US CHINA TRADE WAR | মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ: জানা অজানা কথা | পর্ব ১

1
1,413 views
US CHINA TRADE WAR
US CHINA TRADE WAR

MarketDeal24.Com – US CHINA TRADE WAR কথায় আছে, “যখন দুইটি হাতি নিজেদের মধ্যে মারামারি করে তখন তাদের পায়ের নিচে ঘাস চাঁপা পড়ে; অন্যদিকে, আবার তারা যখন নিজেদের মধ্যে মেলামেশা করে তখনও তাদের পায়ের নিচে ঘাসই চাঁপা পড়ে।”

বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতিগুলোর দুইটি দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন হলো সেই প্রবাদবাক্যের দুইটি হাতির মতো। যাদের পারস্পারিক দ্বন্দে যেন সারা বিশ্ব আজ জিম্নি।  তারা বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতি হওয়ার পাশাপাশি অন্যতম ক্ষমতাধর রাষ্ট্রও বটে। সাথে তাদের রয়েছে একটি বৃহৎ জনসংখ্যা, যাদের চাহিদা তাদের অভ্যন্তরীন অর্থনীতিটিকে টিকিয়ে রাখে। তাই তারা হয়তো পরস্পর পরস্পরের সাথে দ্বন্দে জড়িয়ে পড়তে পারে।

US CHINA TRADE WAR

US CHINA TRADE WAR একটি চলমান দ্বন্দ্ব। যা গত প্রায় এক বছর ধরে চলমান। যার শুরু হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বারা তার দেশে চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপরে পূর্বের চেয়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার মাধ্যমে।  এই যুদ্ধের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মার্কিন প্রশাসন কর্তৃক চীনা পণ্যের উপরে অতিরিক্ত শুল্ক সহ অন্যান্য অশুল্কজনক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা যাতে করে দেশটি তার দ্বারা কৃত কিছু কিছু অনৈতিক কাজ থেকে সরে আসে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাষায়, চীন কিছু অনৈতিক বাণিজ্যিক আচরণ করে যাচ্ছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্যায়ভাবে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি করতে থাকা, মেধাস্বত্ব সম্পদগুলোর চুরি, এবং বাধ্যতামূলকভাবে মার্কিন প্রযুক্তিকে চীনে স্থানান্তর করা।

তবে, আমরা মনে করি চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করা এতো সহজ নয় যে একটি সংবাদ প্রবন্ধ পড়ে বুঝা যাবে। এর জন্যে দরকার দুই দেশের ইতিহাস, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক রেষারেষি, এবং পরস্পর পরস্পরের প্রতি উভয়ের মনোভাবের কথাকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণের।

চীনের ইতিহাস


প্রথমত আমরা অনেকেই জানিনা যে বিশ্বে চীন নামক দুইটি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রয়েছে। একটি হলো গণচীন উন্নতি হলো প্রজাতান্ত্রিক চীন (তাইওয়ান)। চীন বলতে আমরা যে আধুনিক সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে বুঝি তা অস্তিত্বে এসেছে ১৯৪৯ সালে। যা একটি গৃহযুদ্ধের ফল।

জিনহাই বিপ্লবের ফল হিসেবে যখন চীনে কিঙ রাজবংশের ক্ষমতা শেষ হয় তখন চীন কিছু সময়ের জন্যে গৃহযুদ্ধের মধ্যে প্রবেশ করে। পরে ইউয়ান শিকাই দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান হলে তা থেমে যায়।  ইউয়ান শিকাই হন চীন প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট এবং দেশটির সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় পীকিং শহর থেকে। যেই শাসনামল বেইয়াং সরকার নামে পরিচিত। ১৯১৬ সালে ইউয়ান শিকাই এর মৃত্যুর পরে বেইয়াং এর সশস্ত্রবাহিনীর দুই গ্রূপের মধ্যে শুরু হয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। ইতিমধ্যে সান য়াত সেন এর নেতৃত্বে কুওমিতং দেশটির গুণজহু শহরে একটি বিকল্প সরকার প্রতিষ্ঠা করে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সাহায্য চাওয়ার সান য়াত সেন এর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, ফলে ১৯২১ সালে তিনি মুখ করেন সোভিয়েত ইউনিয়ন এর দিকে। রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলকভাবে সোভিয়েত সরকার চীনের মধ্যে বিদ্যমান বেইয়াং আর্মির উভয় পক্ষকেই অর্থায়ন করতে থাকে। একদিকে কুইমিতং এবং অন্যদিকে নবগঠিত কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না। যারা পরবর্তীতে গণচীন স্থাপন করে।

১৯২৩ সালে সান য়াত সেন এবং তৎকালীন সোভিয়েত রাষ্ট্রদূত এডলফ জফি এর যৌথ বিবৃতি চীনের একীভূতকরণের জন্যে সোভিয়েত সাহায্যের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে।

তাই ঐ বিবৃতিকে ব্যাখ্যা করা হয়, কমিন্টার্ন, কৌমিতং, এবং কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়না’র মধ্যে পরস্পর পরস্পরকে সহযোগিতা করার একটি দস্তাবেজ হিসেবে। ১৯৩৯ সালে কমিন্টার্ন এর একজন প্রতিনিধি মিখাইল ব্রডিন চীনে আসেন তার দেশের ক্ষমতাসীনদল কমিউনিস্ট পার্টি অব সোভিয়েত ইউনিয়ন এর আদলে কৌমিতংকে গড়ে তুলতে। এই মুহূর্তে কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়না কুওমিতং এর সাথে ঐক্যজোট গিয়ে একটি যুক্তফ্রন্টের সৃষ্টি করে।

ইতিমধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন চীনের ঐ রাজনৈতিক যুক্তফ্রন্টকে নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করতে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো সান য়াত সেন ১৯২৫ সালে মারা যান এবং তার পরেই কুওমিতং দ্বিধাবিভক্ত হতে থাকে। দলের মধ্যে দুইটি পক্ষের আবির্ভাব হয়। একটি ডানপন্থী এবং অন্যটি বামপন্থী। কৌমিতং এর প্রবীণ সদস্যরা এই বলে দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকেন যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভিতর থেকে কৌমিতংকে ভেঙ্গে দিতে চাচ্ছে এবং তার জন্যে তারা ব্যবহার করছে কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়নাকে।  

তখন থেকে উভয়পক্ষের মধ্যে চলে আসছে দ্বন্দ্ব। কম্যুনিস্টদের দ্বারা পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ (১৯২৭ – ১৯৩৭), দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধ (১৯৩৭ – ১৯৪৫), এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালে বিভিন্ন ধরণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যুদ্ধগুলো।

যাই হোক শেষ পর্যন্ত চীনের মূল ভূখণ্ডে কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হলো এবং কুওমিতং জাতীয়তাবাদীরা সীমাবদ্ধ হয়ে রইলো তাইওয়ানের মধ্যেই। সেইখান থেকে তারা সমগ্র চীনের ভূখণ্ডের উপরে নিজেদের দাবি জানিয়ে থাকে। অন্যদিকে, গণচীনও তাইওয়ানকে মনে করে নিজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনীতি নতুনরূপ ধারণ করে। ১৯৪৯ সালে গণচীন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে ১৯৭১ সালে। দীর্ঘ এই সময়কালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গণচীনকে কোনঠাসা করার জন্য নানা কূটকৌশল অবলম্বন করতে থাকে।

স্বীকৃতি পরবর্তী সম্পর্ক

১৯৮৪ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গণচীনের তৃতীয় সর্ববৃহৎ বাণিজ্য সহযোগী রাষ্ট্র হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, গণচীন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সহযোগী হিসেবে চতুর্দশ স্থান অধিকার করে। তবে, প্রতি বছর মার্কিন সরকারের দ্বারা চীনকে প্রদত্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ জাতির মর্যাদা দেশটির আইনসভায় বরাবরের মতো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে থাকে। এদিকে, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল, এই পাঁচ বছরের মধ্যে গণচীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য আমদানি করার পরিমান বৃদ্ধি পেতে পেতে দ্বিগুন হয়ে যায়। যা ২০০১ সালে ছিল $120 বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সটাইল খাত দেশটির আইনসভা কংগ্রেসের নিকট চীন টেক্সটাইল পণ্যের উপরে আমদানি শুল্ক আরোপ করার জন্যে জোরালো দাবি জানায়, ফলে চিনে টেক্সটাইল পণ্যের উপরে মার্কিন প্রশাসন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার এই খাতের উপরে কৃত চুক্তির আদলে শুল্ক আরোপ করে। ১৯৮৯ সালে দেশটির রাজধানী বেইজিং এর তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ছাত্ররা বিক্ষোভে ফেটে পড়লে চীন সরকার এবং সেই দেশের সেনাবাহিনী তাদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফলে মার্কিন প্রশাসন চীন সরকারের উপরে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করতে বাধ্য হয়।

১৯৯১ সালে চীনের দ্বারা রপ্তানিকৃত পণ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানিকৃত পণ্যের মাত্র ১%। ১৯৯৩ সালে বিল ক্লিনটনের ক্ষমতা শুরু হয় একটি নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষরের মাধ্যমে। যার ক্রমিক সংখ্যা হলো ১২৮৫৯০। এই আদেশের মাধ্যমে তিনি চীনকে প্রদত্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতির খেতাব নবায়ন করেন কিন্তু এই নবায়নের জন্যে কিছু শর্ত জুড়ে দেন, যেমন তিব্বতের আদি সভ্যতা এবং সংস্কৃতির সংরক্ষণ, এবং রাজবন্দীদের খোঁজ খবর নেয়ার জন্যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পরিদর্শকদেরকে চীনে ঢুকতে দেয়া। যদিও প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন এক বছর পরে নিজের অবস্থান পাল্টান। এই দশকের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে সৃষ্ট রেষারেষির মধ্যে থাকছে কক্স কমিটির দ্বারা অমুনাফাজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সমাজতন্ত্রের প্রসারের অভিযোগ, মার্কিন-তাইওয়ান বিজ্ঞানী ওয়েন হো লি এর বিরুদ্ধে হিংসামূলক আচরণ, এবং ১৯৯৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা বেলগ্রেড স্থিত গণচীনের দূতাবাসের উপরে বোমাবাজি। কিন্তু, ২০০১ সালে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে উষ্ণতা ফিরে আসে।

গণচীনের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যপদ লাভ

২০০০ সালে বিল ক্লিনটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকাকালে দেশটির আইনসভা কংগ্রেস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র – চীন সম্পর্ক আইন ২০০০ পাশ করে। যার অধীনে মার্কিন প্রশাসন চীনকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যপদ লাভের অনুমতি দেয়। কিন্তু কিছু বিষয় অমীমাংসিতই থেকে যায় যেমন গণচীন কর্তৃক তার বাজারকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের জন্যে উন্মুক্ত করা, মেধাস্বত্ব পণ্য বা সেবার উপরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, তাছাড়া চীন ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংগীত এবং চলচিত্র শিল্পের জন্যে একটি ক্ষতির কারণ

কারণ দেশটিতে অবাধে উৎপাদিত হচ্ছিলো মার্কিন গান এবং ছবিগুলোর বেআইনি কপি, অন্যদিকে, মেধাস্বত্ব সম্পদের মেধাস্বত্ব রক্ষার জন্যে দেশটির আইনের কোনো প্রয়োগ না থাকায় সারা দেশ যেন এই ধরণের পণ্যদ্রব্য অবৈধভাবে উৎপাদনের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার একজন নবাগত সদস্য হিসেবে চীন খুব দ্রুতই এই সংস্থাটির নিয়মনীতিকে বাস্তবায়িত করতে থাকে। অন্যান্য দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপরে কমিয়ে আনা হয় আমদানি শুল্কের হার। কিন্তু, এর পরেও চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যদ্রব্যের অবৈধ সংস্করণ প্রস্তুত করতে থাকে, এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করে প্রযুক্তি বিষয়ক জ্ঞান হস্তান্তর করতে, যা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মের পরিপন্থী।

২০০৮ সালে গণচীনের বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা একটি রায় দেয় এবং সেই রায়ে চীনকে এই বলে দোষী সাব্যস্ত করা হয় যে, চীন সরকারের দ্বারা মোটরযানের যন্ত্রাংশ তৈরিকারী বৈদেশিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় সরবরাহকারীদের দ্বারা যন্ত্রাংশ ক্রয় করতে বাধ্য করা এবং ক্রয় না করার অবস্থায় তাদের উপরে ২৫ হারে করে আরোপ সংস্থাটির নিয়ম ভঙ্গ করেছে। ঐ অবস্থায় চীনের জন্যে উচিত ছিল ১০ হারে কর আরোপ করা। ফলে, ঐ সকল বৈদেশিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারা উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খেতে থাকে।

উল্লেখ্য, এই রায়ের জন্যে প্রারম্ভিকভাবে যে অভিযোগটি দায়ের করা হয়, তা হয়েছিল ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এবং কানাডার যৌথ প্রযোজনায়। ঐ সময়কালে আন্তর্জাতিক মহলে চীনের বিরুদ্ধে এই ধারণার সৃষ্টি হয় যে, দেশটি ভর্তুকি, কর অব্যাহতি, এবং মুদ্রার মানকে কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রেখে বৈদেশিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপরে অন্যায়ভাবে অপ্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

২০০৫ সাল আসা পর্যন্ত গণচীন তার দ্বারা আরোপিত আমদানি শুল্ককে হ্রাস করতে করতে ১০% হারে নিয়ে আসে, যা ১৯৯০ সালে ছিল ৪০%

২০০৫ সালে চীনের দ্বারা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির পরিমান ৩১ ভাগ হারে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির পরিমান বৃদ্ধি পায় মাত্র ১৬ ভাগ হারে। অন্যদিকে, ২০০১ সালে যেখানে চীনের সাথে মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি ছিল $90.2 বিলিয়ন মার্কিন ডলার, তা ২০০৫ আসতে আসতে প্রায় দ্বিগুন হয়ে যায়। সামগ্রিকভাবে বলতে হয়, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চার বছরের মধ্যে গণচীন সাধারণভাবে এই সংস্থাটির বেশিরভাগ নিয়মনীতির সাথে আপোষ করে নেয়। কিন্তু, দেশটি মেধাস্বত্ব অধিকারের সংরক্ষণের বিষয়ে ছিল ধীরগতি, দেশটির শিল্প-উৎপাদন খাতের নিয়মনীতির মধ্যে ছিলো না তেমন স্বচ্ছতা, ফলে মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যে চীনা বাজারে প্রবেশ করা হয়ে উঠে দুরূহ।

২০১০ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা’র প্রশাসন একটি নতুন ধরণের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় যখন তারা চীনকে জ্বালানির বিকল্প উৎস যেমন সোলার প্যানেল, উইন্ড টারবাইন, ইত্যাদির উৎপাদন এবং গবেষণাকে ভর্তুকি দ্বারা চালিয়ে নেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করে। যা অবশ্যই, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মের লঙ্ঘন। এই সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্টের তৎকালীন বাণিজ্য প্রতিনিধি রণ কির্ক বলেন, “সবুজ প্রযুক্তি আগামী দিনগুলোতে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং আমরা চাই মার্কিনিরা যাতে এই খাতে প্রতিযোগিতা করার জন্যে একটি সমতল মাঠ পায়।”

২০১১ সালে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার চীনা প্রতিপক্ষ হু জীন তাও এর সাথে সাক্ষাৎ করেন তখন কূটনৈতিক মহলে চর্চা ছিল যে, ১০ বছর পূর্বে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যতা লাভ করার সময়ে চীনের মধ্যে মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রতি যে প্রতিশ্রুতি ছিল তা এখন অনুপস্থিত। তারা বলেন যে, চীন এখনো নিজের দেশের অর্থনীতির মধ্যে বৈদেশিক প্রবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে, মেধাস্বত্ব অধিকার রক্ষার জন্যে তেমন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না, সরকারিভাবে ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার সুযোগ নষ্ট করছে। তাছাড়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনপ্রণেতাদের অভিযোগ ছিল যে চীন কৃত্রিমভাবে নিজের মুদ্রাকে মূল্যমানে কমিয়ে রেখেছে ফলে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার পরিবেশে মার্কিন এবং অন্যান্য বৈদেশিক প্রতিষ্ঠানগুলো অসুবিধাজনক অবস্থানে পড়ে যাচ্ছে।

২০১৪ সালে মার্কিন-চীন বাণিজ্য কাউন্সিল ঘোষণা করে যে, চীন অন্তত ১০০টি শিল্পখাতে বৈদেশিক বিনিয়োগকে সীমাবদ্ধ করার জন্যে কাজ করে রেখেছে। যেমন কৃষিখাত, পেট্রোকেমিক্যাল, এবং চিকিৎসা সেবা খাত অন্যতম।

প্রিয় পাঠক এটি ছিল মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ: জানা অজানা কিছু কথা প্রবন্ধের প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্বের আলোচনায় আমরা তুলে ধরবো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে চীনের সাথে মার্কিন প্রশাসনের অমীমাংসিত বিষয়গুলি, যা সৃষ্টি করে প্রায় এক বছর ধরে চলমান এই বাণিজ্য যুদ্ধের। তাছাড়া, আরো থাকছে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর দিনওয়ারী বিবরণ।

US CHINA TRADE WAR | মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ: জানা অজানা কথা | পর্ব ২

OPEN FOREX DEMO ACCOUNT

Facebook Comments

1 COMMENT

  1. […] প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-মক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির দ্বিতীয় সংস্করণের উপরে তার স্বাক্ষর করেন। ঐ চুক্তিতে রয়েছে একটি ধারা, ৩২.১০, যা চীনের মতো দেশকে ঐ চুক্তি থেকে সুবিধা নেয়ার অবস্থা থেকে বঞ্চিত করেছে। […]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.