FOREX FUNDAMENTAL বেসিক ECONOMIC ক্যালেন্ডার এর শর্ত গুলো জেনে নিন | MUST READ

2
320 views
FOREX FUNDAMENTAL বেসিক ECONOMIC ক্যালেন্ডার এর শর্ত গুলো জেনে নিন | MUST READ

FOREX FUNDAMENTAL : অর্থনীতি পরিচিতি 

FOREX FUNDAMENTAL – ফরেক্স ট্রেডাররা, আপনারা জেনে আশ্চর্যান্বিত হবেন যে, বেশিরভাগ ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর চ্যাটিং রুমে যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়, তা ক্যান্ডলস্টিক বা তার গঠন নয়, বরং তা হলো বিভিন্ন ধরণের অর্থনৈতিক সমীক্ষা সম্বলিত তথ্যগুলো কি, এবং এগুলো তাদের জন্যে কেন গুরুত্বপূর্ণ! 

উত্তর হলো: হবেই বা না কেন?

প্রথমত, আপনি যখন বড় ছবি বা বৃহৎ আঙ্গিকে চিন্তা করবেন তখন পরিস্থিতি আপনার জন্যে বুঝা অনেক সহজ হবে। এখানে যে জিনিসটি আপনাকে মনে রাখতে হবে, তা হলো ফরেক্স এ প্রতিটি পেয়ারের মূল্য একটি নির্ধিষ্ট সময়ে সেই পেয়ারের চাহিদা এবং যোগানের একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে অবস্থান করাকে তুলে ধরে। একটি দেশের অর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, এবং রাজনৈতিক অবস্থার সমষ্টির বিশ্লেষণ করাকে ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস বলে। সাধারণভাবে বলা যায় একটি দেশের অর্থনীতির ব্যপারে একটি ইতিবাচক তথ্য বিশ্ব মুদ্রাবাজারে সেই দেশের জাতীয় মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধিতে প্রধান অনুঘটকের ভূমিকা রাখে।

FOREX FUNDAMENTAL

একটি মুদ্রার বিষয়ে করা ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস তখনই জটিল আকার ধারণ করে যখন সেই বিশ্লেষণের সবগুলো ফ্যাক্টর পরস্পর পরস্পরের সাথে তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যহীন ক্ষমতার প্রভাব-শক্তির অধিকারী হওয়ার ভিত্তিতে একসাথে মিশে গিয়ে জল ঘোলা করার অবস্থার সৃষ্টি করে। এই প্রবন্ধে পাঠকের সুবিধার জন্যে আমি ব্যবহার করবো একটি অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তিগুলো (চাহিদাপক্ষ), এবং মুদ্রানীতির বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব (যোগানপক্ষ)।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি:

একটি দেশের অর্থনীতিতে গত একটি নির্দিষ্ট সময়ে হয়ে যাওয়া প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিমাপক Gross Domestic Product বা GDP হলো আমাদের নিকটও সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য। এর প্রধান কারণ হলো, GDP আপনাকে আপনার দেশের অর্থনীতির কোন কোন খাতগুলো কেমন প্রদর্শন করছে তা খাতওয়ারিভাবে পৃথক পৃথকভাবে বলে দিবে।   

উদাহরণস্বরূপ নিম্নে GDP’র বিভিন্ন অংশের নাম, এই পরিমাপকের সামগ্রিকতার সাথে তুলে ধরা হলো।

GDP = Consumption (C) + Investment (I) + Government Spending (G) + (Exports (X) – Imports (M))

GDP = C + I + G + (X – M)

উপরে দেয়া এই অংশগুলোকে ভালোভাবে মুখস্ত করুন এবং যখনই কোনোধরণের অর্থনৈতিক তথ্যের সম্মুখীন হবেন তখন তাকে এইভাবে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করুন। কারণ, মনে রাখবেন, একটি দেশের কেন্দ্রীয়ব্যাঙ্কও এই সকল তথ্যকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে থাকে। যার উপরে নির্ভর করে তাদের মুদ্রানীতির গতিপ্রকৃতি। GDP এর পরিমাপ সাধারণত ত্রৈমাসিক হয়ে থাকে (প্রতি তিন মাসে একবার করে বছরে চারবার), আবার কোনো কোনো দেশ মাসিক হারেও তা পরিমাপ করে থাকে, যেমন: যুক্তরাজ্য (মাসিক GDP তথ্য, তার ঠিক এক বছর পূর্বের একই সময়ের তথ্যের সাথে তুলনাকৃত)।    

কর্মসংস্থান (Employment):

বেকারত্বের হার: একটি দেশের শ্রমবাজারে বিদ্যমান শ্রমিকদের মোট সংখ্যা এবং যেসকল শ্রমিকরা কাজ করতে ইচ্ছুক কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ধরণের কাজ করছেন না, তাদের ভগ্নাংশকে বলা হয় বেকারত্বের হার বা Unemployment Rate। 

কর্মসংস্থানের মধ্যে পরিবর্তন: একটি দেশের অর্থনীতির মধ্যে বিদ্যমান প্রতিটি ক্ষেত্রের দ্বারা একটি নির্দিষ্ট সময়ে হয়ে যাওয়া নতুন করে সৃষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং বিলুপ্তি পাওয়া সুযোগগুলোর শেষ হিসেবই হলো সেই দেশের কর্মসংস্থানের অবস্থার মধ্যে পরিবর্তন। অবশ্যই, এই ধরণের পরিস্থিতিতে খণ্ডকালীন কর্মসংস্থানের সুযোগের চেয়ে স্থায়ী সুযোগগুলোকে প্রাধান্য দেয়া হবে। কারণ স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ হলো অর্থের একটি ভারসাম্যপূর্ণ যোগানের মাধ্যম।

শ্রমিকদের অংশগ্রহণের হার: একটি দেশের শ্রমবাজারের মধ্যে বিদ্যমান শ্রমিকদের পরিমান, সেই পরিমানের মধ্যে অবশ্যই তারা আছেন যারা ইতিমধ্যে কোথাও না কোথাও কর্মরত রয়েছেন, এবং তারাও যারা কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজছেন, তাদের সমষ্টিকে বলা হয় শ্রমিকদের অংশগ্রহণের হার। এখানে মনে রাখতে হবে যে, নিকট ভবিষ্যতে যদি কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকে তাহলে শ্রমিকদের অংশগ্রহণের পরিমান কমে যায়।

ফরেক্সে ক্যারিয়ার শুরু করুন ৬ টি সহজ ধাপে (ক্লিক করুন)

বেকার ভাতার চাহিদা: একটি অর্থনীতিতে বিদ্যমান বেকারদের মধ্যে যারা সরকারের নিকট থেকে বেকার ভাতার দাবি করেছে, তাকে বলা হয় বেকার ভাতার চাহিদা বা Jobless Claims। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এটি পরিমাপ করা হয় সাপ্তাহিক ভিত্তিতে, অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে তা হয় মাসিক ভিত্তিতে।

Non-farm payrolls (NFP): একটি অর্থনীতিতে বিদ্যমান কর্মরত শ্রমিকদের সেই সংখ্যা, যারা বিশেষ করে কৃষিখাতের সাথে জড়িত নন তাদের সমষ্টিকে বলা হয় Non-farm payrolls বা NFP রিপোর্ট। এই প্রতিবেদনে সেই সকল শ্রমিকদেরকে তুলে ধরা হয়না যারা বিভিন্ন এনজিও, গৃহস্থলীর কর্মে নিয়োজিত, এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থাগুলোতে কর্মরত। এখানে মনে রাখতে হবে যে, একটি দেশের কর্মসংস্থানের অবস্থার সামগ্রিক চিত্র থেকে এই সকল খাতে কর্মরত ব্যক্তিদেরকে সরিয়ে চিত্রটির দিকে লক্ষ্য করলে সেই দেশের অর্থনীতিতে বিদ্যমান কর্মসংস্থানের গড় সুযোগের স্বাস্থ্যের অবস্থাকে ভালোভাবে তুলে ধরা যায়। যা আবার অন্যদিকে, সেই দেশের ভোক্তাদের দ্বারা কৃত ব্যয়ের বিষয়েও ভালো ধারণা প্রদান করে।

মুদ্রাস্ফীতি:

একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের অর্থনীতিতে বিদ্যমান পণ্য এবং সেবার মূল্যমানের পরিবর্তনই হলো মুদ্রাস্ফীতি। কেন্দ্রীয়ব্যাঙ্কগুলো খুব ভালোভাবে এই ব্যপারটিকে দেখে কারণ, মুদ্রাস্ফীতির উপরে নির্ভর করে সেই দেশের মুদ্রার মানের অবস্থা। সাথে এই মুদ্রাস্ফীতি প্রভাব বিস্তার করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগের উপরেও।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একটি দেশের অর্থনীতিতে যদি মুদ্রাস্ফীতির হার বেশি থাকে তাহলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যে সকল প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ নিয়েছে তারা তাদের ঋণদাতাকে পূর্বের চেয়ে কম হরে অর্থের পরিশোধ করবে। অন্যদিকে, সেই দেশের ভোক্তারা তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যকে ক্রয় করতে গিয়ে পূর্বের চেয়ে অধিক হরে অর্থ ব্যয় করবে। তাছাড়া, মুদ্রাস্ফীতির হার ধারাবাহিকভাবে কম থাকলে তা শ্রমিকদের মজুরির উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, ফলে স্তিমিত হয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা। 

মুদ্রাস্ফীতির হার: একটি অর্থনীতিতে বিদ্যমান মুদ্রাস্ফীতির হার হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে সেই দেশের অর্থনীতিতে পণ্য বা সেবাসমূহের মূল্যমানের পরিবর্তন। তাছাড়া, আর এক ধরণের হার আছে যাকে মূল মুদ্রাস্ফীতি বা Core Inflation বলা হয়। এটিতে, গণনা করতে গিয়ে মূল্যমানের উঠানামার দিক থেকে ভারসাম্যহীন পণ্যগুলোকে বাদ দিয়ে তা গণনা করা হয়।

Consumer price index (CPI): মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপ করার সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যবস্থা হলো সেই অর্থনীতিতে বিদ্যমান Consumer price index বা CPI পরিমাপ করা। এটি হলো নির্ধারিত কিছু পণ্য সেবার মূল্যমানের মধ্যেকার পরিবর্তনকে গণনা করা। সাধারণত তা করা হয় মাসিক ভিত্তিতে।

Personal consumption expenditure (PCE): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয়ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিসার্ভ এর সেই দেশের অর্থনীতিতে বিদ্যমান মুদ্রাস্ফীতির হার যাঁচাই করার জন্যে নির্ধারিত কিছু ইনডিকেটরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ইনডিকেটর হলো Personal consumption expenditure বা PCE। CPI এবং PCE এর মধ্যেকার পার্থক্য হলো যে, PCE’তে একটি পণ্য বা সেবার পূর্বেকার মূল্যমানে পরিবর্তন জনিত কারণে ভোক্তাদের আচার ব্যবহারের মধ্যেকার পরিবর্তনও গণনা করা হয়, যা CPI পদ্ধতিতে করা হয় না। 

বাণিজ্য:

বাণিজ্যিক ভারসাম্য: একটি দেশের মোট আমদানি এবং মোট রপ্তানির অবস্থাই হলো বাণিজ্যিক ভারসাম্য বা Trade Balance। উদ্বৃত বা Surplus এর অর্থ হলো যে আমদানির চেয়ে রপ্তানির পরিমানই বেশি। অন্যদিকে, ঘাটতি বা Deficit এর অর্থ হলো যে, রপ্তানির চেয়ে আমদানির পরিমান বেশি।

ফরেক্স ট্রেডাররা এই তথ্যের উপরে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন কারণ, সেই দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তির বিষয়ে খবর প্রদান করার পাশাপাশি একটি দেশের পণ্য বা সেবাসমূহের প্রতি কোন কোন দেশ থেকে চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে তার খবরও পাওয়া যায় এর দ্বারা। 

ব্যবসা: 

উপরে দেয়া GDP’র সূত্রের মাধ্যমে আপনি অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন যে, ব্যবসা সেই সূত্রের বিনিয়োগ অংশকে তুলে ধরে। তাই ব্যবসায়িক খাতের কর্মতৎপরতা একটি দেশের কেন্দ্রীয়ব্যাঙ্ক এবং ফরেক্স ট্রেডারদের জন্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।  

Purchasing managers index (PMI): ব্যবসায়িক অঙ্গনে আস্থাজনিত সমীক্ষার মতো PMI হলো উৎপাদক পর্যায়ে ক্রয় ব্যবস্থাপকদের উপরে পরিচালিত সমীক্ষা। এই সমীক্ষায় তাদেরকে যে ধরণের প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় তা হলো, নতুন ক্রয় আদেশের সম্ভাব্য অবস্থা, কর্মসংস্থান, উৎপাদন, এবং যোগানের অবস্থা। এই সমীক্ষার ফলাফল হিসেবে প্রাপ্ত সংখ্যা ৫০.০ বা তার অধিক থেকে থাকে তাহলে তা অবশ্যই একটি অর্থনীতির ভবিষ্যতের বিষয়ে সম্প্রসারণের বিষয়টিকে তুলে ধরে। অন্যদিকে, ৫০.০ এর নিচের কোনো সংখ্যা প্রতিনিধিত্ব করে সংকোচনের।

Industrial/Manufacturing production: উপরে উল্লিখিত PMI সমীক্ষা প্রতিবেদন হলো ক্রয় ব্যবস্থাপকদের দ্বারা প্রদত্ত মতামত। কিন্তু Industrial/Manufacturing production প্রতিবেদন হলো শিল্প বা উৎপাদনখাতের কৃত কর্মকান্ডের বাস্তবিক তৎপরতার হাল। 

Durable goods orders: যেসকল পণ্য নূন্যতম তিন বছর স্থায়ী হয় সেই সকল পণ্যের প্রতি চাহিদার অবস্থাকে তুলে ধরে এই প্রতিবেদন। এর মাধ্যমে বুঝা যায় যে, আগামী দিনগুলোতে সেই দেশটির ঐ খাতের অবস্থা কেমন যাবে।

ভোক্তা:

উপরে উল্লিখিত GDP’র সূত্রের মাধ্যমে আপনারা অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন যে, ভোক্তা হলো এই সূত্রের ভোগ অংশের প্রতিনিধিত্বকারী। ভোক্তাদের একটি চাকুরী এবং ভালো আয়ের উৎস থাকতে পারে, কিন্তু তা থাকা সত্ত্বেও যদি অর্থনীতির ভবিষ্যতের বিষয়ে তারা আশাবাদী না হন তাহলে তারা হয়তো প্রয়োজনের চেয়ে কম হরে ব্যয় করবেন। 

Retail sales: একটি দেশের ভোক্তাদের দ্বারা কৃত ক্রয়ের একটি সামগ্রিক পরিমান হলো খুচরা বিক্রয়। মূল খুচরা বিক্রয় এই হিসেব থেকে মূল্যমানের দিক থেকে ভারসাম্যহীন পণ্যগুলো যেমন জ্বালানি তেল এবং মৌসুমী খাদ্যগুলোকে বাহিরে রাখে। এই প্রতিবেদনের বিস্তারিত বিবরণ একটি দেশের উৎপাদন খাতের সেই সকল অংশগুলোকে তুলে ধরে যেই সকল খাতগুলো সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে।

Consumer confidence: ব্যবসায়ের মতোই একটি দেশের অর্থনীতির বিষয়ে ভোক্তাদের ভবিষ্যৎ আশা/নিরাশাবাদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন ভোক্তারা যদি মনে করেন যে, আগামী দিনগুলোতে তাদের হাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পূর্বের চেয়ে কম হরে থাকবে তাহলে তারা নিশ্চয়ই এই মুহূর্ত থেকেই পণ্য বা সেবা ক্রয় করার পরিমান কমিয়ে দিবেন।

গৃহায়নখাত:

একটি দেশের গৃহায়নখাত সেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সরাসরি প্রভাবিত না করলেও, তা আগামী দিনগুলোতে সেই দেশের অর্থনীতিতে বিদ্যমান ভোক্তাদের দ্বারা কৃত ব্যয়, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, এবং মুদ্রাস্ফীতির অবস্থা সম্পর্কে একটি ভালো ইঙ্গিতবাহী হতে পারে।

গৃহনির্মাণের অনুমতিপত্র (Building Permits): একটি দেশের সরকার বা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ দ্বারা নতুন করে গৃহ নির্মাণের অনুমতি প্রদানের মাধ্যমে বুঝা যায় যে আগামী দিনগুলোতে সেই দেশের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান এবং গৃহায়ন বা নির্মাণ খাতের দ্বারা সৃষ্ট কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগের পরিমান কি রকম হতে যাচ্ছে।

গৃহ নির্মাণ শুরু (Housing Starts): নতুন করে নির্মিত গৃহায়ন প্রকল্পগুলোর মোট সংখ্যা। সাধারণত এটি গৃহনির্মাণের অনুমতিপত্রের হিসেব সম্বলিত প্রতিবেদনের সাথে প্রকাশ করা হয়।

গৃহায়ন খাতের বিক্রয়ের পরিমান (Home Sales): একটি নির্দিষ্ট সময়কালে একটি অর্থনীতিতে নতুন অথবা পুরাতন গৃহের বিক্রয়ের পরিমান সম্বলিত তথ্যের প্রতিবেদনকেই বলা হয় গৃহায়ন খাতে বিক্রয়ের পরিমান সম্পর্কিত প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদনটি সাধারণত মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হয় এবং গৃহায়ন খাতে চলমান ট্রেন্ডের দিকে ইঙ্গিত করে।

বন্ধকী ঋণের অনুমোদন (Mortgage Approvals): একটি দেশের গৃহায়ন খাতের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার দ্বারা জারিকৃত বন্ধকী ঋণের পরিমান, যা ক্রেতাদেরকে তাদের দ্বারা কৃত আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রদান করা হয়, তা এই খাতে আগামী দিনগুলোতে ক্রয়-বিক্রয়ের অবস্থা কি রকম হতে যাচ্ছে তার দিকে ধারণা প্রদান করে। যদি কোনো নির্দিষ্ট সময়কালে প্রত্যাশার চেয়ে অধিক হরে বন্ধকী ঋণের অনুমোদন প্রদান করা হয় তাহলে তা আগামী দিনগুলোতে অর্থনীতির সম্ভাবনাময় হওয়ার দিকে ইঙ্গিত দেয়।

গৃহের মূল্য সম্পর্কিত সূচক (House Price Index): একটি পরিবারের বসবাসের জন্যে নির্মিত একটি বাড়ির মূল্যমানে একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি ধরণের পরিবর্তন এসেছে তা যে সূচকের মাধ্যমে জানা যায় তাকেই বলে গৃহের মূল্য সম্পর্কিত সূচক (House Price Index)।  তবে, এখানে মনে রাখতে হবে যে, এই প্রতিবেদনে নতুন নির্মিত গৃহের পরিমান সম্পর্কিত বিষয়াদি সাধারণত অন্তর্ভুক্ত থাকে না, এবং এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় গৃহায়ন খাতের প্রতি ভোক্তাদের চাহিদার দিকে ইঙ্গিত দেয়।

কেন্দ্রীয়ব্যাঙ্ক সম্পর্কিত সংবাদ:

উপরে উল্লিখিত প্রতিটি প্রতিবেদন একটি দেশের অর্থনীতির বিষয়ে চাহিদার পক্ষের কথা বলে। অর্থাৎ, একটি দেশের অর্থনীতির একটি নির্দিষ্ট সময়ে সেই দেশের মুদ্রার চাহিদার প্রতি। কিন্তু এই পর্বের আলোচনায় আমরা কেন্দ্রীব্যাঙ্কের কর্মকান্ড বা সিদ্ধান্ত সম্বলিত সংবাদের কথা বলবো, যা সেই মুদ্রার যোগানের বিষয়ে আপনাদেরকে ধারণা দিবে।

সুদের হার (Interest Rate): একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নিকট মুদ্রানীতি সম্পর্কিত যেসকল নিয়ন্ত্রণকারী টুল বা হাতিয়ার রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হলো স্বল্পমেয়াদে সুদের হারকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা। এখানে মনে রাখতে হবে, একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যমান সুদের হার যদি কম হয় তাহলে তা বিনিয়োগকারীদেরকে উৎসাহিত করবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হরে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে। ফলে সম্প্রসারিত হবে দেশটির অর্থনীতি। অন্যদিকে, সুদের হার যদি বৃদ্ধি করা হয় তাহলে তা বিনিয়োগকারীদেরকে নিরুৎসাহিত করবে প্রয়োজনের চেয়ে কম হরে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে। ফলে, সঙ্কুচিত হবে দেশটির অর্থনীতি।

ফরেক্স ট্রেডাররা সুদের হার সম্পর্কিত যেকোনো সংবাদকে গ্রহণ করেন অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে, কারণ ফরেক্স জগতে ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে লাভবান হওয়ার এক অন্যতম উপায় হলো দুইটি অর্থনীতির মধ্যে বিদ্যমান সুদের হারের পার্থক্যকের সুযোগ নিয়ে মুদ্রা এক অর্থনীতিতে থেকে বের করে সুদের বেশি থাকা অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করে স্বল্প সময়ে লাভ করা।

কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের বৈঠকের বিবরণ (Meeting Minutes): এটি একটি প্রতিবেদন জেটিতে উল্লেখ থাকে যে কেন্দ্রীয়ব্যাঙ্কের সর্বশেষ মুদ্রানীতি সম্পর্কিত নীতিনির্ধারণী বৈঠকে কর্তাব্যক্তিরা কি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, এবং সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো যে, সেই সিদ্ধান্ত তারা কেন গ্রহণ করেছিলেন? এই প্রতিবেদন পাঠ করার মাধ্যমে একজন ফরেক্স ট্রেডের জানতে পারবেন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কর্তাব্যক্তিদের মনের হাল।

রক্ষিত অর্থের পরিমান (Required reserve ratio): একটি দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলোর দ্বারা সেই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নিকট জামানত হিসেবে রক্ষিত অর্থের পরিমান হলো এটি। এই রেশিও কম বা বৃদ্ধি মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ব্যাঙ্ক সেই দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদানের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

সংখ্যাগত শৈথিল্য (Quantitative easing): এটি আর এক নামে পরিচিত এবং তা হলো “ক্রয়।” একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের দ্বারা সেই দেশের অর্থনীতিতে মুদ্রা সরবরাহের পরিমাণকে প্রভাবিত করার জন্যে যখন সরকারি সম্পদ যেমন ট্রেজারী বন্ড ক্রয় বা বিক্রয় করা হয় তখন তাকে বলা হয় সংখ্যাগত শৈথিল্য। ট্রেজারী বন্ড ক্রয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক অর্থনীতিতে মুদ্রার যোগান বৃদ্ধি করে। অন্যদিকে, তা বিক্রয়ের দ্বারা কমে আসে মুদ্রার সরবরাহ।

আমার পছন্দের ব্রোকার এর সাইট ভিজিট করতে – https://bit.ly/2lQ7WbM

Facebook Comments

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.