US CHINA TRADE WAR | মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ: জানা অজানা কথা | পর্ব ৪

1
121 views
US CHINA TRADE WAR | মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ: জানা অজানা কথা | পর্ব ৪
US CHINA TRADE WAR | মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ: জানা অজানা কথা | পর্ব ৪

MarketDeal24.Com – মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ সম্পর্কিত আমাদের সংবাদ প্রবন্ধের ধারাবাহিক পর্বগুলোর মধ্যে এটি হলো চতুর্থ পর্ব। এই পর্ব বিশ্লেষণধর্মী হচ্ছে না; বরং একটি বিশ্লেষণের উদ্যোগকে সফল করার জন্যে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে ওয়াকিবহাল হওয়া। তাই শেষ পর্বের চূড়ান্ত বিশ্লেষণের পূর্বে আমরা এই পর্বে চেষ্টা করেছি মার্কিন-চীন চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোকে দিনওয়ারীভাবে আপনাদের নিকট উপস্থাপন করতে। যা নিম্নে আলোচনা করা হলো:

মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের রোজনামচা

সময়কাল: ২০১৮ – ২০১৯ 

জানুয়ারী ২২, ২০১৮

সোলার প্যানেল এবং ওয়াশিংমেশিনের উপরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত সোলার প্যানেলের ৮% আমদানি করা হয়েছিল চীন থেকে। তাছাড়া, চীন থেকে আমদানিকৃত ওয়াশিংমেশিনের মোট মূল্যমান দাঁড়ায় $1.1 বিলিয়ন ডলার (২০১৫)।

মার্চ ১, ২০১৮

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইস্পাত এবং এলুমিনিয়াম পণ্যের উপরে শুল্কের ঘোষণা করেন। যা প্রযোজ্য হবে বিশ্বের প্রতিটি দেশের উপরে। যুক্তরাষ্ট্র তার ব্যবহৃত এলুমিনিয়ামের ৩% আমদানি করে চীন থেকে।

মার্চ ২২, ২০১৮

$50–60 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের চীনা পণ্যের উপরে শুল্ক আরোপ করে যায় কি না তা যাচাই করার জন্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরকে নির্দেশ প্রদান করেন। আর তা করতে গিয়ে ট্রাম্প নির্ভর করেন বাণিজ্য আইন – ১৯৭৪ এর ৩০১ ধারার উপরে। শুল্কের আরোপের বিষয়ে তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, “এটি করা হচ্ছে চীনের অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে।” ফলে, চীন দ্বারা রপ্তানিকৃত ১,৩০০ ধরণের পণ্যসামগ্রী সম্ভাব্য এই শুল্কের আওতায় চলে আসে।

এপ্রিল ২, ২০১৮

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতিক্রিয়া হিসেবে ১২৮ ধরণের মার্কিন পণ্যসামগ্রীকে শুল্কের আওতায় নিয়ে আসে যার মধ্যে রয়েছে এলুমিনিয়াম, উড়োজাহাজ, মোটরযান, শূকর, এবং সয়াবিন (২৫% হারে শুল্ক)। তাছাড়া, ফল, বাদাম, এবং ইস্পাতের পাইপ (১৫%)। এই সম্পর্কে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস বলেন, “চীনের দ্বারা আরোপিত এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের মোট জিডিপি’র ০.৩% কে প্রভাবিত করবে। ট্রাম্প, অন্যদিকে, ৫ এপ্রিল ঘোষণা করেন যে, তার প্রশাসন আরো $100 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের চীনা পণ্যের উপরে শুল্ক আরোপের কথা চিন্তা করছে।

মে ১৫, ২০১৮

চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী লিউ হি বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন বিষয়ক আলোচনার জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন সফর করেন।

মে ২০, ২০১৮

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতিকে উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার জন্যে চীনা কর্মকর্তারা তাদের সম্মতি প্রদান করেন। যা, তাদের ভাষ্যমতে, করা হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বৃদ্ধির মাধ্যমে। ফলে, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুঞ্চিন বলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আপাতত এই যুদ্ধকে স্থগিত রাখবে।”

মে ২১, ২০১৮

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, “চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য হারে কৃষিজাত পণ্য ক্রয় করার বিষয়ে তার সম্মতির কথা জানিয়েছে। তবে, পরে তিনি বলেন যে, “এই ক্রয়ের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার অবস্থায় কার্যকর করা হবে।

মে ২৯, ২০১৮

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় যে, $50 বিলিয়ন মূল্যমানের ৰতিরিক্ত চীনা পণ্যের উপরে ২৫% হারে শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে, এই সিদ্ধান্তের আওতায় কোন ধরণের পণ্যগুলো থাকবে তা ঘোষণা করা হবে ১৫ জুন। তাছাড়া, ঐ ঘোষণায় আরো বলা হয় যুক্তরাষ্ট্রে চীনের দ্বারা কৃত বিনিয়োগের উপরেও আরোপিত হবে নানা ধরণের বিধিনিষেধ।

জুন ১৫, ২০১৮

ট্রাম্প ঘোষণা করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে $50 বিলিয়ন মূল্যমানের ৰতিরিক্ত চীনা পণ্যের উপরে ২৫% হারে শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে $34 বিলিয়ন মূল্যমানের পণ্যের উপরে শুল্ক আরোপ করা হবে জুলাই মাসের ৬ তারিখ থেকে এবং আরো $16 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের পণ্যের উপরে শুল্ক আরোপিত হবে অন্য এক সময়ে। প্রতিক্রিয়া হিসেবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে অভিযুক্ত করে এবং একই ধরণের শুল্কের আরোপের মাধ্যমে প্রতিশোধ নেবার কথা জানায়। এই সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে যে, তারা আরো অতিরিক্ত $200 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের চীনা পণ্যের উপরে ২৫% হারে শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে। 

জুন ১৯, ২০১৮

চীন প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং $50 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের চীনা পণ্যের উপরে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোর ব্যবসায়িক মহল দুশ্চিন্তা করতে থাকে যে, এই যুদ্ধের দরুন অনেক দেশের সাপ্লাই চেইন নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে।

জুলাই ৬, ২০১৮

$34 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের চীনা পণ্যের উপরে আরোপিত শুল্ক প্রযোজ্য হয়। প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রায় একই মূল্যমানের মার্কিন পণ্যের উপরে চীন শুল্ক আরোপ করে। এই শুল্কগুলো অবশ্য সামগ্রিক বিশ্বের মোট জিডিপি’র ০.১%। জুলাই মাসের ১০ তারিখে চীন $200 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের চীনা পণ্যের উপরে ১০% হারে শুল্কের সিদ্ধান্তে পণ্যের তালিকা প্রকাশ করে। দুই দিন পর চীন $60 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের মার্কিন পণ্যের উপরে শুল্ক আরোপের ঘোষণা করে।

আগস্ট ৮, ২০১৮

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ২৭৯টি চীনা পণ্যের একটি তালিকা প্রস্তুত করে, যার মোট মূল্যমান $16 বিলিয়ন ডলার, যার উপরে আগস্ট মাসের ২৩ তারিখ থেকে ২৫% হারে শুল্ক আরোপ করা হবে। প্রতিক্রিয়া হিসেবে চীন $16 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের মার্কিন পণ্যের উপরে ২৫% হারে শুল্ক আরোপ করে।

আগস্ট ১৪, ২০১৮

চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিকট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে যে, সোলার প্যানেলের উপরে দেশটির দ্বারা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত চীনের বাণিজ্যিক শার্টের উপরে আঘাত এনেছে। 

আগস্ট ২২, ২০১৮

মার্কিন উপবাণিজ্যমন্ত্রী ডেভিড মালপাস এবং চীনের উপমন্ত্রী ওয়াং সৌওয়েন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে বাণিজ্য বিষয়ক আলোচনা পুনরায় চালুর করার জন্যে মিলিত হন। ইতিমধ্যে, আগস্টের ২৩ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন, পরস্পর পরস্পরের $16 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের পণ্যের উপরে আরোপ করা শুল্ক প্রযোজ্য হয়ে যায়। ২৭ আগস্ট চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিকট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কর আরোপের জন্যে নতুন করে একটি অভিযোগ দায়ের করে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮

$200 বিলিয়ন মূল্যমানের চীনা পণ্যের উপরে ১০% হারে আরোপিত শুল্কের পরিমাণকে তা থেকে উন্নীত করে ২৫% করার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এবং যা প্রযোজ্য হতে যাচ্ছে একই মাসের তারিখ থেকে। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের কারণে যদি চীন সরকার কোনো ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখায় তাহলে আরো অতিরিক্ত $267 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের চীনা পণ্যের উপরেও শুল্ক আরোপের হুমকি প্রদান করে ট্রাম্প প্রশাসন। চীন অবশ্য তার প্রতিক্রিয়া দেখায় ১৮ তারিখে, $60 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের মার্কিন পণ্যের উপরে ১০% হারে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে। তখন পর্যন্ত চীনের পক্ষ থেকে মোট $110 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের পণ্যের উপরে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়া হয় অথবা বাস্তবিকভাবে তা প্রযোজ্য করা হয় এবং চীনের দ্বারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত মোট পণ্যের সিংহভাগ।

নভেম্বর ১০, ২০১৮

ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক পিটার নাভারো এই বলে অভিযোগ করেন যে, দেশটির কিছু ধনকুবেরেরা চীনা সরকারের পক্ষ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের নিকট তদবির করে যাচ্ছে।

নভেম্বর ৩০, ২০১৮

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-মক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির দ্বিতীয় সংস্করণের উপরে তার স্বাক্ষর করেন। ঐ চুক্তিতে রয়েছে একটি ধারা, ৩২.১০, যা চীনের মতো দেশকে ঐ চুক্তি থেকে সুবিধা নেয়ার অবস্থা থেকে বঞ্চিত করেছে।

ডিসেম্বর ১, ২০১৮

চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা শুল্ক এরপর সিদ্ধান্তকে আপাতত স্থগিত করা হয়। ঘোষণা আসবে স্থগিত থাকা বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন বিষয়ক আলোচনা পুনরায় চালু করার। যার মধ্যে থাকছে চীনের দ্বারা তার অর্থনীতিতে কাঠামোগত কিছু পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি যেমন প্রযুক্তির বাধ্যতামূলক হস্তান্তর বন্ধ, মেধাস্বত্ব অধিকার রক্ষা, অশুল্কমূলক বাধা দূর করা, এবং সাইবার অনুপ্রবেশ ও চুরি এড়ানো। এবং এই সকল পরিবর্তন কার্যকর করার শেষ দিন হিসেবে ধার্য্য করা হয় ১ মার্চ ২০১৯ তারিখকে। ব্যর্থতার অবস্থায় চীনা পণ্যের উপরে আরোপিত শুল্ককে ১০% থেকে উন্নীত করে ২৫% করার হুমকিও আসে।

ডিসেম্বর ৪, ২০১৮

নিউইয়র্ক ফেড এর প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস ঘোষণা করেন যে আগামী বছর, অর্থাৎ, ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি থাকবে খুবই শক্তিশালী। তিনি আরো বলেন যে, অর্থনীতির ভালো অবস্থাকে ধরে রাখার জন্যে কেন্দ্রীয়ব্যাঙ্ক কর্তৃক সুদের হারের মধ্যে বৃদ্ধি আনার কথা। তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি শক্তিশালী প্রেক্ষাপট, শক্তিশালী শ্রমবাজার, এবং মুদ্রাস্ফীতির হার লক্ষমাত্রার অনেক নিকটে থাকায় আমি মনে করি, সুদের হারের মধ্যে ধীরগতিতে আরো বৃদ্ধি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অব্যাহত রাখবে।

ডিসেম্বর ১১, ২০১৮

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, চীনের দ্বারা উল্লেখযোগ্য হারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন ক্রয় করার সিদ্ধান্ত। কিন্তু, মার্কিন বণিকরা এই সংবাদের কোনো সত্যতা খুঁজে পান নাই। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ছয়মাসে চীনের দ্বারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিনের আমদানি হ্রাস পেতে পেতে পূর্বের চেয়ে চারভাবের একভাগে নেমে আসে।

সময়কাল: ২০১৯ – ২০২০

মে ৫, ২০১৯

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে $200 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের চীনা পণ্যের উপরে অর্পিত শুল্কের হারকে ১০% থেকে বৃদ্ধি করে ২৫% এ উন্নীত করা হবে। 

মে ১৫, ২০১৯

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ নাম্বার ১৩৮৭৩ স্বাক্ষর করেন। ফলে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে বৈদেশিক শত্রূদের নিকট তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের দ্বারা উৎপাদিত পণ্যদ্রব্য রপ্তানি করা নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে। যদিও ঐ আদেশে নির্দিষ্ট করে কোনো রাষ্ট্র অথবা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয় নি, কিন্তু বাজারের বিশ্বাস হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐ আদেশের লক্ষ্য হলো চীন।

জুন ১, ২০১৯

$60 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের মার্কিন পণ্যের উপরে চীনের দ্বারা শুল্ক আরোপের ঘোষণা।

জুন ২৯, ২০১৯

জাপানের ওসাকা শহরে অনুষ্ঠিত G 20 ভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন যে, দীর্ঘ একটি আলোচনার পরে তিনি এবং তার চীনা প্রতিপক্ষ চলমান বাণিজ্য যুদ্ধে আপাতত বিরাম লাগানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। আপাতত দুই দেশ উভয়ের পণ্যের উপরে নতুন করে শুল্ক আরোপ করবে না। কিন্তু চীনা মুঠোফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Huawei মার্কিন প্রশাসনের কালো তালিকাভুক্ত থাকবে।

জুন ২৯, ২০১৯

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং এর সাথে একটি বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, চীন তার দেশ থেকে প্রচুর পরিমানে খাদ্যদ্রব্য এবং কৃষিজাত পণ্য ক্রয় করার বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করেছে। তবে, চীন সরকারের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণার খণ্ডন করা হয় এবং তার এক মাস পর পর্যন্ত চীন এই ধরণের কোনো ক্রয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে করেনি।

জুলাই ১১, ২০১৯

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে, চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি করছে। কারণ হিসেবে তিনি চীনের দ্বারা মার্কিন খাদ্যদ্রব্য এবং কৃষিজাত পণ্য ক্রয় ক্রয় না করার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তবে, চীনের সাথে বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ক আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির মতে, চীন এই ধরণের কোনো প্রতিশ্রুতি প্রদান করেনি।

জুলাই ১৭, ২০১৯

মার্কিন সরকার কর্তৃক জারিকৃত ট্রেজারী বন্ডের পরিমান কমানোর কথা ঘোষণা করে চীন সরকার। উল্লেখ্য, চীন সরকারের $1.1 ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে মার্কিন বন্ডখাতে। চীন সরকারের ঘোষণা মোতাবেক নিকট ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগের পরিমাণকে বর্তমান পর্যায়ের ২৫ ভাগে নামিয়ে আনা হবে।

আগস্ট ৫, ২০১৯

চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক দেশটির জাতীয় মুদ্রাকে তার মূল্যমানে ২% পর্যন্ত পড়ার অনুমতি প্রদান করে। 

আগস্ট ৫, ২০১৯

মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে চীনকে মুদ্রাবাজারে কারসাজকারী হিসেবে উল্লেখ করে। তবে, জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানায় যে, চীনের মুদ্রার মূল্যমান তার উচিত অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন মুদ্রা ডলার মূল্যমান তার ন্যায্য মানের চেয়ে বেশিতে অবস্থান করছে। তবে, চীন মুদ্রাবাজারে কারসাজি করার অভিযোগ অস্বীকার করে।

আগস্ট ৫, ২০১৯

চীন সরকার তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিজাত পণ্য আমদানি বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। যার মোট মূল্যমান হচ্ছে $20 বিলিয়ন মার্কিন ডলার। 

আগস্ট ১৩, ২০১৯

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বারা আরোপিত শুল্কের কোনো কোনো শুল্কের প্রযোজ্যতাকে স্থগিত করেন। $112 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের পণ্যের উপরে শুল্ক আরোপের দিন নির্ধারণ করা হয় সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখ এবং বাকি $160 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের পণ্যের উপরে শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা আসে ডিসেম্বর মাসে।

আগস্ট ২৩, ২০১৯: $75 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের মার্কিন পণ্যের উপরে চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনাম। যা প্রযোজ্য হবার কথা সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে।

আগস্ট ২৩, ২০১৯

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে দেয়া এক খুদে বার্তার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করার জন্যে চীনের বিকল্প খোঁজার আহ্বান জানান মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে। তবে, প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু সূত্রে জানা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐ বার্তার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। শুধু তাই নয়, আরো ঘোষণা আসে $250 ডলার মূল্যমানের চীন পণ্যের উপরে আরোপিত শুল্কের পরিমাণকে ২৫% থেকে ৩০% এ উন্নীত করার। যা প্রযোজ্য হবার কথা অক্টোবর মাসের ১ তারিখ থেকে। এবং, চীনের দ্বারা রপ্তানিকৃত পণ্যের মধ্যে অবশিষ্ট থাকা $300 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের পণ্যের উপরেও আরোপিত শুল্ককে ১০% থেকে বৃদ্ধি করে ১৫% এ উন্নীত করার ঘোষণা, যা প্রযোজ্য হতে যাচ্ছে ডিসেম্বর মাসের ১৫ তারিখ থেকে।

আগস্ট ২৬, ২০১৯

G7 ভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে চীনের পক্ষ থেকে মার্কিন আলোচকদের সাথে ফোনালাপের মাধ্যমে স্থগিত থাকা আলোচনা পুনরায় চালু করার জন্যে অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা আরোপিত আমদানি শুল্কের কারণে চীনা অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে, এই সম্পর্কে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র গেঙ শুয়াং বলেন, “তিনি এই ধরণের কোনো অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত নন।” কিছুদিন পর, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহযোগীরা স্বীকার করেন যে, এই ধরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি; বরং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশাবাদকে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন।

আগস্ট ২৮, ২০১৯

আমেরিকানস ফর ফ্রি ট্রেড, যা ১৬১টি বাণিজ্যিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহৎ স্বার্থগোষ্ঠী, তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি চিঠি প্রদানের মাধ্যমে আপাতত চীনা পণ্যের উপরে আরোপিত শুল্ককে বৃদ্ধি করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করে। পরেরদিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “নিজেদের ব্যার্থতাকে ঢাকতে এই সকল ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা আরোপিত শুল্ককে অভিযুক্ত করছে।”

সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯

দুপুর ১২টা ০১মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন দ্বারা পরস্পর পরস্পরের পণ্যের উপরে ঘোষিত আরোপিত শুল্ক প্রযোজ্য হয়। চীন কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত ৫,০৭৮ ধরণের পণ্যের এক-তৃতীয়াংশের উপরে ৫% থেকে ১০% হরে শুল্ক প্রযোজ্য হয়। এবং বাকি পণ্যগুলোর উপরে শুল্ক আরোপের কথা রয়েছে ডিসেম্বর মাসে। তাছাড়া, $112 বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের চীনা পণ্যের উপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা ১৫% হরে আরোপিত শুল্ক প্রযোজ্য হয়। ফলে, চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের দুই-তৃতীয়াংশ পণ্যই শুল্কের আওতায় চলে আসে। 

সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর এবং চীনা যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে নিম্নপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আলোচনা শুরু হওয়ার ঘোষণা আসে। যা পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী পর্যায় আলোচনা শুরু হওয়ারও আশাবাদ ব্যক্ত করে। এদিকে, মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কানাডা, চীন, এবং মেক্সিকোর বিষয়ে এন্টি-ডাম্পিং সম্পর্কিত তদন্ত শুরু করে। ফলে, উঠে আসে চীন দ্বারা যুক্তরাষ্ট্রে ১৪১.৩৮% পর্যন্ত ইস্পাতজাত পণ্য ডাম্পিং করার বিষয়টি। 

সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯

অর্থনীতির স্থবিরতাকে সামনে রেখে তাকে চাঙ্গা করার উদ্দেশ্য নিয়ে চীনের কেন্দ্রীয়ব্যাঙ্ক পিপলস ব্যাঙ্ক অফ চায়না তার নিকট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দ্বারা রক্ষিত রিসার্ভ এর পরিমানের মধ্যে ০.৫% হরে কমতি আনে। 

সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

আগামী এক বছরের জন্যে ১৬ ধরণের মার্কিন পণ্যের উপরে শুল্ক আরোপ স্থগিত রাখার চীনের ঘোষণার পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, চীনা পণ্যের উপরে আরোপিত শুল্ক অক্টোবর মাসের ১ তারিখ থেকে প্রযোজ্য না হয়ে ১৫ তারিখ থেকে প্রযোজ্য হবে। তার মত পরিবর্তনের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী লিউ হে এর তাকে অনুরোধ করার কথা।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দুইটি জনপ্রিয় প্রিন্ট মিডিয়া ব্লুমবার্গ নিউস, এবং পলিটিকো এর পক্ষ থেকে সংবাদ প্রচার করা হয় যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টারা মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া মার্কিন অর্থনীতির ব্যপারে অনেক চিন্তিত। বিশেষ করে আগামী ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে চীনের সাথে অন্তর্বর্তী সময়কালের জন্যে কোনো অস্থায়ী বাণিজ্য চুক্তি  করা যায় কিনা সেই বিষয়েও নিজেদের মধ্যে এক ধরণের আলোচনা চলমান।

US CHINA TRADE WAR | মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ: জানা অজানা কথা | পর্ব

Facebook Comments

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.