US CHINA TRADE WAR | মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ: জানা অজানা কথা | পর্ব ৫

1
65 views
US CHINA TRADE WAR মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ জানা অজানা কথা পর্ব ৫
US CHINA TRADE WAR মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ জানা অজানা কথা পর্ব ৫

MarketDeal24.Com – US CHINA TRADE WAR প্রিয় পাঠকগণ, এই পর্বের আলোচনায় আমরা বিশ্লেষণ করবো বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দুই দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে গত এক বছর ধরে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের দরুন তাদের নিজ নিজ দেশের জনগণের প্রতিক্রিয়া কি ছিল। আর এই প্রতিক্রিয়াকে ভালোভাবে পর্যালোচনা করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে এই যুদ্ধের ভবিষ্যতের দিক নিৰ্দেশনা সম্পর্কিত ইঙ্গিত।

বাণিজ্য যুদ্ধের প্রতি চীনের অভ্যন্তরীন প্রতিক্রিয়া

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শুরু হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধের বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় চীনের ক্ষমতাসীনদল কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র পিপলস ডেইলি পত্রিকা এক সংবাদ প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানায় যে চীনের অর্থনীতি এই বাণিজ্য যুদ্ধের সাথে সংশ্লিষ্ট ধকল সামলে নিতে পারবে। এবং এই বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মার্কিন ভোক্তারা।

চলমান ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে মাসে লু জিয়াং, যিনি চাইনিস একাডেমী অফ সোশ্যাল সাইন্সেস এর একজন বিশ্লেষক, তিনি বলেন, “এই বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন বিষয়ক আলোচনার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমি সন্দিহান। ট্রাম্প একজন এমন ব্যক্তি যিনি সবসময়ে আকস্মিকতার সৃষ্টি করেন এবং তার আচার ইঙ্গিতের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে এই মুহূর্তে তিনি একটি চুক্তি করতে প্রস্তুত নন।”

উল্লেখ্য, গণচীন এক সামজতান্ত্রিক রাষ্ট্র থাকায় দেশটির জনগণের প্রতিক্রিয়া পত্র পত্রিকাগুলোতে স্থান পায় নি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীন প্রতিক্রিয়া

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সর্বপ্রথম ডেমোক্রেটিক দলের একজন স্বনামধন্য সিনেটর চাক শুমার সর্বপ্রথম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বারা চিনে পণ্যের উপরে শুল্কের আরোপের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তার কথায় তিনি বলেন, “ডেমোক্রাট, রিপাবলিকান, এবং দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতি অঞ্চলের মানুষের উচিত হবে চীনা পণ্যের উপরে আরোপিত এই অতিরিক্ত শুল্ককে সমর্থন করা।”

পরবর্তীতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই উদ্যোগ দেশটির আইনসভা কংগ্রেসে উভয়দলীয় সমর্থন পায়। যেমন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেসেন্টেটিভ এর স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি, ডেমোক্রেটিক দলের ব্র্যাড শারম্যান, কেভিন ব্রাডি, এবং ট্যাড্ য়োহ’র মতো আইনপ্রণেতারা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান।

তবে, উভয়দল থেকে কোনো কোনো সিনেটর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেছেন। যেমন এলিজাবেথ ওয়ারেন, চার্লস ই. গ্রাসলেই, টিম কেইন, মার্ক ওয়ার্নার, এবং রন ওয়াইডেন প্রমুখ।তবে আবার কোনো কোনো আইনপ্রণেতা রয়েছেন যারা অনেকটা কৌঁসুলি হয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। যেমন মিছ মিক্কোনেল। তিনি বলেন, “কেউই একটি বাণিজ্য যুদ্ধে বিজয়ী হতে পারে না; তবে এই বাণিজ্য যুদ্ধে প্রয়োগকৃত কৌশল এবং রণনীতির মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানের চেয়ে ভালো অবস্থানে নিজেকে নিয়ে যেতে পারে।”

মার্কিন ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া

২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের দ্বারা পরস্পর পরস্পরের পণ্যের উপরে অতিরিক্তও শুল্কের আরোপের মাধ্যমে যখন বাণিজ্য যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যে বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হলো তখন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক সম্প্রদায় এবং অর্থনীতির কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতের প্রতিনিধিগণ এর প্রতিবাদ করা শুরু করলেন। ঐ সকল খাতের মধ্যে দেশটির খুচরা বাণিজ্য খাত অন্যতম। তাছাড়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেসকল শহরগুলো শিল্পউৎপাদনের উপরে সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল সেই সকল শহরগুলোর মেয়রগণও তুলেন প্রতিবাদের কণ্ঠ।

২০১৮ সালের দেশটির ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের একাংশের পক্ষ থেকে একটি তদবিরী অভিযান চালু করা হয় এবং স্লোগান হিসেবে বেঁছে নেয়, “অতিরিক্ত শুল্ক দেশটির ক্ষতি করছে।” কারণের চীনের দ্বারা রপ্তানিকৃত পণ্যের মধ্যে ইস্পাত, এলুমিনিয়াম, এবং কিছু কিছু কেমিক্যালের উপরে মার্কিন প্রশাসনের দ্বারা শুল্কের পরিমান বৃদ্ধি করে দেশটির কৃষিখাতে সারের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়।

এদিকে, লজিসিম নামক একটি সংস্থার দ্বারা পরিচালিত একটি জরিপে উঠে আসে যে, শুল্কের আরোপের পরেও মালামাল পরিবহনের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। শুধু তাই নয়, চীনের থেকে আমদানির পরিমানও বৃদ্ধি পেয়েছে। যা বৃদ্ধি পাওয়ার হার মার্কিন মুদ্রা ৩৮,২৩০ মিলিয়ন ডলার থেকে ৫০,০৩২ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে।

এদিকে, চলমান ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য এরকম ৬০০টি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি প্রদান করা হয়। এবং ঐ চিঠিতে বাণিজ্য যুদ্ধের দরুন দেশটির অর্থনীতির উপরে হয়ে যাওয়া ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

২০১৯ সালের ৩০ মে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জুতা বাজারজাতকারীদের এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি জারি করা হয়। এবং ঐ চিঠিতে কালক্ষেপন না করে বাণিজ্য যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।

একই বছরের আগস্ট মাসে দেশটির কৃষকদের সংগঠন ন্যাশনাল ফার্মার্স এসোসিয়েশন, যা ২০০,০০০ জন কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব করে, তার পক্ষ থেকে রজার জনসন জানান যে, বাণিজ্য যুদ্ধ মার্কিন কৃষকদেরকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। উল্লেখযোগ্য সমস্যা হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে সয়াবিনের রপ্তানিতে ভাটা পড়ার কথা জানান। তিনি আরো বলেন, কৃষিখাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলোকে সমাধান না করে বিদ্যমান প্রশাসন নিত্যনতুন সমস্যা সৃষ্টি করেই চলেছে।

সেপ্টেম্বরে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রিটেল ফেডারেশন এর ম্যাথিউ শায় বলেন, “এই বাণিজ্য যুদ্ধ বেশ দিন ধরে চলছে এবং দেশটির অর্থনীতি এবং ভোক্তাদের উপরে ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করেই চলেছে।”

বিশ্লেষণ: উপরে উল্লিখিত বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া এবং গত পর্বে (পর্ব ৪) দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর দিনওয়ারী তালিকে দেখে নিশ্চয়ই এটি বলা অত্যন্ত কঠিন কবে এবং কখন এবং কোন অবস্থাতে দুই দেশের মধ্যে চলমান এই যুদ্ধের সমাপ্তি হবে।

অতীতে একাধিকবার দুই দেশের আলোচকরা মিলিত হয়েছেন আলোচনায়। তখন উভয় দেশের, বিশেষ করে মার্কিন প্রশাসনের নীতি ছিল আলোচনার পাশাপাশি শুল্কের আরোপ প্রত্বারোপের মাধ্যমে েকে ওপরের অর্থনীতির উপরে ঘাত প্রতিঘাত সৃষ্টি করতে থাকা। চলমান সপ্তাহের শেষের দিকে আর একদফা শুরু হওয়ার কথা দুই দেশের মধ্যে আলোচনা। ইতিমধ্যে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে চীনের আটটি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা, হংকং এ সরকার বিরোধী বিক্ষোভের বিষয়ে উদ্বিগ্নতার প্রকাশ, এবং চীনের সিনজিয়ান প্রদেশে বসবাসরত মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার সম্পর্কে নতুন করে জন্ম নেয়া মার্কিন সচেতনতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই যুদ্ধের কোনো সমাধান খুব কাছে নয়।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মার্কিন আইনসভায় একটি অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সুযোগ নিচ্ছে গণচীন। দেশটি অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনায় আলোচনাযোগ্য বিষয়ের তালিকাকে করেছে ছোট। বাদ পড়েছে চীনের শিল্পউৎপাদন খাতে দেশটির বিদ্যমান নীতিমালাকে পরিবর্তনের বিষয়টি, যা মার্কিন প্রশাসনের এক বিশেষ চাওয়া। এদিকে, ঘনিয়ে আসছে আগামী বছর ২০২০ এর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। দেশটির অর্থনীতিকে স্বল্পমেয়াদে চাঙ্গা করার জন্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেয়া যায় না।

তাই এতো দীর্ঘ আলোচনা শেষে বলতে হয়, “বাণিজ্য যুদ্ধে বিজয়ী হওয়া যায় না। কৌশল এবং রণনীতির সৃজনশীল প্রয়োগের মাধ্যমে এক অবস্থান থেকে অন্য আর একটি অবস্থানে যাওয়া যায় মাত্র।”

OPEN FOREX DEMO ACCOUNT

Facebook Comments

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.