G20: মার্কিন-চীন বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের পূর্বে অনেক বাধা বিপত্তি পার করতে হবে

0
119 views
G20: মার্কিন-চীন বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের পূর্বে অনেক বাধা বিপত্তি পার করতে হবে
G20: মার্কিন-চীন বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের পূর্বে অনেক বাধা বিপত্তি পার করতে হবে

MarketDeal24.com – জাপানের ওসাকা শহরে সদ্যসমাপ্ত G20 ভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার চীনা প্রতিপক্ষ শি জিংপিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের মাধ্যমে আপাত দৃষ্টিতে দুই দেশের মধ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে সাময়িকভাবে বিরাম লাগলেও এর স্থায়িত্ব নির্ভর করছে পুনরায় এই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আর একটি বাণিজ্য যুদ্ধ চালু না হওয়ার উপরে। সামনের দিনগুলোতে এই দুই দেশ পরস্পর পরস্পরের পণ্যের উপরে শুল্ক আরোপ করবে না, এই মর্মে আশাবাদী হওয়ার জন্যে প্রয়োজন উভয় পক্ষের নিকট থেকে আরো কিছু দৃশ্যমান এবং ইতিবাচক উদ্যোগের।

বিশ্বের দুইটি প্রধান অর্থনীতির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের রাষ্ট্রপ্রধানেরা একটি বৈঠকের মাধ্যমে বিশ্ববাজারকে অনেকটা আশাবাদী করলেও যেসকল কারণে গত মে মাসে উভয় দেশের প্রশাসনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ক আলোচনা ভাঙ্গে, সেই ব্যপারে উভয় পক্ষের বর্তমান অবস্থান জনসম্মুখে প্রচারিত হয়নি। তাই বিশ্লেষকদের মতে, আর একটি আলোচনার ক্ষেত্রে ভাঙ্গন এড়ানোর জন্যে প্রয়োজন উভয়পক্ষের উদ্যোগী হওয়া। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্যমতে, চীন কর্তৃক পূর্বের চেয়ে অধিক পরিমানে মার্কিন কৃষিজাত পণ্য আমদানি করার প্রতিশ্রুতি প্রদান এবং তার বিনিময়ে নতুন করে চীনা পণ্যের উপরে মার্কিন প্রশাসন কর্তৃক শুল্ক আরোপ না করার ঘোষণা গত ডিসেম্বর মাসে দুই দেশের সরকারের মধ্যে আসা সমঝোতা থেকে খুব একটা ভিন্ন নয়, যা অন্যদিকে গত মে মাসে আলোচনার ভাঙ্গন এড়াতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়।

মার্কিন-চীন বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের পূর্বে বেশ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে

এই পর্বের আলোচনাকে যদি সফল হতে হয় তাহলে জনসম্মুখে কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে উভয় পক্ষকে তাদের স্ব স্ব অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে, যেমন প্রযুক্তি খাত, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চীনের সরকারের দ্বারা সরবরাহকৃত ভর্তুকি, মেধাস্বত্ত্বাধিকারের সংরক্ষণ, এবং যেকোনো চুক্তিকে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করার জন্যে একটি নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। তাই যেহেতু উভয় নেতার বক্তব্য এবং মার্কিন প্রশাসন কর্তৃক জারি করা বিবৃতিতে ঐ সকল বিষয়ের সমাধানের লক্ষ্যে গৃহীত কোনো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়নি, তাই উভয় দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের পূর্বে অতি আশাবাদী হওয়ার পূর্বে বেশ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে চীনা মুঠোফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Huawei’র ব্যপারে বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কিত আলোচনার শেষের দিকেও সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক চীনা এই প্রতিষ্ঠানটির সাথে সীমাবদ্ধ আকারে ব্যবসা করার অনুমতি প্রদান করা হলেও তা অবশ্যই হতে হবে যুক্তরাষ্টের জাতীয় নিরাপত্তা অবকাঠামোর মধ্যে থেকে। তবে, দিনের শেষে কোন বিষয় এই নিরাপত্তা অবকাঠামোর মধ্যে পড়ে এবং কোন কোন বিষয় মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি, তা সংজ্ঞায়িত করার দায়িত্ব থেকে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসনের হাতে।

তাই পরিস্থিতি দেখে এই মুহূর্তে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক যে সকল কথা বলা হয়েছে তা Huawei অথবা চীনের অন্যান্য আরও সাতটি প্রতিষ্ঠান, যে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর উপরে মার্কিন প্রশাসন কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তাদের বিষয়কে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে না।

এই মতামত প্রবন্ধের শেষে এটি উল্লেখ করা বাঞ্চনীয় যে, G20 সম্মেলনে দুই দেশের নেতাদের মধ্যেকার বৈঠক Huawei এর ব্যপারে স্পষ্ট দিক নির্দেশনা দিতে পারেনি। তাই আগামী দিনগুলোতে পুনরায় মার্কিন-চীন বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ক আলোচনা ভাঙ্গনের শিকার হবেনা তা বিশ্বাস করা কঠিন।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.