রয় করবেন যখন আপনার ধারণা হবে যে, বেস কারেন্সী কোট কার্রেন্সির তুলনায় মানে কমবে |

লং/শর্ট (Long/Short):

প্রথমে আপনাকে স্থির করতে হবে যে আপনি এই চলমান সেশনে কোনো কারেন্সী পেয়ার ক্রয় করবেন নাকি বিক্রয় করবেন | যদি আপনি ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তাহলে ক্রয় করার পর থেকে বিক্রয় করার আগ পর্যন্ত আপনাকে বেস কার্রেন্সির মানের উন্নতি হওয়া বা বৃদ্ধি পাবার জন্য আপনাকে একটু অপেক্ষা করতে হবে যা অবশ্যই সময় সাপেক্ষ | এই সময় সাপেক্ষতার কারণে এই ধরণের ক্রয়কে ট্রেডারদের ভাষায় লং পজিশন (Long Position) বলা হয় | তাই আর যদি আপনি কোনো কারেন্সী বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে কত কার্রেন্সির তুলনায় বেস কার্রেন্সির মান কমার অপেক্ষা করতে হবে | যা এই ফরেক্স মার্কেটে শর্ট পজিশন (Short Position) নামে অবহিত |

বিড, আস্ক, এবং স্প্রেড (Bid, Ask, Spread):

মূল্যসূচীতে কারেন্সী পেয়ারগুলোকে সাধারণত মূল্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় | তার মধ্যে একটিকে আস্কপ্রাইস (ask price) এবং অন্যটিকে বিডপ্রাইস (bid price) বলা হয় | বিডপ্রাইস হলো সেই মূল্য যেই মূল্যে আপনার ব্রোকার কোট কার্রেন্সির বিপরীতে বিড কারেন্সী ক্রয় করতে আগ্রহী | অন্যদিকে আস্কপ্রাইস হলো সেই মূল্য যেই মূল্যে আপনার ব্রোকার বেস কার্রেন্সিকে কোট কারেন্সী ক্রয় করার উদ্দেশ্যে বিক্রয় করতে আগ্রহী |

এদিকে, বিড এবং আস্ক প্রাইসের মধ্যের পার্থক্যকেই স্প্রেড (spread) বলা হয় |

উল্লিখিত EUR/USD পেয়ারে বিড প্রাইস হলো 1.34568 এবং আস্ক প্রাইস হলো 1.34588, তাহলে এর স্প্রেড হচ্ছে .00020 |

*এই অবস্থায় আপনি যদি বিক্রি করতে চান তাহলে আপনি তা পারবেন 1.34568 এ |

*অন্যদিকে আপনি যদি কিনতে চান তাহলে আপনি তা পারছেন 1.34588 এ |

কখন একটি কারেন্সী পেয়ার ক্রয় বা বিক্রয় করতে হয়:

এই সিদ্ধান্তের জন্য আমাদেরকে ব্যবহার করতে হবে মৌলিক বিশ্লেষণ বা ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস (Fundamental Analysis)|

EUR/USD এই পেয়ারে EUR হলো বেস কারেন্সী, অর্থাৎ, এই পায়েরের ক্রয় বা বিক্রয় সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি হলো এটি | পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে যদি আপনার মনে হয় মার্কিন অর্থনীতি আগামীতে নিম্নমুখী হবে তাহলে আপনি এই পেয়ারে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত দিতে পারেন | অন্যভাষায় বলা যায় আপনি ডলারের বিপরীতে ইউরো ক্রয় করেছেন এই আশায় যে ভবিষ্যতে তা ডলারের বিপরীতে মানে আরও বৃদ্ধি পাবে |

অন্যদিকে যদি আপনি মনে করেন, ইউরোপের অর্থনীতিতে একটু স্থবিরতা বিরাজ করছে এবং তা শেষমেশ মার্কিন অর্থনীতির তুলনায় আগামীতে কিছুটা পিছিয়ে পড়বে তাহলে আপনি এই পেয়ার বিক্রয় অর্ডার দিতে পারেন | ফলে, আপনি ডলারের বিপরীতে ইউরো পড়বে এই আশায় তা বিক্রি করেছেন |

USD/JPY: অন্যদিকে আপনি যদি এই পেয়ারটি ক্রয় করেন তাহলে তাহলে USD হবে এই পেয়ারের বেস বা ভিত্তি |

যদি আপনি মনে করেন যে জাপান সরকার তার দেশের রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ডলারের বিপরীতে ইয়েন এর মান কমাবে তাহলে আপনি এই পেয়ারে একটি বাই বা ক্রয় অর্ডার দিতে পারেন | এই কাজ করতে আপনি মার্কিন ডলার ক্রয় করেছেন এই আশায় যে তা ভবিষ্যতে মানে বৃদ্ধি পাবে |

অন্যদিকে, আপনি যদি দেখেন যে জাপানের বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ মার্কিন অর্থবাজার থেকে বের করে নিচ্ছে এবং তাদের নিকট রাখা মার্কিন মুদ্রা ডলারকে জাপানের মুদ্রা ইয়েন এ রূপান্তর করছে তাহলে আপনি চাইলে এই পেয়ারের বিক্রয় অর্ডার দিতে পারেন | কারণ আপনার এই বিশ্লেষণে মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানের মুদ্রার মূল্য বৃদ্ধি পাবে |

মার্জিন ট্রেডিং (Margin Trading):

ধরে নিন আজকের বাজারে 1,000 ইউরো ক্রয় করলে ভালো লাভ কমানোর একটি সম্ভাবনা আছে | কিন্তু এখানে প্রশ্ন হলো আপনি এত টাকা পাবেন কোথায় যার বিনিময়ে 100 ইউরো ক্রয় করা যায় | এর অর্থ এই কি যে আপনি এই ট্রেড করা থেকে বিরত থাকবেন? হাত ছাড়া হয়ে যাবে এই সুযোগ? সহজ ভাষায় এর উত্তর হলো ‘না’ এই সুযোগ হাত ছাড়া হবে না |

ফরেক্স মার্কেটে মার্জিন ট্রেডিং বলে একটি কথা আছে | মার্জিন ট্রেডিং বলতে ধার বা ঋণ করা অর্থ নিয়ে আপনার নিজস্ব পুঁজির চেয়ে বেশি পরিমানে বিনিয়োগ করাকে বুঝায় | এই পদ্ধতিতে আপনি খুব কম নিজস্ব পুঁজি নিয়ে অর্থ বাজারে বড় বড় লেনদেন অতি সহজে এবং অতি দ্রুত করতে পারবেন |

নিচের উদাহরণ থেকে বিষয় তা আরও স্পষ্ট হবে:

১. বাজারের গতিপ্রকৃতি দেখে আপনার হয়তো মনে হচ্ছে যে ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ড স্টার্লিং মার্কিন ডলারের তুলনায় ভালো করতে যাচ্ছে |

২. ধরে নিন যে, আপনি একটি স্ট্যান্ডার্ড লট (standard lot) খুললেন | ফলে আপনাকে 2% মার্জিনে ব্রিটিশ পাউন্ড কিনতে হলো | এখানে, আপনি যখন পেয়ারের এর 100,000 ইউনিট 1.50000 মূল্যে ক্রয় করছেন তখন আপনি কিনছেন 100,000 পাউন্ড যার ডলারে মূল্য দাঁড়ায় 150,000 ডলার | এখানে যদি মার্জিন 2% হয় তাহলে আপনার ব্রোকার আপনার হিসেবে থেকে 3,000 ডলার আলাদা করে রেখে দিবে যাতে করে আপনি ট্রেড চালু করতে পারেন | ফলশ্রুতিতে, আপনি মাত্র 3,000 ডলারের বিনিময়ে 100,000 পাউন্ড নিয়ে লেনদেন করতে পারছেন যার আসল বাজার মূল্য ছিল 150,000 ডলার | 

ফরেক্সে পিপ্স (Pips) কি?

আলোচনার এই পর্বে আমাদেরকে একটু গণিত করতে হবে | গণিতের নাম শুনে ভয় পাবার কোনো কারণ নেই | ফরেক্সে এইগুলো অনেক সহজ হিসেব | আপনারা ইতিমধ্যেই ‘পিপ্স’ বা ‘পিপেটিস” শব্দগুলো শুনেছেন | এইখানে আমরা এই শব্দগুলোর সংজ্ঞা লিখবো এবং এইগুলোর মান কিভাবে নির্ধারণ করতে হয় তা বের করবো |

তবে এখানে একটি বিষয় জেনে রাখা খুবই জরুরি যে পিপ্স এর মান বের করতে দক্ষতা অর্জনের পূর্বে ফরেক্স ট্রেড না করাই ভালো |

পিপস (Pips) কি?

দুইটি ভিন্ন মুদ্রার মানের মধ্যে পরিবর্তন যে গাণিতিক এককের মাধ্যমে বুঝা যায় তাকেই “পিপ্স” বলে |

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যদি EUR/USD পেয়ারটি 1.1055 থেকে 1.1058 এ উন্নীত হয় তাহলে এতে পরিবর্তন হয়েছে (1.1058 – 1.1055) বা .0003 পিপ্স |

“এখানে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সাধারণত মূল্য উদৃতি বা প্রাইস কোটেশনের দশমিকের পরের সর্বশেষ সংখ্যাই হলো পিপ্স | তবে শর্ত হলো কোটেশনটিতে দশমিকের পরে চার সংখ্যা থাকতে হবে |”

* বেশিরভাগ প্রাইস কোটেশনে দশমিকের পর চার সংখ্যার হয়ে থাকে কিন্তু জাপানি মুদ্রা ইয়েন এর পেয়ারে দশমিকের পর দুই ঘর পর্যন্ত কোট করা হয় |

পিপেটিস কি?

পিপ্স এর পরে এইবার আসা যাক পিপেটিস এর আলোচনায় | কিছু কিছু ব্রোকার আছে যারা সাধারণ নিয়মের বাহিরে গিয়ে কারেন্সী পেয়ারের প্রাইস কোটেশনে দশমিকের পরে ৪ ঘরের স্থানে ৫ ঘর পর্যন্ত উদৃত করে থাকে | এক্ষেত্রে, দশমিকের পরের ৪ ঘরের পরের সংখ্যাকে পিপেটিস (pipettes) বলে |

যেমন: EUR/USD পেয়ার যদি 1.30542 থেকে 1.30543 এ উন্নীত হয় তাহলে এটি বৃদ্ধি পেয়েছে (1.30543 – 1.30542) বা .00001 পিপেটিস |

পিপ্স এর মান কিভাবে বের করবেন?

আমরা জানি, প্রত্যেকটি মুদ্রার একটি আপেক্ষিক মান আছে | তাই এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা ঐ নির্দিষ্ট মুদ্রার মান পিপ্স এর মাধ্যমে বের করে অন্য পেয়ারের তুলনায় একটি পেয়ারের অবস্থান বুঝি | 

*নিচের উদাহরণগুলোতে আমরা মূল্য উদৃতি বা প্রাইস কোটেশন দশমিকের পরে ৪ ঘর পর্যন্ত রাখবো |

*বুঝার সুবিধার্থে আমরা এক্সচেঞ্জ রেট’কে এইখানে অনুপাত বা রেশিও আকারে লিখবো (যেমন EUR/USD হলো 1.2500 এটিকে লিক হবে ১ EUR = 1.2500 USD, এইভাবে)

উদাহরণ: USD/CAD = 1.0200

এটিকে আমরা বলবো, 1 USD = 1.0200 CAD

সূত্র: [কোট কার্রেন্সির পরিবর্তিত মূল্য] * এক্সচেঞ্জ রেট রেশিও = বেস কার্রেন্সির পিপ্স এর মান |

[.0001 CAD] * [1 USD/ 1.0200 CAD]

বা, [(.0001 CAD)/ (1.0200 CAD)] * 1 USD = 0.00009804 USD/ প্রতি একক ট্রেডে |

এই উদাহরণের আলোকে বলা যায় যে, আমরা যদি USD/CAD পেয়ারের 10,000 ইউনিট বিনিময় করি তাহলে এর মানে 1 পিপ্স এর পরিবর্তন বলতে বুঝবে 0.98 USD এর পসিশন ভ্যালুতে পরিবর্তন (10,000*0.00009804/ unit)

লট (Lot) কি?

পূর্বের আলোচনার মাধ্যমে আমরা পিপ্সের মান বের করতে শিখলাম | কিন্তু এতে সমস্যা হলো এই মানের পরিবির্তন হয় খুবই সামান্য | তাই এই পরিবর্তনে ক্ষুদ্র অঙ্ক বিনিয়োগ করে খুব একটা লাভ করা সম্ভব নয় | পিপ্স’এর এই পরিবর্তন থেকে আপনাদেরকে সুযোগ নিতে হলে বিনিয়োগ করতে হবে অধিক পরিমানে |

ফরেক্স মার্কেটে আপনার বিনিয়োগের আকারকেই বলা হয় লট | বৃহৎ আকারে লেনদেনের মাধ্যমে অধিক মুনাফা নিশ্চিত করার জন্যেই এই লটের আবির্ভাব | পূর্বে ব্রোকারেরা মাত্র একধরণের লটের সুবিধা প্রদান করলেও বর্তমানে বাজারে ৪ টি ভিন্ন ধরণের লটের আকার প্রচলিত | যেমন:

Lot Number of Units
Standard 100,000
Mini 10,000
Micro 1,000
Nano 100

এবার একটি উদাহরণে আশা যাক | ধরে নিন আপনি 100,000 (স্ট্যান্ডার্ড) লট ব্যবহার করছেন | 1 পেয়ারের এক্সচেঞ্জ রেট হলো 119.80, তাহলে লটের দ্বারা আপনার অঙ্ক দাঁড়ায় (.01/119.80) * 100,000 = 834 পিপ্স |

মার্জিন (Margin) কি?

আপনারা নিশ্চই ছোটবেলায় বিজ্ঞান বইতে লিভারেজের কথা পড়েছেন | লিভারেজ (leverage) হলো এমন একটি হাতিয়ার যার সাহায্যে আপনি নিজের চেয়ে বেশি ওজনের একটি বস্তুকে তার স্থান থেকে সরাতে পারেন | ফরেক্সে লিভারেজ হলো সেই হাতিয়ার যার মাধ্যমে আপনি আপনার বিনিয়োগ করা মূলধনের চেয়েও বেশি অর্থের সম্পদ বা কারেন্সী নিয়ে লেনদেন করতে পারবেন |

উদাহরণস্বরূপ ধরুন আপনার ব্রোকার আপনাকে 100,000 মার্কিন ডলার নিয়ে ফরেক্স মার্কেটে লেনদেন করার প্রস্তাব দিলো | কিন্তু আপনার কাছে এত অর্থ নেই যার বিনিময়ে আপনি সেই 100,000 ডলার কিনবেন | আপনার লেনদেন সহজ করার জন্য ব্রোকার আপনাকে বললেন যে শুধুমাত্র তার নিকট আপনাকে 1,000 মার্কিন ডলার বন্ধক বা জামানত হিসেবে রাখতে হবে তার পরিবর্তে সে আপনাকে 100:1 অনুপাতে ঋণ প্রদান করবে | অর্থাৎ, এই ঋণ থেকে আপনি আপনার বিনিয়োগকৃত অর্থের 100 গুন বেশি মূল্যের কার্রেন্সিতে লেনদেন করতে পারবেন | এইখানে ব্রোকার এর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে নিজের সামর্থ্যের চেয়ে অধিক মূল্যমানের কার্রেন্সিতে লেনদেনের সুযোগই হলো লেভারেজ | 

ফরেক্সে বিভিন্ন ধরণের অর্ডার:

আমরা জানি, কম্পিউটার আমাদের জীবনকে করেছে অনেক সহজ | কাজে এনে দিয়েছে গতি | কম্পিউটারের এর মাধ্যমে কোনো কাজ সম্পন্ন করতে হলে প্রথমে কম্পিউটারকে সেই কাজের নির্দেশ দিতে হবে | যাকে প্রযুক্তির ভাষায় বলে ‘কম্মান্ড’ | আমরা যে সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে ফরেক্সে লেনদেন করি তা এই কম্পিউটারেরই অংশ | কম্পিউটারের মতোই এই সফ্টওয়্যারকেও কাজের নির্দেশ দিতে হবে | ফরেক্সের ভাষায় এই নির্দেশকেই বলে অর্ডার | ধরুন আপনার অন্য কোনো কাজে ব্যস্ততা আছে, তাই হয়তো বেশিক্ষণ ধরে কম্পিউটারের সামনে বসে ট্রেডে করা সম্ভব না | এই পস্থিতিকে সামনে রেখে আপনার ফরেক্স সফ্টওয়্যার আপনাকে কিছু সুবিধা দিচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হলো আপনি কিভাবে লেনদেন করতে চান তা পূর্বেই নির্ধারণ করে এই সফ্টোয়ার্কে জানিয়ে দেয়া | যার ফলে, আপনার অনুপস্থিতিতে এই সফ্টওয়্যারটি আপনার দেয়া নির্দেশ মোতাবেক লেনদেন কার্যকর করবে | নিম্নে ফরেক্সে প্রচলিত ১০ ধরণের অর্ডার এর ব্যাপারে আলোচনা করা হলো:

Many types of order:

Market Order: মার্কেট অর্ডার এমন একটি নির্দেশনা যার মাধ্যমে আপনি সবচেয়ে সুলভ মূল্যে মুদ্রা কিনতে পারবেন | যেমন: পেয়ারের বিডপ্রাইস হলো 1.2140 এবং আস্কপ্রাইস হলো 1.2142 | আপনি যদি এই পেয়ারটি বাজার মূল্যে কিনতে চাইলে তা আপনার নিকট আস্কপ্রাইস অর্থাৎ 1.2140 তে বিক্রি করা হবে|

২. Limit Entry Order: এই অর্ডার এর আলোকে আপনি কোনো কারেন্সী বাজার দরের চেয়ে কমে কিনতে চাইলে এবং বিক্রি করার সময় তা বাজার দরের চেয়ে বেশি দরে করতে চাইলে, এটিকে নির্দেশ আকারে আপনার সফ্টোয়ারে দিলে তা ঐ মূল্যে আশা মাত্রই কার্যকর হবে | এতে করে আপনাকে অনেকক্ষণ ধরে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হবে না |

৩.  Stop Entry Order: এই পদ্ধতিতে আপনি কোনো কারেন্সী বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কিনতে চাইলে অথবা তা বিক্রি করার সময় বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে করতে চাইলে তা পারবেন | পূর্বের অর্ডারের মতোই এটিও সফ্টোয়ারে আপনাকে নির্ধারণ করে দিলেই হবে |

৪. Stop Loss Order: এটি হলো ফরেক্সে বহুল প্রচলিত অর্ডার পদ্ধতি | এই অর্ডারে আপনি সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে আপনার ব্রোকারকে এই মর্মে নির্দেশ দিবেন যে যদি মূল্য আপনার বিপরীতে যায় তাহলে অতিরিক্ত ক্ষতি এড়ানোর জন্য একটি নির্ধারিত মূল্যে আসা মাত্রই যাতে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায় |

৫. Trailing Stop: এই পদ্ধতি পূর্বের অর্ডারের মতোই কিন্তু পার্থক্য হলো যে এই পদ্ধতিতে আপনি একটি নির্দিষ্ট অংকের পিপ্স নির্ধারণ করে দিলে তা বাজারের উঠানামা করার সাথে উঠানামা করবে |

৬. Good Till Cancelled: এটি এমন একটি অর্ডার যা আপনি নির্ধারণ করলে দ্বিতীয়বার কোনো নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে | আপনার ব্রোকার তা নিজে থেকে বাতিল করবে না |

৭. Good For the Day: এধরণের অর্ডার শুধু একটি কার্যদিবস পযন্ত কার্যকর থাকে | ফরেক্স এর সেশন শেষে তা নিজে নিজেই বাতিল হয়ে যায় | যেহেতু FOREX এমন একটি বাজার যেটা ২৪ ঘন্টায় খোলা থাকে, তাই আমরা পরামর্শ হিসেবে আপনাকে বলবো এটি একাধিকবার আপনার ব্রোকারের সাথে কথা বলতে।

৮. One-Cancels-the-Other (OCO): এটি হলো মূলত দুইটি entry and/or stop loss orders এর সমষ্টি। এখানে দুইটি order যেটার কিনা মূল্য এবং সময়ের ভিন্নতা আছে, তার মধ্যে একটিকে বর্তমান মূল্যের উপরে এবং অন্যটিকে মূল্যের নিচে ঠিক করা হয়। যখন একটি order কার্যকর হয় তখন উন্নতি আপনা আপনিই বাতিল হয়ে যায়।

৯. One-Triggers-the-Other: এটি OCO এর সম্পূর্ণ বিপরীত। এই ধরণের order তখনই নির্ধারণ করা হয় যখন একজন ট্রেডার সময়ের পূর্বেই profit taking এবং stop loss level নির্ধারণ করতে চান।

পূর্ববর্তী পরবর্তী

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.