US CHINA TRADE WAR | মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ: জানা অজানা কথা | পর্ব ২

2
189 views
US CHINA TRADE WAR Part -2

MarketDeal24.Com – US CHINA TRADE WAR চীনের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ ১৯৮০’র দশক থেকেই বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের সাথে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতিকে কমিয়ে আনার পক্ষে। যা তার ভাষ্যমতে, করতে হবে অন্যান্য দেশগুলোর পণ্যের উপরে অতিরিক্ত শুল্কের আরোপের মাধ্যমে। ফলে, বৃদ্ধি পাবে দেশীয় উৎপাদন।

২০১১ সালের দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “যেহেতু চীন তার মুদ্রা ইউয়ান’কে কৃত্রিমভাবে মূল্যমানে কমিয়ে রেখেছে, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”

২০১৭ সালে চীনের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল $336 বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এবং দেশটির সর্বমোট বাণিজ্য ঘাটতির পরিমান ছিল $566 বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

US CHINA TRADE WAR

US CHINA TRADE WAR
US CHINA TRADE WAR

প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরে চীনা পণ্যের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের ব্যপারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, “চীন অনৈতিক বাণিজ্যিক কর্মকান্ডের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ক্ষতির সম্মুখীন করছে।” শুধু তাই নয়, চীনা পণ্যের উপরে শুল্ক আরোপের পরে ট্রাম্প একটি নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “US CHINA TRADE WAR অতীতে যে সকল বোকা লোকদের দ্বারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা হয়েছিল, তাদের দ্বারাই বাণিজ্য যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হেরেছে।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো উল্লেখ করেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাৎসরিক বাণিজ্যিক ঘাটতির পরিমান হলো $500 বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এর মধ্যে শুধু মেধাস্বত্ব অধিকার খর্ব করার কারণেই ক্ষতির পরিমান হলো $300 বিলিয়ন ডলার।”

এই সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক এন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিস এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জেমস অ্যান্ড্রু লেভিস বলেন, “চীনের দ্বারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যগুলোর মেধাস্বত্ব খর্ব করা হচ্ছে গোয়েন্দাগিরি, চুরি, এবং বাধ্যতামূলকভাবে প্রযুক্তির হস্তান্তরের মাধ্যমে, কারণ চীনে বিনিয়োগ করার জন্যে প্রয়োজন বাধ্যতামূলকভাবে যৌথ অংশীদারিত্বের ব্যবসা।” তার মতে, মেধাস্বত্বের অধিকার খর্ব করার দরুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে তা বাৎসরিক অতিরিক্ত $225 বিলিয়ন থেকে $600 বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি করছে।

এখানে উল্লেখ করা বাঞ্চনীয় যে, প্রযুক্তিকে ধরা হয় মার্কিন অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে। তাই প্রযুক্তি দেশটির জন্যে অনেক গুরুত্ব বহন করে।

এই সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিনিধি রবার্ট ই. লইথিজির বলেন, “বাধ্যতামূলকভাবে প্রযুক্তির হস্তান্তর এবং রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদের মাধ্যমে চীন প্রযুক্তি সম্পর্কিত জ্ঞান আহরণ করেই চলেছে।” ফলে, ২০১৮ সালের প্রথম দিক থেকে ট্রাম্প প্রশাসন উদ্যোগ নিতে থাকে যেন, চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্রয় না করতে পারে। এবং অন্যদিকে, একটি নতুন বাজারে প্রবেশের খরচ হিসেবে যেন প্রযুক্তি সম্পর্কিত জ্ঞান মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো চীনকে প্রদান না করে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

জোশ রোগিং নামক একজন বিশ্লেষকের মতে, “বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যপদ লাভের সময়ে আমরা ভেবে ছিলাম চীনে একটি বেসরকারি অর্থনীতি গড়ে উঠবে যা বাণিজ্য সংস্থার নিয়মনীতি মেনে চলবে, কিন্তু চীনের শাসকগণ তার ঠিক বিপরীত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ফলে, একজন আমাদেরকে আমাদের প্রতিক্রিয়া দেখতে হবে।”

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার একজন সাবেক পরিচালক কেইথ বি. আলেক্সান্ডার, “চীন দ্বারা শিল্প-উৎপাদন খাতের গোয়েন্দাগিরি হলো বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বৃহৎ প্রযুক্তির হস্তান্তর।”

২০১৮ সালের মার্চে চীনা স্টিল এবং এলুমিনিয়ামের উপরে শুল্ক আরোপের সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “বাণিজ্য যুদ্ধ খুবই ভালো, জেতা খুবই সহজ।” কিন্তু যুদ্ধটি দীর্ঘ সময় ধরে চলমান থাকার সকল লক্ষণ প্রকাশ করায় একই বছরের আগস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমি কখনোই বলিনি যে চীনের সাথে এই যুদ্ধটি সহজ হতে যাচ্ছে।”

চীনের বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান কমিশনের অভিযোগ

২০১৮ সালে ইউরোপিয়ান কমিশন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিকট চীনের অনৈতিক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। ঐ অভিযোগে বলা হয়, চীনে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার জন্যে সেই দেশের একজন নাগরিকের সাথে একটি যৌথ প্রযোজনায় আসতে হয়। ফলে, তারা মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশীয় কাজে পণ্য উৎপাদন করতে পারে। শুধু তাই নয়, সরকারের পক্ষ থেকে করের বিষয়ে বিভিন্ন ধরণের সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্যে চীনের আইন হলো সেই দেশে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা যেমনটি করতে হয় ইলেকট্রিক মোটরযান শিল্পে।

তাই ইউরোপিয়ান কমিশন মনে করে যে, এই ধরণের অনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম ভঙ্গ করে চলেছে।

চীনের প্রতিক্রিয়া এবং প্রতি অভিযোগ

এই সম্পর্কে চীনা সরকারের মন্তব্য হলো যে, প্রযুক্তির হস্তান্তর চীনা আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু অন্যদিকে, দেশটির সরকার চীনা অর্থনীতির উন্নয়নের জন্যে সেই দেশে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব শিকার করে। এদিকে, চলমান ২০১৯ সালের মার্চ মাসে গণচীনের আইনসভা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস একটি আইন পাশ করে ফলে, ২০২০ সাল থেকে দেশটিতে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির বাধ্যতামূলক হস্তান্তর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বারা শুরু কৃত বাণিজ্য যুদ্ধের বিষয়ে চীন সরকার বলে, এই ধরণের কার্যক্রমের দ্বারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য বিষয়ক আলোচনা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। চীনা সরকারের পক্ষ থেকে আরো বলা হয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা শুরু করা এই যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য হলো চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে থামিয়ে দেয়া।

US CHINA TRADE WAR | মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ: জানা অজানা কথা | পর্ব

OPEN FOREX DEMO ACCOUNT

Facebook Comments

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.