FOREX EA | মুদ্রাবাজারে ROBOT ব্যবহারের সুবিধা এবং অসুবিধা

0
880 views
মুদ্রাবাজারে ROBOT ব্যবহারের সুবিধা এবং অসুবিধা
মুদ্রাবাজারে ROBOT ব্যবহারের সুবিধা এবং অসুবিধা

FOREX EA – মানুষ হিসেবে আমাদের সবার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা মুদ্রাবাজারে ট্রেডিং করতে করতে যত ভালো ট্রেডার হয়ে যাই না কেন, সারাক্ষন আমাদের পক্ষে নির্ভুলভাবে ট্রেড করা সম্ভব নয়। ট্রেডিং এর পাশাপাশি আমাদের রয়েছে অন্যান্য কাজকর্মও। কেউ হয়তো চাকরি করেন, কেউ হয়তো ব্যবসা-বাণিজ্য। তাছাড়া দিনের শেষে পরিবার এবং সামাজিক জীবনতো আছেই। তাই, সাহায্যের জন্যে আমরা ট্রেডিং করার উদ্দেশ্যে নির্ভরশীল হতে পারি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপরে।

নিম্নে এই ROBOT ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধাগুলো আলোচনা করা হলো:

ROBOT দ্বারা দৈনিক ২৪ ঘন্টাই কাজ করা যায়

মানুষ হিসেবে একজন ট্রেডার ২৪ ঘন্টাই ট্রেড করতে পারেন না। তিনি শুধু তখনই ট্রেড করতে পারবেন যখন তার হাতে থাকবে সময়, এবং সেটিও হলো অন্যান্য কাজকর্ম সারার পরে। তারপর থাকছে রাতের ঘুম এবং অন্যান্য সামাজিক কর্মকান্ডও। এই রকম অবস্থায় ট্রেড করার জন্যে ব্যবহার করা যেতে পারে ROBOT। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারা আপনি দিনের ২৪ ঘন্টাই ট্রেডিং করার ভালো সুযোগ খুঁজে নিতে পারেন।

ROBOT এর মাধ্যমে ট্রেড করলে থাকবে না লোভ লালসা, এবং ভয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রোবটদের থাকেনা কোনো ধরণের লোভ লালসা, এবং ভয় । বাজারে প্রতিকূল পরিস্থিতি দেখে তারা হয়না বিচলিত। তারা শুধু কাজ করে যায় নির্দেশনা মোতাবেক। তাই কোনো ধরণের ট্রেড বিপক্ষে যাওয়ার অবস্থায় রোবটদের মধ্যে নেই কোনো লোভ, অথবা কম সময়ে হয়ে যাওয়া ক্ষতিকে পুষিয়ে নেয়ার আকাঙ্খা। অন্যদিকে, মুনাফা হওয়ার পরে তারা হয়না আত্মহারা। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বলা যায় এরকম পরিস্থিতি এড়ানোর জন্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রোবটের ব্যবহার খুবই উপকারী।

ROBOT এর মাধ্যমে একাধিক মুদ্রা পেয়ারগুলো একসাথে পরিচালনা করা যায়

আমরা জানি, মুদ্রাবাজারে রয়েছে শত শত মুদ্রা। এবং ঐ সকল মুদ্রাগুলোর সাথে অন্য মুদ্রার জোড়াকে বলা হয় কারেন্সী পেয়ার। আর এইভাবে তৈরী করা যায় হাজারো পেয়ার। যা হিসাব রাখা একজন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এই রকম পরিস্থিতির জন্যে সবচেয়ে ভালো হলো রোবটের ব্যবহার। শুধু হিসাব রাখাই নয়, বরং, মুদ্রাবাজারে তাৎক্ষণিক কোনো মুদ্রা জোড়া বা পেয়ারের উঠানামা এবং সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

কাজ এবং সামাজিক জীবন ভারসাম্য আনার জন্যে চাই ROBOT

ROBOT বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যখন কাজে ব্যস্ত তখন একজন ট্রেডার তার অন্যান্য কাজ চালিয়ে যেতে পারেন

আমরা জানি, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক বা দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি অন্য কোনো কাজ করা যায় না, তাই এরকম অবস্থার জন্যে সবচেয়ে ভালো হয় ROBOT বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা। তাছাড়া, মুদ্রাবাজারে সফলতার সাথে ট্রেড করার জন্যে প্রয়োজন একটি কার্যকরী কৌশলের। যেমন ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস, টেকনিক্যাল এনালাইসিস, সংবাদ ভিত্তিক ট্রেড, ইত্যাদি। যেহেতু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই সকল কাজ একত্রে করতে সক্ষম তাই রোবটের দ্বারা ট্রেড করলে এই রকম পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব।

ROBOT বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো তড়িৎগতির অধিকারী

বেশিরভাগ রোবট বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো তড়িৎ গতির অধিকারী এবং তারা যেকোনো আবির্ভূত পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতে পারে। শুধু তাই নয়, কোড করা কম্যান্ড অনুযায়ী রোবটের দ্বারা একই সময়ে একাধিক প্রাইস অ্যাকশনকে বুঝা সম্ভব। যা হয়তো একজন বিনিয়োগকারীর জন্যে ব্যক্তিগতভাবে সম্ভব নয়।

নবাগত ট্রেডারদের জন্যে ROBOT অনেক উপকারী

নবাগত ট্রেডারদের রয়েছে নানা ধরণের সমস্যা। তারা প্রভাবিত হয় নানাভাবে, যেমন কোনো প্রবীণ ট্রেডারকে অন্ধের মতো অনুসরণ করা, বিরূপ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত ট্রেডিং কৌশলের উপরে আস্থা হারানো ইত্যাদি। যেহেতু রোবট বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই সকল ত্রূটির উর্ধে তাই তা নব্য ট্রেডারদের জন্যে অনেক উপযোগী।

এবার আসা যাক অসুবিধাগুলোর দিকে

  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের জন্যে প্রয়োজন একটি প্রাইভেট সার্ভার এর যা অনেকে ক্রয় করতে পারেন না;
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার তখন সবচেয়ে ভালো হয় যখন ব্রোকার স্ক্যাল্পিং, লো স্প্রেড, এবং লো এক্সেকিউশন টাইম এর অনুমতি দেয়;
  • বেশিরভাগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটিমাত্র কারেন্সী পেয়ারের উপরে কাজ করে;
  • অর্থনৈতিক তথ্যগুলোর ব্যপারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত কাজ করতে পারেনা।

যে ১০টি কৌশলে আপনার ট্রেডিং হবে আরও উন্নত

OPEN FOREX DEMO ACCOUNT

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.